প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৫ মে ২০২৬
ধৈর্যের সীমায় ট্রাম্প, ইরানকে দ্রুত সমঝোতার আহ্বান
আকাশ মোল্লা, স্টাফ রিপোর্টার ||
ইরানের সঙ্গে চলমান দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন নিয়ে এবার কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি এবং তেহরানের পারমাণবিক ও আঞ্চলিক কর্মকাণ্ড নিয়ে নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি জানিয়েছেন যে, ইরানের বিষয়ে তার ধৈর্যের সীমা প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ট্রাম্পের মতে, অযথা সময় নষ্ট না করে তেহরানের উচিত অতি দ্রুত একটি কার্যকর সমঝোতা বা চুক্তিতে পৌঁছানো। আমেরিকার একটি প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি সরাসরি বলেন যে, তিনি আর খুব বেশি সময় অপেক্ষা করতে রাজি নন এবং এখন আলোচনার টেবিলে বসে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসা ইরানের জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থান এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে এবং আন্তর্জাতিক মহলে কূটনৈতিক চাপের পারদ ক্রমেই ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে। তবে ইরানের সঙ্গে এই উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট বর্তমানে চীন সফরে রয়েছেন এবং সেখানে বিশ্ব রাজনীতির নতুন মেরুকরণ লক্ষ্য করা গেছে। চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন ট্রাম্প। সেই বৈঠকের আলোচনায় ইরান ইস্যুটি বড় জায়গা দখল করে ছিল।সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও প্রকাশ করেছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট নিরসনে বিশেষ করে আমেরিকা, ইসরায়েল এবং ইরানের মধ্যকার ত্রিমুখী সংঘাতের অবসান ঘটাতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন। তেহরানের সঙ্গে বেইজিংয়ের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে ওয়াশিংটনের মনে যে দীর্ঘদিনের উদ্বেগ ছিল, সেটিকেও শি জিনপিং অনেকটা হালকা করার চেষ্টা করেছেন। ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, চীনা প্রেসিডেন্ট তাকে খুব জোরালোভাবে আশ্বস্ত করেছেন যে, চীন ইরানকে কোনো ধরনের সামরিক সরঞ্জাম বা যুদ্ধাস্ত্র সরবরাহ করবে না। এই নিশ্চয়তা দুই দেশের মধ্যকার পারস্পরিক বিশ্বাস বৃদ্ধিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।এর পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি নিয়েও কথা বলেছেন দুই নেতা। আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে এই প্রণালিটি উন্মুক্ত রাখা অত্যন্ত জরুরি। শি জিনপিং এই বিষয়টি নিশ্চিত করার পক্ষে নিজের অবস্থানের কথা জানিয়েছেন এবং বলেছেন যে, এই সংকট সমাধানে বা আঞ্চলিক শান্তি রক্ষায় যদি চীনের কোনো ধরনের ভূমিকা পালনের সুযোগ থাকে, তবে তিনি অবশ্যই তাতে এগিয়ে আসতে চান। সামগ্রিকভাবে, ট্রাম্পের কঠোর বার্তার বিপরীতে চীনের এই মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন মোড় নিয়ে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।তথ্যের উৎস: মিডল ইস্ট আই ।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল