প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৫ মে ২০২৬
মেট্রোরেলে বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের জন্য ২৫% ভাড়া ছাড়
স্বাধীন আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার ||
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে মেট্রোরেলের যাত্রীদের জন্য বেশ কিছু ইতিবাচক ও কল্যাণমুখী পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। বিশেষ করে সমাজের প্রবীণ নাগরিক এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের যাতায়াত আরও সহজ ও সাশ্রয়ী করতে ভাড়ায় বিশেষ ছাড় দেওয়ার একটি বড় পরিকল্পনা করা হচ্ছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ব্যক্তি এবং শারীরিক প্রতিবন্ধী যাত্রীরা মেট্রোরেলে ভ্রমণের ক্ষেত্রে মোট ভাড়ার ওপর ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় পেতে পারেন।বর্তমানে এই দুই শ্রেণির যাত্রীরা মেট্রোরেলের একক যাত্রার টিকিটে ১৫ শতাংশ ছাড়ের সুবিধা পাচ্ছেন। তবে সরকারের নতুন এই উদ্যোগের ফলে ছাড়ের পরিমাণ আরও ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। অন্যদিকে দেশের যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য মেট্রোরেলে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ভ্রমণের যে সুবিধাটি চালু রয়েছে, সেটি আগের মতোই বহাল থাকবে।সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়নের পেছনে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রতিশ্রুতি রয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নির্বাচনী ইশতেহার এবং বর্তমান সরকারের ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মপরিকল্পনায় প্রবীণ নাগরিক ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের জন্য গণপরিবহনের ভাড়া কমানোর একটি সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার ছিল। সেই প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবেই সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় ভাড়ায় ২৫ শতাংশ ছাড়ের এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।তবে এই কল্যাণমূলক সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়নের ফলে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) বার্ষিক আয়ে কিছুটা প্রভাব পড়বে। হিসাব করে দেখা গেছে, এই ছাড় কার্যকর হলে বছরে সরকারের প্রায় ১২ কোটি টাকা রাজস্ব কম হতে পারে, যা ডিএমটিসিএলের টিকিট থেকে অর্জিত মোট আয়ের প্রায় ৩ শতাংশের সমান। সরকারের যেকোনো সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে যেখানে আর্থিক সংশ্লেষ বা রাজস্বের কম-বেশির বিষয় জড়িত থাকে, সেখানে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমতি নেওয়ার একটি আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই নিয়ম মেনে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে ইতিমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতি চেয়ে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে।মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র থেকে জানা গেছে, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা কীভাবে এই সুবিধাটি ভোগ করবেন, তার একটি সহজ নিয়মও নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত তাদের সুবর্ণ পরিচয়পত্র প্রদর্শন করে এবং ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী নাগরিকেরা তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র দেখিয়ে স্টেশন থেকে এই ছাড়ের সুবিধা নিতে পারবেন।প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের পাশাপাশি দেশের শিক্ষার্থীদের জন্যও মেট্রোরেলের ভাড়া কমানোর একটি দীর্ঘদিনের দাবি রয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরবর্তী ধাপে শিক্ষার্থীদের জন্যও ভাড়ায় ছাড় দেওয়ার একটি পরিকল্পনা তাদের রয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই সুবিধাটি এখনই ঢালাওভাবে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ডিএমটিসিএলের সার্বিক রাজস্ব আয়, মেট্রোরেল পরিচালনার পেছনে দৈনিক খরচ এবং কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতা বিস্তারিতভাবে মূল্যায়ন করার পর শিক্ষার্থীদের ভাড়া ছাড়ের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।মেট্রোরেলের ভাড়া ছাড়ের পাশাপাশি আগামী বাজেটে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সার্বিক কল্যাণে আরও কিছু বিশেষ অর্থনৈতিক সুবিধা রাখার কথা ভাবছে সরকার। বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সিএসআর তহবিলের একটি নির্দিষ্ট অংশ যাতে বাধ্যতামূলকভাবে প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে ব্যয় করা হয়, সে বিষয়ে অর্থমন্ত্রী তার আগামী বাজেট বক্তৃতায় একটি বিশেষ নির্দেশনা দিতে পারেন। তবে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে এই নির্দেশনা মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন নিয়ে কিছুটা সংশয় তৈরি হয়েছে। তাদের মতে, বাংলাদেশে সিএসআর ব্যয়ের বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো জাতীয় নীতিমালা তৈরি হয়নি। ফলে কোনো কার্যকর নীতিমালা ছাড়া শুধু বাজেট বক্তৃতার নির্দেশনার ওপর ভিত্তি করে এই সুবিধা পুরোপুরি আদায় করা কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল