প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৫ মে ২০২৬
হামের টিকার বদলে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন, তদন্ত প্রতিবেদন চাইলেন হাইকোর্ট
স্বাধীন আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার ||
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক নিষ্পাপ শিশুকে হামের টিকার বদলে জলাতঙ্কের প্রতিষেধক দেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। একই সাথে এই চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন ঘটনার নেপথ্যের কারণ উদঘাটনে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে এই কমিটিকে বিস্তারিত প্রতিবেদন আদালতে জমা দিতে বলা হয়েছে।বিচারপতি আহমেদ সোহেলের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এই আদেশ জারি করেন। এর আগে বুধবার দুপুরে ওই সরকারি হাসপাতালে এই নজিরবিহীন ঘটনাটি ঘটে। আদালত এই আদেশে ভুক্তভোগী ৩৪ মাস বয়সী শিশুটির জরুরি ও যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, চিকিৎসার পাশাপাশি ভুক্তভোগী পরিবারটিকে কেন ৫০ লাখ টাকা আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে একটি রুলও জারি করেছেন আদালত।আদালতে দায়ের করা রিট আবেদনের বিবরণ থেকে জানা যায়, শিশুটিকে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির অংশ হিসেবে হামের টিকা দিতে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেখানে কর্তব্যরতদের চরম অবহেলায় তাকে ভুল করে দুই ডোজ জলাতঙ্কের প্রতিষেধক বা র্যাবিক্স নামক টিকা পুশ করা হয়। এর কিছু সময় পর থেকেই শিশুটির শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটতে শুরু করলে পুরো বিষয়টি সবার সামনে আসে।ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, হাসপাতালে শিশুদের টিকা দেওয়ার মূল দায়িত্বে ছিলেন স্বাস্থ্য পরিদর্শক নুরুল ইসলাম নুরু। কিন্তু উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান আজাদের বিশেষ নির্দেশে সেই দায়িত্ব দেওয়া হয় পিআরএলে বা অবসরে থাকা অন্য এক স্বাস্থ্য পরিদর্শক মোহাম্মদ আব্দুল কাইয়ুমকে। তিনিই মূলত শিশুটির শরীরে এই ভুল প্রতিষেধক প্রয়োগ করেন। এই ভুল এবং অনিয়মের প্রতিবাদ করায় হাসপাতালের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী উল্টো ভুক্তভোগী পরিবারের সাথে অত্যন্ত আপত্তিকর ও খারাপ আচরণ করেন বলে স্বজনরা অভিযোগ তুলেছেন।এই ঘটনার পর থেকে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ইদানীং হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক সচেতন অভিভাবকই সন্তানদের নিয়ে টিকাদান কেন্দ্রগুলোতে ভিড় করছেন। কিন্তু সরকারি হাসপাতালে এমন ভয়াবহ ভুলের খবর ছড়িয়ে পড়ায় এখন সাধারণ মানুষের মনে দেশের সার্বিক স্বাস্থ্যসেবার মান, নিরাপত্তা এবং তদারকি ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে বড় ধরনের প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। যদিও স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আশ্বস্ত করে জানিয়েছে, পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল