প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৫ মে ২০২৬
ট্রাম্পের পর চীন সফরে পুতিন, নতুন কূটনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত
স্বাধীন আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার ||
বিশ্ব রাজনীতিতে বর্তমানে এক অত্যন্ত চতুর এবং কৌশলগত কূটনীতির খেলা লক্ষ করা যাচ্ছে, যার মূল নিয়ন্ত্রণভার রয়েছে বেইজিং তথা চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের হাতে। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চিনের প্রভাব যেভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, তা বিশ্বনেতাদের নতুন করে হিসাব-নিকাশ করতে বাধ্য করছে। চিনের এই কূটনৈতিক তৎপরতার সবচেয়ে বড় প্রমাণ মিলল যখন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তিন দিনের বেইজিং সফর শেষ হতে না হতেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের চিন সফরের খবর সামনে এল।তুরস্কের সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, আগামী ২০ মে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মাত্র এক দিনের একটি সংক্ষিপ্ত সফরে চিনে যাচ্ছেন। আপাতদৃষ্টিতে এটিকে দুই দেশের মধ্যকার নিয়মিত দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগের অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও, এর রাজনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম। সংক্ষিপ্ত ও কাজের সফর হওয়ায় এই যাত্রায় হয়তো কোনো বিশাল আনুষ্ঠানিক কুচকাওয়াজ কিংবা চোখধাঁধানো অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে না। তবে দুই দেশের শীর্ষ মহলের পক্ষ থেকে এখনও এই সফরের সুনির্দিষ্ট তারিখ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি।কৌতূহলোদ্দীপক বিষয় হলো, দীর্ঘ নয় বছর পর আমেরিকার কোনো প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প চিনে তিন দিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সফর শেষ করেছেন আজই। এই সফরে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের বাণিজ্য যুদ্ধ, তাইওয়ান সংকট এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল ও বৈশ্বিক বিষয়গুলো নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। চিনের মাটি থেকে ট্রাম্পের বিদায় নেওয়ার পরপরই পুতিনের এই চটজলদি চিন সফরকে কেন্দ্র করে বিশ্ব কূটনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।পুতিনের এই সফরের মধ্য দিয়ে চিনের ঝুলিতে একটি অনন্য নজির যুক্ত হতে চলেছে। কোনো আন্তর্জাতিক সম্মেলন বা বহুপাক্ষিক আয়োজন ছাড়াই, ইতিহাসের পাতায় প্রথমবারের মতো একই মাসে বিশ্বের অন্যতম দুই শীর্ষ পরাশক্তির রাষ্ট্রপ্রধানকে আতিথেয়তা দেওয়ার এক বিরল কৃতিত্ব অর্জন করতে যাচ্ছে বেইজিং। এর আগে চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে শি জিনপিং ও পুতিনের মধ্যে শেষবারের মতো আলোচনা হয়েছিল।এই সফরের ব্যাপারে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন যে, পুতিনের চিন সফরের সমস্ত প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং খুব দ্রুতই এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে। তবে তিনি চিনের ওপর আমেরিকার চাপ বা ট্রাম্পের সফরের বিষয়টিকে কিছুটা হালকা করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। পেসকভ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, পুতিনের এই সফরটি অনেক আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল এবং এর সঙ্গে ট্রাম্পের বেইজিং সফরের সরাসরি কোনো সংযোগ নেই। অন্যদিকে চিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে, দুই নেতার বৈঠকের বিষয়ে মস্কোর সঙ্গে তাদের সার্বক্ষণিক ও নিবিড় যোগাযোগ বজায় রয়েছে এবং সঠিক সময়ে এই সফরের বিস্তারিত তথ্য জনসাধারণের সামনে প্রকাশ করা হবে। সব মিলিয়ে, চিনের এই দ্বিমুখী কূটনৈতিক চাল আগামী দিনে বিশ্ব রাজনীতির মোড় কোন দিকে ঘোরায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।তথ্যসূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল