প্রিন্ট এর তারিখ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬
নববর্ষে রঙিন ঢাকা: ১০টি দর্শনীয় স্থান যেখানে গেলে কাটবে বর্ণিল পহেলা বৈশাখ
সুমাইয়া জাবির , ন্যাশনাল ডেস্ক এডিটর ||
বাঙালির প্রাণের উৎসব, পহেলা বৈশাখ। জীর্ণ পুরাতনকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে আগামী ১৪ এপ্রিল মেতে উঠবে সারা দেশ। রাজধানী ঢাকা হয়ে ওঠে এই উৎসবের কেন্দ্রবিন্দু। মঙ্গল শোভাযাত্রা থেকে শুরু করে রমনার বটমূল—সবখানেই থাকে উৎসবের আমেজ।আপনি যদি পরিবার বা প্রিয়জনদের নিয়ে পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩-এর প্রথম সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আনন্দময় সময় কাটাতে চান, তবে রাজধানীর এই ১০টি স্থান হতে পারে আপনার সেরা গন্তব্য।১. রমনা বটমূল: ভোরের স্নিগ্ধতায় বর্ষবরণপহেলা বৈশাখের সকাল মানেই ছায়ানটের সুর। রমনা বটমূলে ভোরের রাগে নতুন বছরকে স্বাগত জানানো ঢাকার অন্যতম পুরনো ঐতিহ্য। বটমূলের ছায়ায় বসে বাংলা গান ও কবিতার মূর্ছনায় নিজেকে হারিয়ে ফেলার অনুভূতি অন্যরকম। এরপর পুরো রমনা পার্ক জুড়ে স্বস্তিতে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ তো থাকছেই।২. চারুকলা ও মঙ্গল শোভাযাত্রাইউনেস্কো স্বীকৃত বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাংস্কৃতিক আয়োজন 'মঙ্গল শোভাযাত্রা' শুরু হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে। রঙ-বেরঙের বিশালাকার মুখোশ, মাটির সরা আর দেশীয় লোকজ মোটিফ নিয়ে এই যাত্রা আমাদের ধর্মনিরপেক্ষতা ও ঐতিহ্যের প্রতীক। এই বর্ণিল মিছিলের সাক্ষী হওয়া মানেই নববর্ষের পূর্ণতা পাওয়া।৩. বাংলা একাডেমি: ঐতিহ্যের বৈশাখী মেলাবইয়ের পাশাপাশি বাংলা একাডেমি এবার সেজেছে লোকজ সাজে। বিসিক ও বাংলা একাডেমির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত *'বৈশাখী মেলা ১৪৩৩'* শুরু হচ্ছে ১৪ এপ্রিল থেকে, যা চলবে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত। নকশিকাঁথা, মাটির তৈজসপত্র আর ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের সেরা সংগ্রহ পাবেন এখানে। সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত মেলাটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।৪. বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র: এসএমই মেলা ও লোকজ উৎসবআগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) ১২ এপ্রিল থেকেই শুরু হয়েছে এসএমই বৈশাখী মেলা। ৩০০টিরও বেশি স্টলে মিলছে উদ্যোক্তাদের তৈরি বাহারি পণ্য। তবে মেলার মূল আকর্ষণ হলো নাগরদোলা, বায়োস্কোপ আর গ্রামীণ সব খেলা। মাত্র ৩০ টাকার টিকিটে পুরো পরিবার নিয়ে এখানে কাটানো যাবে দারুণ একটি দিন।৫. কোর্টসাইড (১০০ ফিট): কোক স্টুডিও বাংলার সুরের মেলাসঙ্গীতপ্রেমীদের জন্য এবার বিশেষ আকর্ষণ মাদানি এভিনিউর ১০০ ফিট সংলগ্ন 'কোর্টসাইড'। এখানে বিকেল ৩টা থেকে শুরু হবে *কোক স্টুডিও বাংলা*-র জমকালো কনসার্ট। দেশের শীর্ষস্থানীয় ও উদীয়মান শিল্পীদের সরাসরি পরিবেশনায় আধুনিক ও লোকজ গানের ফিউশনে মেতে উঠবে বৈশাখী বিকেল।৬. সোহরাওয়ার্দী উদ্যান: উন্মুক্ত প্রান্তরে প্রাণের উৎসবরমনার পাশেই অবস্থিত সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। বিশাল এই খোলা প্রান্তরে সারা দিনই চলে নানা সাংস্কৃতিক দলের পরিবেশনা। যারা একটু খোলামেলা জায়গায় ভিড়ের মধ্যেও উৎসবের আমেজ নিতে চান, তাদের জন্য এটি আদর্শ স্থান।৭. ধানমন্ডি লেক: সাংস্কৃতিক আড্ডা ও মুক্তমঞ্চপশ্চিম ঢাকার বাসিন্দাদের জন্য রবীন্দ্র সরোবর ও ধানমন্ডি লেক এলাকা হলো বৈশাখের প্রধান আকর্ষণ। লেকের পাড়ে বসে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখা আর আশপাশের বাহারি দেশীয় খাবারের স্টল থেকে পিঠা-পুলির স্বাদ নেওয়া বৈশাখের আনন্দকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।৮. জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজারাজধানীর অন্যতম সুন্দর স্থাপত্য শৈলী জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়ও বৈশাখ উপলক্ষে আয়োজন করা হয় নানা অনুষ্ঠানের। বিশেষ করে শিশুদের জন্য এখানে থাকে বিভিন্ন খেলনা ও খাবারের দোকান। বিকেলের রোদ কমে এলে এখানকার পরিবেশ বেশ উপভোগ্য হয়ে ওঠে।৯. পুরান ঢাকা: হালখাতা ও রসনা বিলাসঐতিহ্যবাহী বৈশাখ দেখতে চাইলে আপনাকে যেতেই হবে পুরান ঢাকার নাজিরাবাজার, চকবাজার বা ঠাটারি বাজারে। বৈশাখী হালখাতার পাশাপাশি সেখানকার বিশেষ বিরিয়ানি, বাকরখানি ও মিষ্টির স্বাদ আপনার দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখবে। পুরান ঢাকার অলিগলি এই দিনটিতে যেন এক অন্য উৎসবে মেতে ওঠে।১০. হাতিরঝিল: আধুনিকতায় নববর্ষযান্ত্রিক জীবনে একটু স্বস্তি ও জলের সান্নিধ্য পেতে চাইলে হাতিরঝিল হতে পারে আপনার গন্তব্য। লেকের ধার দিয়ে হাঁটা কিংবা ওয়াটার বাসে ঘুরে বেড়ানোর পাশাপাশি সেখানকার ফুড কোর্টগুলোতে ডিনার করার মাধ্যমে সুন্দরভাবে শেষ করতে পারেন নতুন বছরের প্রথম দিনটি।পরামর্শ: পহেলা বৈশাখে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার থাকে। তাই বের হওয়ার আগে হাতে সময় নিয়ে বের হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। শুভ নববর্ষ ১৪৩৩!
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল