প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৬ মে ২০২৬
জাতিসংঘে মার্কিন প্রস্তাবে চীনের আপত্তি, ভেটোর ইঙ্গিত
স্বাধীন আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার ||
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নামে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও বাহরাইনের যৌথ উদ্যোগে উত্থাপিত একটি নতুন খসড়া প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেছে চীন। বেইজিং স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে যে, প্রস্তাবটির মূল বিষয়বস্তু এবং এটি পেশ করার জন্য বেছে নেওয়া সময়টি সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত, যা বর্তমানের জটিল ভূ-রাজনৈতিক সংকট সমাধানে বিন্দুমাত্র সহায়ক ভূমিকা পালন করবে না। বিশ্ব রাজনীতিতে প্রভাবশালী এই পরাশক্তি দেশ মনে করে, একপেশে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সামরিক ও রাজনৈতিক পারদ আরও উঁচুতে চড়ে বসবে। জাতিসংঘে নিযুক্ত চীনের স্থায়ী রাষ্ট্রদূত ফু চং এই বিষয়ে তাদের দেশের অনড় অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেছেন যে, হরমুজ পরিস্থিতি নিয়ে যেকোনো ধরনের একপেশে অবস্থান বা একতরফা প্রস্তাব পাস করা হলে তা বিবদমান পক্ষগুলোর মধ্যকার সংকটকে আরও বেশি উসকে দিতে পারে। এই মুহূর্তে বিশ্ব সম্প্রদায়ের জন্য সবচেয়ে বড় ও জরুরি কাজ হলো কূটনীতির পথ অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একটি ফলপ্রসূ আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনা।নিরাপত্তা পরিষদের টেবিলে জমা দেওয়া মার্কিন-বাহরাইনের ওই যৌথ খসড়া প্রস্তাবে মূলত সরাসরি ইরানের প্রতি একটি কড়া আহ্বান জানানো হয়েছে, যেন তারা অবিলম্বে হরমুজ প্রণালিতে সব ধরনের সামরিক হামলা ও মাইন স্থাপন করার মতো বিপজ্জনক কার্যক্রম বন্ধ রাখে। তবে বৈশ্বিক কূটনৈতিক মহলের ধারণা, মার্কিন জোটের এই প্রস্তাবটি নিরাপত্তা পরিষদের চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ। কারণ প্রস্তাবটি যদি শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তা পরিষদে ভোটাভুটির জন্য উত্থাপন করাও হয়, তবে তা পরাশক্তি রাশিয়া ও চীনের যৌথ ভেটোর মুখে পড়ে সরাসরি নাকচ হয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগেও গত মাসে প্রায় একই ধরনের একটি মার্কিন সমর্থিত প্রস্তাবের বিরুদ্ধে চীন ও রাশিয়া তাদের বিশেষ ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করে তা আটকে দিয়েছিল। সে সময় দুই দেশের পক্ষ থেকেই জাতিসংঘের সাধারণ সভায় এই অভিযোগ তোলা হয়েছিল যে, উত্থাপিত প্রস্তাবের ভাষা ছিল সম্পূর্ণ একপেশে এবং তা কেবল একতরফাভাবে ইরানের ওপর সব দায় চাপানোর উদ্দেশ্যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তৈরি করা হয়েছিল।জাতিসংঘভিত্তিক একটি বিশেষায়িত সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে চীনের রাষ্ট্রদূত ফু চং অত্যন্ত জোরালোভাবে বলেন যে, তারা এই প্রস্তাবের মূল বিষয়বস্তুকে কোনোভাবেই সঠিক মনে করেন না, এমনকি বর্তমানের এই যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে এর জন্য নির্ধারিত সময়টিও মোটেও উপযুক্ত বা বাস্তবসম্মত নয়। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সতর্ক করে দিয়ে আরও বলেন যে, এমন একটি জটিল ও অস্থিতিশীল মুহূর্তে তাড়াহুড়ো করে কোনো জোড়াতালির প্রস্তাব পাস করা হলে তা মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতির আরও মারাত্মক অবনতি ঘটাবে। তাই এই সময়ে বিশ্ব রাজনীতির মোড়লদের উচিত হবে সব পক্ষকে কোনো শর্ত ছাড়াই একটি আন্তরিক ও দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক আলোচনায় বসার জন্য উৎসাহিত করা। জাতিসংঘের মঞ্চে চীনের এমন কঠোর ও অনড় অবস্থানের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি ঘিরে পরাশক্তিদের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এখন আরও তীব্র ও দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখার সর্বোচ্চ ফোরাম জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পরাশক্তি রাষ্ট্রগুলোর মধ্যকার গভীর ফাটল ও রাজনৈতিক বিভক্তি বিশ্ববাসীর সামনে নতুন করে উন্মোচিত হলো।মূল তথ্যসূত্র: রয়টার্স।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল