প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৬ মে ২০২৬
৩০০ মিলিয়ন দাবি, ৬০ মিলিয়নেই কেন রাজি হলো ফিফা?
স্বাধীন আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার ||
আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে দীর্ঘ সময় ধরে চলা তীব্র দর-কষাকষি, নানা নাটকীয়তা আর চরম ব্যবসায়িক টানাপোড়েন অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ২০২৬ সালের পুরুষ ফুটবল বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রি করতে সফল হয়েছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। আগামী ১১ জুন উত্তর আমেরিকার মাটিতে বিশ্ব ফুটবলের এই জমকালো আসর শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ঠিক তার মাত্র ২৭ দিন আগে অত্যন্ত তড়িঘড়ি করে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ‘চীন মিডিয়া গ্রুপ’ তথা সিএমজি-এর সাথে এই সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রির চুক্তিটি চূড়ান্ত রূপ পেয়েছে। তবে এই স্বত্ব বিক্রি থেকে ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা ফিফা শুরুর দিকে যে পরিমাণ বিশাল অঙ্কের অর্থ আয় করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল, তার চেয়ে নাটকীয়ভাবে অনেক কম মূল্যে শেষ পর্যন্ত এই চুক্তিটি সম্পাদন করতে হয়েছে।আর্থিক সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য ও চীনের বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, ফিফা প্রথমে এই সম্প্রচার স্বত্বের জন্য প্রায় ৩০ কোটি মার্কিন ডলার দাবি করে নিজেদের অবস্থানে অনড় ছিল। তবে চীনের বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত মাত্র ৬ কোটি মার্কিন ডলারের বিনিময়ে এই স্বত্ব বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছে তারা। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, সম্প্রচার মূল্যের এই নাটকীয় পতনের পেছনে অন্যতম একটি বড় কারণ হলো— আগামী দিনে অনুষ্ঠিতব্য ৪৮টি দলের এই মেগা টুর্নামেন্টে চীনের জাতীয় ফুটবল দল চূড়ান্ত পর্বে খেলার যোগ্যতা বা কোয়ালিফাই করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। ফিফার অফিশিয়াল সূত্র জানিয়েছে, চীনের সিএমজি-এর সাথে সম্পাদিত এই দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিটি আগামী ২০৩১ সাল পর্যন্ত বহাল ও কার্যকর থাকবে। এই মেগা চুক্তির আওতায় পুরুষ ও নারী ফুটবলের আগামী দুটি করে সর্বমোট চারটি বিশ্বকাপের একচ্ছত্র সম্প্রচার স্বত্ব নিজেদের হেফাজতে রাখতে পারবে চীন। যার মধ্যে সুনির্দিষ্টভাবে ২০২৬ ও ২০৩০ সালের পুরুষদের ফুটবল বিশ্বকাপ এবং ২০২৭ ও ২০Constants৩১ সালের নারীদের ফুটবল বিশ্বকাপ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।আসলে উত্তর আমেরিকার দেশগুলোর সাথে বেইজিংয়ের সময়ের বিশাল ব্যবধানের কারণেই মূলত এবার চীনের বিশাল ও আকর্ষণীয় বাজারে বড় অঙ্কের দর হাঁকাতে বা স্পন্সরদের আকৃষ্ট করতে চরম বেগ পেতে হয়েছে ফিফাকে। ম্যাচগুলোর আয়োজক রাষ্ট্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর ১৬টি আধুনিক ভেন্যুর সাথে চীনের স্থানীয় সময়ের ব্যবধান সর্বোচ্চ ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত। এই বিশাল সময়ের পার্থক্যের ফলে বিশ্বকাপের অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ ও হাইভোল্টেজ ম্যাচই চীনের ফুটবলপ্রেমী দর্শকদের ভোরের আলো ফোটার আগে কিংবা গভীর মাঝরাতে জেগে দেখতে হবে। টেলিভিশনের পর্দায় ম্যাচ দেখার এই প্রতিকূল সময় বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন ও দর্শকপ্রিয়তার বৈশ্বিক বাজারে একটি বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা দিয়েছে। তবে সম্প্রচার স্বত্ব থেকে ফিফা আশানুরূপ মুনাফা ও অর্থ লাভ করতে না পারলেও করপোরেট স্পন্সরশিপের দিক থেকে চীনা বিভিন্ন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ ও বিনিয়োগ নিজেদের তহবিলে ঠিকই তুলতে পেরেছে। এবারের বৈশ্বিক এই টুর্নামেন্টের শীর্ষ আটটি প্রধান স্পন্সরের তালিকায় অন্যতম একটি নাম হলো চীনের প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান লেনোভো। এ ছাড়া সহযোগী স্পন্সর হিসেবে টুর্নামেন্টের সাথে যুক্ত রয়েছে চীনের বিখ্যাত ডেইরি ফার্ম মেংনিউ এবং ইলেকট্রনিক্স পণ্য উৎপাদনকারী জায়ান্ট প্রতিষ্ঠান হাইসেন্স।অর্থনৈতিক ও বিপণন বিশেষজ্ঞদের প্রাক্কলন অনুযায়ী, আগামী ২০২৬ সালের এই মেগা আসর থেকে বিভিন্ন খাতের বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রি করে ফিফার মোট আয়ের পরিমাণ অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে ১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে জোরালো ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ দরজায় কড়া নাড়লেও দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ এবং তুমুল জনপ্রিয় বাজার ভারতের জন্য এখনো কোনো কার্যকর সম্প্রচার স্বত্ব বা মাধ্যম নিশ্চিত করতে পারেনি ফিফা, যা নিয়ে ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে কিছুটা অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। ক্রীড়াসূচি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এই আসরের পর ২০৩০ সালের পুরুষ ফুটবল বিশ্বকাপটি যৌথভাবে ইউরোপ ও আফ্রিকার তিনটি দেশ যথাক্রমে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো আয়োজন করবে। তবে এই বিশেষ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী তিনটি ম্যাচ ফুটবল ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান জানিয়ে লাতিন আমেরিকার দেশ আর্জেন্টিনা, প্যারাগুয়ে ও উরুগুয়েতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া নারীদের ফুটবলের রাজত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের লড়াইয়ে ২০২৭ সালের নারী বিশ্বকাপটি সাম্বার দেশ ব্রাজিলে এবং ২০৩১ সালের পরবর্তী আসরটি যৌথভাবে উত্তর ও মধ্য আমেরিকার দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, কোস্টারিকা ও জ্যামাইকার মাঠে সাড়ম্বরে অনুষ্ঠিত হবে।মূল তথ্যসূত্র: বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা (আঞ্চলিক মিডিয়া উইং)
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল