প্রিন্ট এর তারিখ : ১৭ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৭ মে ২০২৬
গাজায় ইসরায়েলি হামলায় স্ত্রী-কন্যাসহ হামাসের সামরিক শাখার প্রধান নিহত
স্বাধীন আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার ||
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়ে স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের সামরিক শাখার অন্যতম শীর্ষ প্রধান এজেদ্দিন আল-হাদ্দাদকে হত্যার দাবি করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী। পরবর্তী সময়ে হামাসের পক্ষ থেকে দেওয়া একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তাদের এই শীর্ষ সামরিক কমান্ডারের নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। অত্যন্ত বেদনাদায়ক এই হামলায় কেবল ওই সামরিক নেতাই নন, বরং তাঁর স্ত্রী এবং তাঁদের ১৯ বছর বয়সী তরুণী কন্যাও প্রাণ হারিয়েছেন বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন থেকে এই চাঞ্চল্যকর ও সংঘাতপূর্ণ তথ্য জানা গেছে।ইসরায়েলি সামরিক মুখপাত্রের দাবি অনুযায়ী, গাজা নগরীর একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করে শুক্রবার এই নিখুঁত ও আকস্মিক বিমান হামলা চালানো হয় এবং এতেই হামাসের এই প্রভাবশালী নেতাকে নির্মূল করা সম্ভব হয়েছে। তবে এই হামলার পেছনে সবচেয়ে বড় যে বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে তা হলো, দুই পক্ষের মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার মাঝেই ইসরায়েল এই আকস্মিক ও প্রাণঘাতী হামলাটি চালিয়েছে। উল্লেখ্য, গত অক্টোবর মাসে দীর্ঘ আলোচনার পর ইসরায়েল ও হামাস একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতির সমঝোতায় পৌঁছাতে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু সেই যুদ্ধবিরতির তোয়াক্কা না করেই গাজা জুড়ে ইসরায়েলি বাহিনী তাদের ধারাবাহিক ও চোরাগোপ্তা হামলা অব্যাহত রেখেছে বলে ফিলিস্তিনিদের পক্ষ থেকে বারবার অভিযোগ করা হচ্ছে।যেদিন এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়, সেই শুক্রবারটি ফিলিস্তিনিদের জাতীয় জীবনের জন্য ছিল অত্যন্ত আবেগঘন ও ঐতিহাসিক একটি দিন। দিনটি ছিল ফিলিস্তিনিদের আদি ভিটামাটি থেকে উচ্ছেদের কালো অধ্যায় বা 'নাকবা দিবস'-এর ৭৮তম বার্ষিকী। ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিনের বুকে জোরপূর্বক ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় প্রায় সাড়ে সাত লাখ ফিলিস্তিনি নাগরিককে তাঁদের নিজস্ব ঘরবাড়ি ও ভূমি থেকে নির্মমভাবে বাস্তুচ্যুত করা হয়েছিল, যার স্মরণে প্রতি বছর এই দিনটি গভীর শোক ও ক্ষোভের সাথে পালন করেন ফিলিস্তিনিরা। ঠিক এমন একটি ঐতিহাসিক ও সংবেদনশীল দিবসেই হামাসের সামরিক শাখার এই অন্যতম প্রধান নীতি-নির্ধারককে সপরিবারে হত্যা করল ইসরায়েল।হামাসের পক্ষ থেকে জারি করা শোকবার্তায় ইজ্জ আল-দিনকে তাদের প্রতিরোধ আন্দোলনের এবং সামগ্রিক সামরিক অভিযানের অন্যতম কেন্দ্রীয় ও অপরিহার্য ব্যক্তি হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। ১৯৭০ সালে জন্ম নেওয়া এই বীর যোদ্ধার জানাজার নামাজ শনিবার গাজার মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত ঐতিহাসিক আল-আকসা শহীদ মসজিদে অত্যন্ত আবেগঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে হাজার হাজার সাধারণ ফিলিস্তিনি নাগরিক অংশ নেন।গাজার স্থানীয় চিকিৎসকদের এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই শুক্রবার গাজা জুড়ে ইসরায়েলের চালানো অন্তত দুটি পৃথক বিমান হামলায় মোট সাতজন ফিলিস্তিনি নাগরিক শাহাদাত বরণ করেছেন। এই নৃশংসতায় নিহতদের মধ্যে তিনজন নারী এবং দুটি অবুঝ শিশুও রয়েছে। ফিলিস্তিনি স্থানীয় সূত্রগুলো জোরালো দাবি করেছে যে, কোনো সামরিক ঘাঁটিতে নয়, বরং একটি সাধারণ আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে সম্পূর্ণ কাপুরুষোচিতভাবে বোমাবর্ষণ করে ইজ্জ আল-দিন এবং তাঁর নিরপরাধ পরিবারকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধবিক্ষুব্ধ অঞ্চলের পরিস্থিতি নতুন করে আরও উত্তপ্ত ও নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে ওঠার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল