প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৭ মে ২০২৬
ড. ইউনূসসহ উপদেষ্টাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দাখিল
আকাশ মোল্লা, স্টাফ রিপোর্টার ||
হামের টিকা সংক্রান্ত বিশেষ একটি কর্মসূচি পরিচালনায় গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ তুলে দেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ এই বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে একটি বিচারবিভাগীয় তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের উচ্চ আদালতে দায়ের করা এই জনস্বার্থমূলক রিট আবেদনে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক সব উপদেষ্টাসহ মোট ২৪ জন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির বিদেশ গমনের ওপর জরুরি নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য আদালতের কাছে আরজি জানানো হয়েছে।আজ রোববার দেশের সর্বোচ্চ আদালতের সংশ্লিষ্ট শাখায় সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আশরাফুল ইসলাম এই রিট আবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে দাখিল করেন। রিটকারীর মূল অভিযোগ হলো, সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় থাকা হামের অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রতিষেধক টিকাদান কার্যক্রমকে নিয়মবহির্ভূতভাবে এবং কোনো এক অদৃশ্য কারণে একটি বিশেষ বেসরকারি বা ব্যক্তিমালিকানাধীন খাতের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এই আত্মঘাতী এবং বিতর্কিত সিদ্ধান্তের পেছনে যারা ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন, তাদের প্রত্যেকের দায়বদ্ধতা নিরূপণ করাই এই রিটের মূল উদ্দেশ্য। দায়েরকৃত এই রিট আবেদনে সরকারের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, যার মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, জনপ্রশাসন সচিব এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে বিবাদী করা হয়েছে।আদালত সূত্রে জানা গেছে, হামের টিকাদান কর্মসূচি রাষ্ট্রীয় পরিমণ্ডল থেকে বেসরকারি খাতে স্থানান্তরের মতো এই সংবেদনশীল ইস্যুতে এর আগেও গত ৬ এপ্রিল সরকারের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। সেই সময় রিটকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন যে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এক সময়ের প্রায় নির্মূল হয়ে যাওয়া মারাত্মক রোগ হামের এক ভয়াবহ ও আকস্মিক প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এই রোগের প্রকোপ এতটাই তীব্র আকার ধারণ করেছে যে, ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শতাধিক নিষ্পাপ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে এবং প্রতিদিন অগণিত শিশু ও সাধারণ নাগরিক এই রোগে আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। দেশজুড়ে এমন একটি জনস্বাস্থ্য সংকটের সৃষ্টি হওয়া সত্ত্বেও কেন এবং কার স্বার্থে এই জীবনরক্ষাকারী টিকার নিয়ন্ত্রণ বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া হলো, তা নিয়ে জনমনে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।আইনজীবী আরও উল্লেখ করেন যে, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি অবহেলা করে হামের মতো একটি অতি প্রয়োজনীয় টিকাকে বেসরকারি খাতে হস্তান্তর করার এই অশুভ ও চরম অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের পেছনে কার কী ভূমিকা ছিল, তা উদঘাটন করতে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা এখন সময়ের দাবি। রিট আবেদনে সুনির্দিষ্টভাবে ড. মুহাম্মদ ইউনূস, ড. আসিফ নজরুল, সৈয়দ রিজওয়ানা হাসান, আদিলুর রহমান খান, নূর জাহান বেগম, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাখাওয়াত হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, মোস্তফা সরয়ার ফারুকীসহ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সব সাবেক উপদেষ্টা, সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এবং তাদের তৎকালীন সব ব্যক্তিগত সহকারীদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। আবেদনকারীর দাবি, এই স্পর্শকাতর বিষয়ের সুনির্দিষ্ট তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত যাতে অভিযুক্ত কোনো ব্যক্তি দেশত্যাগ করে আইনি প্রক্রিয়া এড়াতে না পারেন, সেজন্য রাষ্ট্রকে অবিলম্বে তাদের বিদেশ যাত্রার ওপর আইনি নিষেধাজ্ঞা জারি করতে হবে। দেশের জনস্বার্থ রক্ষা ও শিশুদের জীবন সুরক্ষায় এই রিটের ওপর খুব শীঘ্রই হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে শুনানি অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানা গেছে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল