প্রিন্ট এর তারিখ : ১৯ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৮ মে ২০২৬
আমিরাতে ড্রোন হামলার নিশানায় পারমাণবিক কেন্দ্র
আকাশ মোল্লা, স্টাফ রিপোর্টার ||
সংযুক্ত আরব আমিরাতের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে একটি আকস্মিক ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বর্তমানে যে অত্যন্ত নাজুক ও ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চলছে, তার মধ্যেই এই স্পর্শকাতর পারমাণবিক স্থাপনায় এমন হামলার ঘটনা ঘটায় মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে নতুন করে তীব্র আঞ্চলিক উত্তেজনা ও বড় ধরনের সামরিক সংঘাত বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।সংযুক্ত আরব আমিরাতের উচ্চপদস্থ সরকারি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোববার অর্থাৎ ১৮ মে আবুধাবির আল-ধাফরা অঞ্চলে অবস্থিত এই বিশাল পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির অভ্যন্তরীণ সীমানার ভেতরে আকস্মিকভাবে একটি ড্রোন এসে আঘাত হানে। ড্রোনের এই বিস্ফোরণের ফলে কেন্দ্রটির একটি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী জেনারেটরে তাৎক্ষণিকভাবে আগুন ধরে যায়। তবে সৌভাগ্যবশত এই ঘটনায় কোনো ধরনের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি এবং পরিবেশ বা আশপাশের এলাকায় তেজস্ক্রিয়তার মাত্রাও সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশটির পারমাণবিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা তাদের দেওয়া একটি জরুরি বিবৃতিতে প্রকাশ করেছে যে, আরব উপদ্বীপের ইতিহাসে প্রথম এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির মোট চারটি ইউনিটের সবকটিই বর্তমানে স্বাভাবিকভাবে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ উৎপাদনে কোনো ধরনের বড় বিঘ্ন ঘটেনি।এই নজিরবিহীন হামলার পর তাৎক্ষণিকভাবে কোনো দেশের সরকার বা কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠী এর দায় স্বীকার করেনি। এমনকি সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারও কৌশলগত কারণে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট দেশকে এই ঘটনার জন্য সরাসরি বা আনুষ্ঠানিকভাবে দায়ী করেনি। তবে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিশেষ বার্তায় জানিয়েছে, তাদের অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আকাশেই দুটি আত্মঘাতী ড্রোন সফলভাবে ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছিল, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তৃতীয় আরেকটি ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যূহ ফাঁকি দিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রের জেনারেটরে সরাসরি আঘাত হানতে সক্ষম হয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি অনুযায়ী, এই ড্রোনগুলো মূলত দেশের পশ্চিম সীমান্ত দিয়ে আমিরাতের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল, তবে তদন্তের স্বার্থে এই বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য তারা এখনো প্রকাশ করেনি। বর্তমানে হামলার মূল উৎস এবং কারা এর পেছনে রয়েছে তা সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত চালানো হচ্ছে।অন্য দিকে বৈশ্বিক পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা তথা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা জানিয়েছে, ড্রোনের এই আকস্মিক আঘাতের কারণে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির একটি বিশেষ রিঅ্যাক্টর বা চুল্লি সাময়িকভাবে সচল রাখতে জরুরি ভিত্তিতে বিকল্প ডিজেল জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হয়েছিল। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধান রাফায়েল গ্রোসি এই পুরো ঘটনাটিকে অত্যন্ত গভীর উদ্বেগজনক হিসেবে অভিহিত করেছেন। সেই সাথে তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, যেকোনো ধরনের পারমাণবিক স্থাপনায় বা তার আশপাশে এ ধরনের সামরিক হামলা চালানো আন্তর্জাতিক নিয়মানুযায়ী সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং এটি বড় ধরনের বৈশ্বিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।উল্লেখ্য, সৌদি আরব সীমান্তের খুব কাছে এবং রাজধানী আবুধাবি থেকে প্রায় ২২৫ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত এই বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও জ্বালানি অবকাঠামোর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মেরুদণ্ডসম অংশ। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান, ইসরায়েল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে কেন্দ্র করে সমগ্র পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যখন এক ধরনের স্নায়ুযুদ্ধ ও সামরিক উত্তেজনা ক্রমাগত বাড়ছে, ঠিক তখনই এই হামলার ঘটনাটি ঘটল। এই চরম অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতের সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্য এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশের গোপন সহযোগিতার খবর বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে এই পুরো সংবেদনশীল রাজনৈতিক বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রশাসন এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত রয়েছে।মূল সূত্র: আল জাজিরা।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল