প্রিন্ট এর তারিখ : ১৯ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৮ মে ২০২৬
জাতীয় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতায় নতুন সমন্বয় কমিটি গঠন
আকাশ মোল্লা, স্টাফ রিপোর্টার ||
দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন নতুন কমিটি গঠন করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সভাপতি করে গঠিত এই বিশেষ কাঠামোর নাম দেওয়া হয়েছে ‘নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকল্পে জাতীয় সমন্বয় কমিটি’। রোববার (১৭ মে) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একটি বিশেষ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই কমিটি গঠনের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (কমিটি ও অর্থনৈতিক) মো. হুমায়ুন কবিরের স্বাক্ষরে জারি হওয়া এই প্রজ্ঞাপনটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। মূলত বিগত ৩০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে জারি করা একটি স্মারকের ধারাবাহিকতায় এই নতুন নির্দেশনা জারি করা হলো।ঘোষিত এই উচ্চপর্যায়ের কমিটিতে সরকারের শীর্ষ প্রশাসনিক ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধানদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী পদাধিকারবলে এই কমিটির শীর্ষ পদে অর্থাৎ সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁর পরেই সহ-সভাপতি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী। এছাড়া পুরো কমিটির কার্যক্রম সুচারুভাবে পরিচালনার জন্য প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে রাখা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টাকে। কমিটির সাধারণ সদস্যদের তালিকায় রয়েছেন রাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদের কর্মকর্তারা। এদের মধ্যে রয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তির তদারকিতে যুক্ত শীর্ষ কর্মকর্তাদেরও এখানে রাখা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের মহাপরিচালক, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের মহাপরিচালক। পাশাপাশি ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেল, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন এবং পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের প্রধান কর্মকর্তারাও এই কমিটির স্থায়ী সদস্য হিসেবে কাজ করবেন।কমিটির মূল কাঠামোর বাইরেও বিভিন্ন জটিল তদন্ত ও বিশেষায়িত সহায়তার জন্য বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে সহায়তাদানকারী হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে। এই তালিকায় আছেন অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক এবং স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিটের অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক। এছাড়া দেশের আর্থিক খাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের প্রধান কর্মকর্তাকে এই কমিটিতে রাখা হয়েছে। তবে তিনি কমিটির নিয়মিত সদস্য নন; যখনই কমিটি মনে করবে আর্থিক গোয়েন্দা তথ্যের প্রয়োজন, তখনই তাঁকে আহ্বান করা হবে এবং তিনি প্রয়োজনীয় তথ্য ও পরামর্শ দিয়ে কমিটিকে সহায়তা করবেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত সেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাও এই সহায়তাকারী দলের অংশ হিসেবে কাজ করবেন।সরকারের জারি করা প্রজ্ঞাপনে এই জাতীয় সমন্বয় কমিটির বেশ কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর কার্যপরিধি বা কাজের ক্ষেত্র নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। কমিটি মূলত দেশের নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ও ঝুঁকিগুলো চিহ্নিত করবে। এরপর পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে একটি সুনির্দিষ্ট ও সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা তৈরি করবে। দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কোন সংস্থাকে কী ধরনের দায়িত্ব পালন করতে হবে, তা এই কমিটি নির্ধারণ করে দেবে। শুধু তাই নয়, পরিবর্তিত সময়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে দেশের প্রচলিত আইন ও বিধি-বিধানগুলো পর্যালোচনা করাও হবে এই কমিটির অন্যতম কাজ। যদি প্রয়োজন মনে হয়, তবে তারা বিদ্যমান আইন সংশোধন, সংস্কার কিংবা সম্পূর্ণ নতুন আইন প্রণয়নের জন্য সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ পেশ করতে পারবে।বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অনলাইন জগতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে এই কমিটির অন্যতম বড় কাজ হিসেবে ধরা হয়েছে। দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারে এমন যেকোনো অনলাইন প্ল্যাটফর্মের ওপর নিয়মিত এবং কঠোর নজরদারির ব্যবস্থা করবে এই কমিটি। এই তদারকি কার্যক্রম সফল করতে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান এবং প্রয়োজনীয় সমন্বয় সাধনের সরাসরি নির্দেশনা দেবে এই উচ্চপর্যায়ের ফোরাম।প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং যখনই প্রয়োজন মনে হবে, তখনই এই কমিটির জরুরি বা নিয়মিত সভা অনুষ্ঠিত হবে। কাজের পরিধি বা কোনো বিশেষ পরিস্থিতি মোকাবেলার স্বার্থে কমিটি চাইলে যেকোনো সময় সশস্ত্র বাহিনী কিংবা অন্য কোনো আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধান বা যেকোনো উপযুক্ত কর্মকর্তাকে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত বা কো-অপ্ট করতে পারবে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালনার জন্য একটি স্থায়ী সচিবালয়ের প্রয়োজন হবে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রাথমিক পর্যায়ে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তর এই কমিটির সচিবালয় হিসেবে কাজ করবে এবং প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামোগত সব ধরনের সুবিধা দেবে। তবে পরবর্তীতে সভাপতির নির্দেশক্রমে এবং পরিস্থিতি বিবেচনা করে অন্য যেকোনো গোয়েন্দা সংস্থা বা সংস্থাকে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য এই সচিবালয়ের দায়িত্ব হস্তান্তর করা যেতে পারে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল