প্রিন্ট এর তারিখ : ২০ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৯ মে ২০২৬
ভূমিসেবা ব্যবস্থায় হয়রানি বন্ধে সংস্কার আনছে সরকার
আকাশ মোল্লা, স্টাফ রিপোর্টার ||
দেশের সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করতে এবং ভূমি সংক্রান্ত সেবাগুলোকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও আধুনিক করে তুলতে এক বড় ধরনের পরিবর্তনের অঙ্গীকার করেছে বর্তমান সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, ভূমিসেবায় যেকোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি এবং সাধারণ মানুষের হয়রানি বন্ধ করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে এবং সমস্ত সরকারি কার্যক্রমে সরকার জনগণের কাছে সম্পূর্ণ দায়বদ্ধ থাকতে চায়। মঙ্গলবার সকাল সোয়া এগারোটার দিকে দেশের রাজধানী ঢাকার তেজগাঁওয়ে অবস্থিত ভূমি ভবনে আয়োজিত একটি বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি এসব গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন। দেশব্যাপী আয়োজিত তিন দিনব্যাপী বিশেষ মেলাটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।অনুষ্ঠানে ভাষণ দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন যে, এখন থেকে দেশের প্রতিটি নাগরিককে সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে সব ধরনের ভূমিসেবা দেওয়া হবে। ফলে জমিজমা সংক্রান্ত যেকোনো কাজের জন্য সাধারণ মানুষকে আর দিনের পর দিন সরকারি দপ্তরে কিংবা ভূমি অফিসে সশরীরে গিয়ে অযথা ঘোরাঘুরি করতে হবে না এবং কোনো ধরনের মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের খপ্পরে পড়ে হয়রানির শিকার হতে হবে না। ঘরে বসেই যাতে মানুষ অত্যন্ত সহজে, কম খরচে এবং ঝামেলাহীনভাবে তাদের জমির মালিকানা সংক্রান্ত কাজগুলো সম্পন্ন করতে পারেন, সে লক্ষ্যেই সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এই পুরো ব্যবস্থাকে পুরোপুরি জনবান্ধব এবং প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তোলার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে।উল্লেখ্য, ১৯ মে থেকে দেশজুড়ে একযোগে শুরু হয়েছে এই বিশেষ আয়োজন। আগামী ২১ মে পর্যন্ত দেশের সব অঞ্চলে এই মেলা একযোগে চলবে। প্রধানমন্ত্রী নিজে উপস্থিত থেকে এই কল্যাণমুখী মেলার শুভ সূচনা করায় এটি সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এই মেলা থেকে নাগরিকরা সরাসরি তাদের জমির বিভিন্ন সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান এবং পরামর্শ পাচ্ছেন। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই মেলার মূল উদ্দেশ্যই হলো সাধারণ মানুষের কাছে নতুন ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থার আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা তুলে ধরা এবং কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। এই সময়োপযোগী উদ্যোগের ফলে দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনায় এক নতুন যুগের সূচনা হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল