প্রিন্ট এর তারিখ : ২০ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৯ মে ২০২৬
হাম প্রতিরোধে দেশজুড়ে জরুরি নির্দেশ স্বাস্থ্য বিভাগের
আকাশ মোল্লা, স্টাফ রিপোর্টার ||
সারা দেশে হঠাৎ করেই আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হাম এবং হামের বিভিন্ন উপসর্গে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। উদ্ভূত এই আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দেশের সব সরকারি হাসপাতালগুলোকে জরুরি ও কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সরকারের এই নতুন নির্দেশনায় আক্রান্ত ও সন্দেহভাজন হাম রোগীদের জন্য প্রতিটি হাসপাতালে সম্পূর্ণ আলাদা বিশেষ চিকিৎসাকক্ষ বা বিশেষ শয্যা নির্ধারণ, হাসপাতালে আসা মাত্রই অত্যন্ত দ্রুততার সাথে তাদের ভর্তি ও সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং রোগ ছড়ানো রোধে সম্পূর্ণ আলাদা রাখার কঠোর ব্যবস্থা জোরদার করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. আবু মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক নির্দেশনায় দেশের স্বাস্থ্য খাতের এই জরুরি সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জারি করা এই জরুরি নির্দেশনাবলীতে দেশের সার্বিক জনস্বাস্থ্য রক্ষায় বেশ কিছু বাধ্যতামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রথমত, দেশের প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে হাম বা হামের মতো লক্ষণযুক্ত যেকোনো রোগীকে অন্য সাধারণ রোগীদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা রেখে চিকিৎসার জন্য আবশ্যিকভাবে পৃথক বিশেষ চিকিৎসাকক্ষ বা শয্যার ব্যবস্থা করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই কোনো সরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আসা রোগীদের ফিরিয়ে দিতে পারবে না। হাসপাতালে আসা মাত্রই রোগীকে দ্রুত ভর্তি করিয়ে প্রয়োজনীয় সব ধরনের চিকিৎসাসেবা দেওয়া নিশ্চিত করা প্রতিটি হাসপাতালের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই বিশেষ আইসোলেশন চিকিৎসাকক্ষগুলোতে সার্বক্ষণিক পর্যাপ্তসংখ্যক যোগ্য চিকিৎসক এবং দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োজিত রাখতে হবে। চিকিৎসায় যেন কোনো ধরনের অবহেলা না হয়, সেজন্য সরকারি ছুটির দিনসহ সপ্তাহের প্রতিদিন সকাল এবং বিকেল—দুই বেলাই বাধ্যতামূলকভাবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সশরীরে উপস্থিত হয়ে রোগীদের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা করতে হবে।এই সংক্রামক রোগের বিস্তার যেন কোনোভাবেই হাসপাতালের বাইরে বা অন্য সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সেজন্য দর্শনার্থীদের যাতায়াতের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা প্রতিটি রোগীর সাথে সার্বক্ষণিক দেখাশোনা বা সেবার জন্য সর্বোচ্চ একজন অভিভাবক বা নিকটাত্মীয় অবস্থান করতে পারবেন। এর বাইরে অন্য কোনো বহিরাগত বা দর্শনার্থীকে কোনোভাবেই সেই বিশেষ চিকিৎসাকক্ষে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। একই সাথে, দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার কেন্দ্রীয় নজরদারি বজায় রাখতে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া প্রতিটি হাম রোগীর দৈনিক স্বাস্থ্যগত তথ্য অত্যন্ত নিখুঁতভাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় তথ্য সার্ভারে আপলোড করার জন্য হাসপাতাল প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেকোনো ধরনের জরুরি পরিস্থিতি, তথ্য আদান-প্রদান কিংবা তাৎক্ষণিক চিকিৎসাসেবা সংক্রান্ত সহায়তার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ সার্বক্ষণিক যোগাযোগ নম্বরও চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে চিকিৎসকরা প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিতে পারবেন। সরকারের এই কঠোর ও সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় স্থবিরতা কেটে যাবে এবং হামের প্রকোপ দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল