প্রিন্ট এর তারিখ : ২১ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬
চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে: কঠোর বার্তা ট্রাম্পের
আকাশ মোল্লা, স্টাফ রিপোর্টার ||
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, কোনো ধরনের চূড়ান্ত এবং স্থায়ী চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার আগে ইরানের ওপর আরোপিত কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়টি তিনি বিন্দুমাত্র বিবেচনা করবেন না। ইরান ইস্যু নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের ভেতরে-বাইরে যখন নানা স্তরের আলোচনা ও গুঞ্জন চলছে, ঠিক তখনই হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে এমন কঠোর ও অনমনীয় বার্তা বিশ্বমঞ্চে এলো। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেছেন, আন্তর্জাতিক এই সংবেদনশীল বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি কোনো ধরনের তাড়াহুড়ো বা তড়িঘড়ি করতে রাজি নন। নিজের শর্তপূরণের স্বার্থে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি প্রয়োজনে আরও বেশ কয়েক দিন, কয়েক সপ্তাহ বা তার চেয়েও বেশি সময় অপেক্ষা করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত আছেন। কিন্তু চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার আগে ইরানকে এক চুলও ছাড় দেওয়া হবে না।বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে সবচেয়ে বড় যে নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয়টি এসে দাঁড়িয়েছে, তা হলো ইরানের সাথে চলমান সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও বাড়ানো হবে নাকি এই প্রক্রিয়া এখানেই ভেঙে দিয়ে পুনরায় নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান বা আক্রমণ শুরু করা হবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী উপসাগরীয় বা গাল্ফ অঞ্চলের নেতা ব্যক্তিগতভাবে তাকে সরাসরি ফোন করেছিলেন। তারা মার্কিন প্রশাসনকে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি করার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানানোর পরই মূলত ট্রাম্প তার পরবর্তী কূটনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপের রূপরেখা তৈরি করেছেন। তবে তিনি বিশ্ববাসীকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, পরিস্থিতির সামান্যতম অবনতি ঘটলে বা ইরান কোনো ধরনের উস্কানি দিলে, মাত্র এক ঘণ্টার নোটিশে তিনি পুনরায় পুরোদমে সামরিক আক্রমণ শুরু করার জন্য মার্কিন বাহিনীকে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রেখেছেন।ইরানের সাথে আমেরিকার এই যে আলোচনা চলছে, তার ভেতরের সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি বা এর অভ্যন্তরীণ খসড়া রূপরেখা নিয়ে এখনো পর্যন্ত বিস্তারিত কোনো তথ্য হোয়াইট হাউজ বা পেন্টাগন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে ওয়াশিংটনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, মার্কিন প্রশাসন এই মুহূর্তে আলোচনার টেবিলে যাদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে, তাদের মধ্যে কয়েকজন বেশ যুক্তিপূর্ণ, বিবেচনাশীল এবং বাস্তববাদী আচরণ করছেন। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কোনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর আগেই ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে শ্বাস নেওয়ার সুযোগ না দেওয়ার এই কৌশলগত ঘোষণা দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প মূলত আলোচনার টেবিলে নিজের দর-কষাকষির অবস্থানকে অনেক বেশি শক্তিশালী ও সুসংহত করলেন। ট্রাম্পের এমন অনমনীয় ও আক্রমণাত্মক অবস্থানের পর এখন এই সংকটের পুরো ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে তেহরানের পরবর্তী আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এবং কৌশলগত পদক্ষেপের ওপর। বেইজিং বা অন্য কোনো আন্তর্জাতিক মঞ্চে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সময়ের নানামুখী সফল কূটনৈতিক তৎপরতার পর, মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের এই কঠোর নীতি বর্তমান বৈশ্বিক রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ ও নতুন মাত্রার জন্ম দিল।উৎস: আল-জাজিরা।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল