প্রিন্ট এর তারিখ : ২১ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬
ইসরাইলি মন্ত্রীর আচরণকে ‘ঘৃণ্য ও অমানবিক’ বললেন মার্কিন সিনেটর
স্বাধীন আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার ||
গাজা উপত্যকার অবরুদ্ধ ও ক্ষুধার্ত মানুষের জন্য সাহায্য নিয়ে যাওয়া মানবিক ফ্লোটিলা থেকে অন্যায়ভাবে আটক করা কর্মীদের প্রতি ইসরাইলের চরমপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বেন-গ্যভিরের অত্যন্ত নিষ্ঠুর ও অমানবিক আচরণের বিরুদ্ধে এবার তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেছেন খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী দুই সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন এবং জেফ বার্কলি। ওয়াশিংটনের এই শীর্ষ নীতিনির্ধারকরা স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, আটক হওয়া সাহায্যকর্মীদের ওপর চালানো এই বর্বরতা আসলে কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি দীর্ঘ দিন ধরে নিরীহ ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইসরাইলি প্রশাসনের সামগ্রিক নিষ্ঠুর ও নিপীড়নমূলক আচরণেরই একটি বাস্তব বহিঃপ্রকাশ। বিশ্বজুড়ে এই অমানবিক ঘটনার ভিডিও চিত্র ছড়িয়ে পড়ার পর মার্কিন প্রশাসনের অন্দরেও এখন ইসরাইলের এই উগ্রপন্থী মন্ত্রীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি উঠছে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক অত্যন্ত জোরালো বিবৃতিতে মার্কিন সিনেটর জেফ বার্কলি ইসরাইলি মন্ত্রীর এমন আচরণের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, আটককৃত নিরস্ত্র ও নিরীহ মানুষদের প্রতি বেন-গ্যভিরের এই ধরনের আচরণ অত্যন্ত ঘৃণ্য, জঘন্য এবং সম্পূর্ণ অমানবিক। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, যখন আমরা প্রতিনিয়ত গাজার ধূলিসাৎ হয়ে যাওয়া জনপদ এবং সেখানকার খাদ্য ও চিকিৎসার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠা অসহায় পরিবারগুলোর করুণ ছবি দেখি, তখন আমরা খুব সহজেই বুঝতে পারি যে কেন পৃথিবীর নানা প্রান্তের বিবেকবান মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এমন প্রতিবাদ ও মানবিক অভিযানে অংশ নিতে উদ্বুদ্ধ হন। বিশ্ববাসীর সামনে ইসরাইল যে নির্মমতা চালাচ্ছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।অন্যদিকে, এই ঘটনার ভয়াবহতা নিয়ে আরও এক ধাপ এগিয়ে অত্যন্ত সুতীক্ষ্ণ প্রশ্ন তুলেছেন মার্কিন সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন। তিনি ক্যামেরার সামনে ঘটে যাওয়া দৃশ্যকে ইঙ্গিত করে বলেন, যেখানে চারপাশের ক্যামেরা সচল রয়েছে এবং বিশ্ববাসী তাকে দেখছে তা জানা সত্ত্বেও একজন জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে ইতামার বেন-গ্যভির আটককৃতদের সাথে এমন প্রকাশ্য ও হিংস্র আচরণ করতে পারেন, সেখানে বন্ধ দরজার পেছনে, জনচক্ষুর আড়ালে থাকা বন্দিশালাগুলোতে ফিলিস্তিনিদের সাথে তারা আসলে কতটা ভয়াবহ নির্যাতন চালায়, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এই নিষ্ঠুর আচরণকে সম্পূর্ণ জঘন্য ও আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী আখ্যা দিয়ে তিনি দাবি করেন, অনেক আগেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উচিত ছিল এই উগ্রপন্থী ইসরাইলি মন্ত্রীর ওপর কঠোর অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা। ডেমোক্র্যাট দলীয় এই দুই মার্কিন সিনেটর দীর্ঘ দিন ধরেই ফিলিস্তিনিদের মৌলিক অধিকার ও মানবিক সহায়তার পক্ষে বিশ্বমঞ্চে অত্যন্ত সোচ্চার ও সাহসী ভূমিকা পালন করে আসছেন। এর আগেও তারা গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি বাহিনীর চালানো অমানবিক অবরোধ ও যুদ্ধের বাস্তব চিত্র নিজের চোখে দেখার জন্য এবং বিশ্ববাসীকে জানানোর জন্য সরাসরি রাফা সীমান্ত পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। মার্কিন সিনেটরদের এমন কঠোর অবস্থানের পর এখন আন্তর্জাতিক মহলে ইসরাইলের যুদ্ধাপরাধ ও বন্দি নির্যাতনের বিষয়টি নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে।উৎস: আল জাজিরা।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল