প্রিন্ট এর তারিখ : ২১ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬
পাসপোর্টে ‘ইসরাইল ব্যতীত’ পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত
স্বাধীন আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার ||
বাংলাদেশি পাসপোর্টে আবারও ফিরে আসছে ‘ইসরাইল ব্যতীত’ লেখাটি। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ই-পাসপোর্ট চালুর পর আন্তর্জাতিক এই ভ্রমণ দলিল থেকে শব্দবন্ধটি বাদ দেওয়া হয়েছিল। তবে দেশের দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতি, জনমত এবং ফিলিস্তিন ইস্যুর প্রতি সংহতি প্রকাশ করে বর্তমান বিএনপি সরকার এই ঐতিহাসিক অবস্থান পুনর্বহাল করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা গেছে, জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি এবং বাংলাদেশের ঐতিহ্যগত কূটনৈতিক অবস্থানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত বছরের ৭ এপ্রিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছিল। সেখানে আগের মতোই বাংলাদেশি পাসপোর্টে ‘ইসরাইল ব্যতীত’ শব্দবন্ধটি ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে ওই সময় কারিগরি ও প্রশাসনিক কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে কূটনৈতিক পাসপোর্ট ছাড়া সাধারণ পাসপোর্টে এটি বড় পরিসরে চালু করা সম্ভব হয়নি। এবার বর্তমান সরকার সব ধরনের পাসপোর্টের ক্ষেত্রে এই নিয়ম বাধ্যতামূলকভাবে কার্যকর করার জন্য শক্ত পদক্ষেপ নিয়েছে।চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে। এরপর থেকেই পাসপোর্টের বেশ কিছু বিষয়ে পরিবর্তন ও সংস্কারের প্রক্রিয়া শুরু হয়। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এপ্রিল এবং চলতি মে মাসের শুরুতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সম্পন্ন করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, সরকারের শীর্ষ মহল থেকে এই পরিবর্তনের বিষয়ে ইতিমধ্যে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে এবং দ্রুতই এটি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে।উল্লেখ্য, ২০২০ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট বা ই-পাসপোর্ট পরিষেবা চালু করা হয়। সেই সময়ই আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের দোহাই দিয়ে পাসপোর্ট থেকে ‘ইসরাইল ব্যতীত’ কথাটি বাদ দেওয়া হয়েছিল। এর আগে বাংলাদেশের প্রচলিত সনাতন ও এমআরপি পাসপোর্টে স্পষ্টভাবে লেখা থাকত, ‘এই পাসপোর্ট বিশ্বের সব দেশের জন্য বৈধ, ইসরাইল ছাড়া’। ই-পাসপোর্ট থেকে এটি বাদ পড়ার পর থেকেই দেশের সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক দল এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন থেকে লেখাটি পুনরায় ফিরিয়ে আনার জোর দাবি উঠে আসছিল।ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সরকারের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী ধাপে ধাপে প্রিন্ট হওয়া নতুন সব পাসপোর্টে এই শব্দবন্ধ যুক্ত করা হবে। তবে এতে পুরোনো পাসপোর্টধারীদের এখনই কোনো ভোগান্তি বা জটিলতায় পড়তে হবে না। বিদ্যমান পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তা যখন নবায়ন করা হবে, তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবেই নতুন সংস্করণের পাসপোর্ট হাতে পাবেন নাগরিকরা। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফিলিস্তিনিদের প্রতি বাংলাদেশের অকুণ্ঠ সমর্থন ও নীতিগত অবস্থান আবারও জোরালোভাবে প্রকাশ পাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল