প্রিন্ট এর তারিখ : ২৩ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২২ মে ২০২৬
ইরানের পারমাণবিক শক্তি গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি ট্রাম্পের
স্বাধীন আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার ||
মধ্যপ্রাচ্যের পরমাণু রাজনীতিতে এক নতুন উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে নিজের কঠোর ও আপসহীন অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, যেকোনো উপায়ে হোক না কেন, তেহরানের কাছে থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের পুরো মজুত ওয়াশিংটন নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেবে।প্রেসিডেন্টের কার্যালয় তথা হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন, বিশ্বের নিরাপত্তার স্বার্থে কোনো অবস্থাতেই ইরানের মাটিতে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রাখতে দেওয়া যাবে না। ইরান যাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে তার প্রশাসন বদ্ধপরিকর। যদি স্বাভাবিক উপায়ে এটি সম্ভব না হয়, তবে দেশটির বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর ও চরম সামরিক বা অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন। মার্কিন জনগণের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, যখন এই বিষয়টি সাধারণ মানুষের সামনে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হবে, তখন দেশের সব নাগরিক একবাক্যে স্বীকার করবেন যে ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রে পরিণত হতে দেওয়া যায় না।সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, সম্ভাব্য কোনো শান্তি চুক্তির আলোচনা চললেও ওয়াশিংটন যে এই বিষয়ে বিন্দুমাত্র ছাড় দেবে না, তা পরিষ্কার করে দিয়েছেন ট্রাম্প। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, কোনো ধরনের শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবেও ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিজেদের ভূখণ্ডে বা হেফাজতে রাখার অধিকার পাবে না। আমেরিকার ওই ইউরেনিয়ামের কোনো ব্যক্তিগত প্রয়োজন বা লোভ নেই, তবে বিশ্বকে ঝুঁকিমুক্ত করতে তারা ওই মজুত যেভাবে হোক কেড়ে নেবে এবং তা হস্তগত করার পর সম্ভবত সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হবে।আমেরিকার এই কঠোর অবস্থানের ঠিক আগেই আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি তাদের উৎপাদিত ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে না পাঠানোর জন্য কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। তবে তেহরান প্রশাসন এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মনগড়া এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার বলে তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।কাতারভিত্তিক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের একজন অত্যন্ত উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এটি মূলত দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির বিরোধিতা করা পক্ষগুলোর একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার। তিনি স্পষ্ট করেন যে, ইরানের অবস্থান শুরু থেকেই অত্যন্ত স্বচ্ছ। তাদের পরিকল্পনা হলো, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার কঠোর নজরদারি ও পরিদর্শনের মধ্যে রেখেই দেশের ভেতরেই এই সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামকে প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে মাত্রা কমিয়ে বেসামরিক ও শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহারের উপযোগী করা হবে। ইরানের ওই কর্মকর্তার ভাষায়, ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানো কোনো সমাধান নয়, বরং দেশের ভেতরেই এর সঠিক ও আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে রূপান্তর করাই হবে আমেরিকার সাথে ভবিষ্যৎ আলোচনার অন্যতম প্রধান শর্ত।তথ্যসূত্র: রয়টার্স
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল