প্রিন্ট এর তারিখ : ২৩ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২২ মে ২০২৬
নির্বাচনী আমেজে মুখর বিসিবি, লড়বেন ৩৯ প্রার্থী
আকাশ মোল্লা, স্টাফ রিপোর্টার ||
মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের পাশে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান কার্যালয়ের সামনে হঠাৎ করেই চেনা ভিড় আর বিলাসবহুল গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। এই দৃশ্যই স্পষ্ট জানান দিচ্ছে যে, দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থার পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন একেবারে দোরগোড়ায়। বিসিবির এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্রিকেট পাড়ায় এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ইতোমধ্যে দুই দিনব্যাপী মনোনয়নপত্র বিতরণের কাজ শেষ হয়েছে। এবারের নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশ নিতে তিনটি ভিন্ন ক্যাটাগরি থেকে মোট ৩৯ জন প্রার্থী মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। এর মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার প্রথম দিনেই ২৩ জন প্রার্থী তাদের কাগজপত্র নির্বাচন কমিশনে জমা দিয়েছেন। বাকি প্রার্থীদের আজ নিজেদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে সব ফরম জমা পড়ার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার আগেই নির্বাচনী সমীকরণে অন্তত তিনজনের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।এবারের বিসিবির এই হাইভোল্টেজ নির্বাচনে জেলা ও বিভাগীয় ক্যাটাগরি তথা ‘এ’ ক্যাটাগরি থেকে সবচেয়ে বেশি ১৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। প্রথম দিন পর্যন্ত এই বিভাগ থেকে আটজন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন এবং বাকি ১১ জন প্রার্থীর ভাগ্য আজ নির্ধারিত হবে। একইভাবে ক্লাব ক্যাটাগরি বা ‘বি’ ক্যাটাগরি থেকেও সমানসংখ্যক অর্থাৎ ১৯টি মনোনয়নপত্র বিক্রি হয়েছিল। যার মধ্যে প্রথম দিনেই ১৪ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিয়েছেন। বাকি পাঁচজনের মধ্যে কারা শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে টিকে থাকবেন, তা আজকের মধ্যেই পরিষ্কার হয়ে যাবে।অন্যদিকে, সবচেয়ে চমকপ্রদ ঘটনা ঘটেছে ‘সি’ বা তিন নম্বর ক্যাটাগরিতে। এই ক্যাটাগরি থেকে মাত্র একজন প্রার্থী সফলভাবে মনোনয়নপত্র জমা দিতে পেরেছেন। প্রকৃতপক্ষে, ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (কোয়াব) থেকে প্রতিনিধি হিসেবে কাউন্সিলর হওয়া সাবেক ক্রিকেটার শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুৎ এই বিভাগ থেকে নির্বাচন করার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন এবং মনোনয়নপত্রও চেয়েছিলেন। কিন্তু বিসিবির বিদ্যমান গঠনতন্ত্র ও নির্বাচনী নিয়ম অনুযায়ী, কোয়াব প্রতিনিধির সরাসরি নির্বাচন করার কোনো সুযোগ নেই। ফলে আইনি জটিলতার কারণে তিনি শেষ পর্যন্ত মনোনয়নপত্র নিতে পারেননি। এর ফলে এই ক্যাটাগরি থেকে একমাত্র বৈধ প্রার্থী হিসেবে সাবেক পরিচালক সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীরের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিসিবির পরিচালক নির্বাচিত হওয়া এখন কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র।তৃণমূল ও আঞ্চলিক ক্রিকেটের সমীকরণেও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার জোরালো আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে রাজশাহী বিভাগ থেকে বগুড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার কাউন্সিলর মীর শাকরুল আলম সীমান্তের পক্ষে একক আধিপত্য দেখা গেছে। এই বিভাগ থেকে অন্য কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ না করায় তার বিনা বাধায় পরিচালক হওয়া নিশ্চিত। একইভাবে সিলেট বিভাগেও সমীকরণটি একেবারে এককেন্দ্রিক। সেখান থেকে সিলেট সিটি করপোরেশনের বর্তমান প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী একমাত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র নিয়েছেন। ফলে এই বিভাগ থেকেও তার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিসিবির নীতিনির্ধারক পর্ষদে বসা চূড়ান্ত। আজ মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময়সীমা পার হওয়ার পরেই নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি ঘোষণা করতে পারবে।বাকি আঞ্চলিক আসনগুলোর মধ্যে ঢাকা বিভাগ থেকে চারজন এবং চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে তিনজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র কিনেছেন। এছাড়া দেশের বাকি তিনটি বিভাগ থেকে আরও নয়জন প্রার্থী এই নির্বাচনী লড়াইয়ে শামিল হয়েছেন। অন্যদিকে, ক্রিকেটাঙ্গনে সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে ক্যাটাগরি দুই বা ক্লাব প্রতিনিধি নিয়ে। এই বিভাগ থেকে বর্তমান অ্যাডহক কমিটির প্রধান ও সাবেক সফল অধিনায়ক তামিম ইকবাল, ফাহিম সিনহা, ইসরাফিল খসরু, সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ এবং মির্জা ইয়াসির আব্বাসসহ অ্যাডহক কমিটির মোট ছয়জন প্রভাবশালী সদস্য মনোনয়নপত্র নিয়েছেন। তাদের পাশাপাশি বিসিবির সাবেক তিন পরিচালক শাহনিয়ান تامین, আমজাদ হোসেন, ফাইয়াজুর রহমান মিতু এবং ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সাল আশিকও নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন। এছাড়া এই তালিকায় আরও যুক্ত হয়েছেন বোরহানুল হক পাপ্পু ও আসিফ রাব্বানীর মতো চেনা মুখেরা।তবে সাধারণ ক্রীড়ামোদী ও ক্রিকেট বোদ্ধাদের মূল আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ক্লাব ক্যাটাগরি তথা ‘বি’ গ্রুপ। এই ক্যাটাগরি থেকে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে মোট ১২ জন পরিচালক নির্বাচিত হবেন। যেহেতু ইতোমধ্যে এই ১২টি আসনের বিপরীতে ১৪ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে দিয়েছেন, তাই এখানে একটি তীব্র ও হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। কোনো প্যানেল বা একক সমঝোতা না হলে এই ক্লাব পাড়ার ভোটই নির্ধারণ করবে বিসিবির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব। সব মিলিয়ে এবারের বিসিবি নির্বাচনে ক্রিকেটপ্রেমীরা একটি দারুণ ও উৎসবমুখর প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখার অপেক্ষায় দিন গুনছেন। আজ দিনের শেষভাগে মনোনয়নপত্র জমার সময় শেষ হলেই চূড়ান্তভাবে জানা যাবে, শেষ পর্যন্ত মাঠের লড়াইয়ে কাঙ্ক্ষিত সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতার দেখা মিলবে কি না।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল