জাতীয় পার্টি (জাপা) ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ সালের মধ্যে দেশের মানুষের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করেছে। এছাড়া জুলাই বিপ্লবের সময় আওয়ামী লীগকে সহযোগিতা করে তারা নিজেদের পুরোনো ইতিহাস উন্মোচন করেছে। এই কারণে তাদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা আইনগতভাবে যাচাই-বাছাই করার কথা জানিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।
শনিবার (৩০ আগস্ট) ঝিনাইদহে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কার্যালয় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যান অ্যাটর্নি জেনারেল। সেখানে সাংবাদিকদের তিনি জানান, নুরুল হক নুরের ওপর হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটি গভীর চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের অংশ।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় পার্টিকে (জাপা) নিষিদ্ধ করার যে দাবি উঠেছে, তার আইনগত দিক যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এর আগে শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের সময় সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের লাঠিপেটায় আহত হন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরসহ অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী।
শনিবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান জানান, লাঠিপেটায় নুরুল হক নুরের নাক ও ডান চোয়ালের হাড় ভেঙে গেছে। তাকে রাতেই হাসপাতালে আনা হলে প্রথমে ক্যাজুয়ালটি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাকে ওয়ান স্টপ ইমার্জেন্সি সেন্টারে রাখা হয় এবং রাতেই আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।
রাতেই পাঁচ বিভাগের চিকিৎসকেরা নিয়ে মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। পরবর্তী চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দেখা গেছে, তার মাথার হাড়, নাক ও ডান চোয়ালের হাড় ভেঙে গেছে। মাথার ভেতরে সামান্য রক্তক্ষরণ হয়েছে, চোখ-মুখ ফোলা এবং চোখে রক্ত জমে আছে। শরীরের অন্যত্র আঘাত দেখা যায়নি।
এই ঘটনার পর জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধের দাবিতে শনিবার ঢাকায় বিক্ষোভ করেছে গণঅধিকার পরিষদ। এছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলায় দলের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন।