রাজধানীর সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এখন থেকে ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্যকারী যানবাহন শনাক্তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) চালিত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ক্যামেরা এবং স্বয়ংক্রিয় ‘ই-প্রসেকিউশন’ সিস্টেমের পূর্ণাঙ্গ ব্যবহার শুরু হয়েছে। এই আধুনিক প্রযুক্তির আওতায় সড়কের সিগন্যালে কোনো পুলিশ সদস্য উপস্থিত না থাকলেও আইন অমান্যকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে।ডিএমপি সূত্র জানিয়েছে, শাহবাগ, বিজয় সরণি, কারওয়ান বাজার ও বাংলামোটরসহ রাজধানীর প্রায় ২৫টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মোড়কে এই বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। গভীর রাতে জনশূন্য রাস্তায় ট্রাফিক সংকেত উপেক্ষা করে পার হওয়ার চেষ্টা করলেও রাস্তার কোণে স্থাপিত সেন্সরযুক্ত ক্যামেরা মুহূর্তেই সংশ্লিষ্ট যানবাহনের নম্বর প্লেট স্ক্যান করে নিচ্ছে। এর পরপরই স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলার রশিদ এবং জরিমানার তথ্য গাড়ির মালিকের নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে খুদে বার্তার মাধ্যমে পৌঁছে যাচ্ছে। ডিজিটাল এই নজরদারি ব্যবস্থায় কোনো প্রকার মানবিক হস্তক্ষেপ বা তদ্বিরের সুযোগ নেই, যা মূলত ট্রাফিক আইন প্রয়োগে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই চালু করা হয়েছে।সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ অনুযায়ী, এআই ক্যামেরার মাধ্যমে লাল সংকেত অমান্য, জেব্রা ক্রসিংয়ে গাড়ি থামানো, উল্টো পথে চলাচল, হেলমেটবিহীন মোটরবাইক চালানো, অতিরিক্ত যাত্রী বহন কিংবা চালনারত অবস্থায় মোবাইল ফোন ব্যবহারের মতো অপরাধগুলো শনাক্ত করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে সিগন্যাল অমান্যের দায়ে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা এবং বেপরোয়া গতির জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) এবং পুলিশের সমন্বিত ডাটাবেজ ব্যবহারের ফলে যেসব যানবাহনের ফিটনেস বা ট্যাক্স টোকেন মেয়াদোত্তীর্ণ, সেগুলোকেও এই স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরা নিমিষেই চিহ্নিত করতে সক্ষম হচ্ছে।কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে দিয়ে জানিয়েছে, জরিমানার অর্থ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ না করলে সংশ্লিষ্ট গাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে আদালতের পরোয়ানা জারির আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। একইসঙ্গে ড্রাইভিং লাইসেন্সের পয়েন্ট কর্তনের প্রক্রিয়াও বিআরটিএ-এর সাথে যৌথভাবে কার্যকর করা হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে গাড়ির মালিকদের তাদের বর্তমান মোবাইল নম্বর বিএসপি পোর্টালে হালনাগাদ করার এবং চালকদের আইন মেনে চলার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আধুনিক এই প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার মাধ্যমে ঢাকার সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকাংশে হ্রাস করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।