ইরানের ইয়াজদ প্রদেশের একটি জনবহুল আবাসিক এলাকায় মাটির গভীরে পুঁতে থাকা বিশাল এক অবিস্ফোরিত ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমা সফলভাবে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলা চলাকালীন এই শক্তিশালী বোমাটি নিক্ষিপ্ত হয়েছিল। লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করলেও কোনো কারণে এটি বিস্ফোরিত হয়নি, বরং মাটির প্রায় ৪৩ ফুট (১৩ মিটার) গভীরে ঢুকে গিয়ে এক ভয়াবহ ঝুঁকি তৈরি করেছিল। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এবং স্থানীয় বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের সদস্যরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যৌথ অভিযান চালিয়ে কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই বোমাটি সরিয়ে নিতে সক্ষম হন।এদিকে, এই যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইরান তাদের সামরিক শক্তি নিয়ে নতুন বার্তা দিয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, চলমান সংঘাতে তারা তাদের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার খুব সামান্য অংশই ব্যবহার করেছে এবং বিশাল একটি অংশ এখনো অব্যবহৃত রয়ে গেছে। বর্তমানে তেহরান যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলায় উচ্চপর্যায়ের রক্ষণাত্মক ও পাল্টা আঘাত হানার জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি বজায় রেখেছে বলে জানিয়েছে ইরানি সংবাদমাধ্যম ‘প্রেস টিভি’।প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রেজা তালাই-নিকের ভাষ্যমতে, ইরান বর্তমানে দেশীয় প্রযুক্তিতে এক হাজারেরও বেশি ধরনের অত্যাধুনিক অস্ত্র উৎপাদন করছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা কয়েক হাজার প্রতিষ্ঠান এই উৎপাদন প্রক্রিয়ায় সরাসরি যুক্ত। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, শত্রুপক্ষের হামলায় কোনো স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তাদের অস্ত্র উৎপাদন ব্যবস্থা সচল রাখার মতো সক্ষমতা ইরানের রয়েছে। এছাড়া কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি শক্তিশালী হাতিয়ার, যা ব্যবহারের মাধ্যমে দেশটি পার্শ্ববর্তী জলসীমার পরিস্থিতির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব বিস্তার করে আসছে। এই সামরিক প্রস্তুতি এবং ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান ইরানকে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।