রাজধানীর পল্লবীতে মাত্র সাত বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে সারা দেশে। নিস্পাপ এই শিশুর ওপর চালানো এমন জঘন্য ও বর্বরোচিত সহিংসতার বিরুদ্ধে দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছেন। নরপশুদের এমন পৈশাচিকতার দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোর বিচারের দাবিতে ফুঁসছে সর্বস্তরের জনগণ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অপরাধীর দ্রুততম সময়ে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিতে সরাসরি পল্লবী থানা ঘেরাও করে তীব্র প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন।বৃহস্পতিবার সকালে পল্লবী এলাকায় নিহত রামিসার বাসভবনের সম্মুখভাগে সমবেত হয়ে তার সহপাঠী, খেলার সাথি এবং স্থানীয় বাসিন্দারা এক বিশাল বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এ সময় উপস্থিত কোমলমতি শিশুদের কান্না এবং বড়দের ক্ষোভের চিৎকারে চারপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীরা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এই ধরনের জঘন্য অপরাধের বিচার যদি প্রচলিত দীর্ঘমেয়াদি আইনি প্রক্রিয়ায় আটকে থাকে, তবে অপরাধীরা পার পেয়ে যাবে। তাই কোনো ধরনের সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে এই নরকীয় হত্যাকাণ্ডের চূড়ান্ত ফায়সালা করার জন্য তারা সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানান।এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া বেশ কিছু ভিডিও চিত্রে দেখা গেছে, রামিসা হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভ পল্লবী থানার প্রধান ফটকের সামনে গিয়ে আছড়ে পড়ে। এক পর্যায়ে উত্তেজিত ও শোকার্ত জনতা নিরাপত্তার বেষ্টনী ভেঙে থানার ভেতরে পর্যন্ত ঢুকে পড়েন। সেখানে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভকারীরা স্লোগানে স্লোগানে চারপাশ প্রকম্পিত করে তোলেন। তাদের প্রধান দাবি ছিল, রামিসা হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা ও প্রধান আসামি সোহেল রানাকে কোনোভাবেই যেন সাধারণ কয়েদির মতো কেবল কারাগারে বন্দি রেখে সময় পার করতে না দেওয়া হয়, বরং আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে অবিলম্বে তাকে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে।এই অমানবিক ও নৃশংস ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এবং হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে রাজধানীর রাজপথে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর উত্তরের মহিলা বিভাগ। এই প্রতিবাদী মানববন্ধনে অংশ নেওয়া নারী নেত্রীরা বলেন, সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা আজ চরম হুমকির মুখে পড়েছে। রামিসা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত মূল অপরাধী সোহেল রানা ও তার সহযোগীদের অনতিবিলম্বে ফাঁসির কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো অপরাধী এমন জঘন্য কাজ করার সাহস না পায়।এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ কেবল রাজধানীর বুকেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা ছড়িয়ে পড়েছে ঢাকার বাইরেও। ঢাকার দূরবর্তী জেলা নোয়াখালীতেও শিশু রামিসাকে উনবিংশ শতাব্দীর বর্বরতাকেও হার মানানো কায়দায় ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে বিশাল মানববন্ধন এবং প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে সর্বস্তরের মানুষ ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে খুনিদের দ্রুত বিচার দাবি করেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে একযোগে দাবি উঠেছে যে, কন্যাশিশুদের স্বাভাবিক ও নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করতে হলে বর্তমান সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও অনেক বেশি কঠোর ও দৃশ্যমান ভূমিকা পালন করতে হবে। মামলার তদন্ত যেন কোনোভাবেই প্রভাবিত না হয়, তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে দেশবাসী এখন এই পৈশাচিক ঘটনার চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায় দিন গুনছেন।