পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেছেন, দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা পুনঃস্থাপন এখন সবচেয়ে জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য অনেক মানুষ বিদেশে যাচ্ছেন, যার ফলে বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশের বাইরে যাচ্ছে। কিন্তু আদৌ উচিত ছিল, দেশের ভেতরই এমন স্বাস্থ্যসেবা গড়ে তোলা যাতে মানুষ নিজের দেশেই চিকিৎসা নিতে আগ্রহী হয়।
শনিবার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে দৈনিক বণিক বার্তা আয়োজিত ‘বাংলাদেশ হেলথ কনক্লেভ–২০২৫’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মাহমুদ অনলাইনের মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে বক্তৃতা দেন।
তিনি বলেন, দেশে বড় হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য অবকাঠামো থাকলেও প্রয়োজনীয় ডাক্তার নেই, ডাক্তার আছে নার্স নেই। ফলে দক্ষ জনবল সংকটে সাধারণ মানুষ মানসম্মত চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না।
ড. মাহমুদ আরও বলেন, শুধু অবকাঠামো তৈরি করলেই স্বাস্থ্য খাত উন্নত হবে না; জনবল এবং ব্যবস্থাপনার সমন্বয় নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি জানান, স্বাস্থ্য খাতে যারা বিনিয়োগ করছেন, তারা সাধারণ মানুষের জন্য কমমূল্যের ক্লিনিক তৈরি করতে পারেন। সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগের সমন্বয় স্বাস্থ্য খাতকে আরও শক্তিশালী করবে।
তিনি উল্লেখ করেন, দেশের অনেক বড় সরকারি স্বাস্থ্য অবকাঠামো বর্তমানে অপ্রয়োজনীয়ভাবে অক্রিয় রয়েছে। এগুলো বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিয়ে স্বাস্থ্য খাতকে আরও বিস্তৃতভাবে উন্নত করা সম্ভব।
পরিকল্পনা উপদেষ্টা পুনরায় বলেন, “স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়া সঠিক নয়। দেশের নিজস্ব সক্ষমতা বাড়িয়ে মানুষকে দেশেই চিকিৎসা নিতে আগ্রহী করতে হবে। এতে শুধু জনগণই সুবিধা পাবে না, দেশের অর্থনীতি ও স্বাস্থ্য খাতও শক্তিশালী হবে।”
ড. মাহমুদ স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, স্বাস্থ্য খাতকে শক্তিশালী ও সেবামুখী করে দেশে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব। এজন্য সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়, দক্ষ জনবল নিশ্চিত করা এবং মানসম্মত কমমূল্যের ক্লিনিক স্থাপন একান্ত প্রয়োজন।