কিশোরগঞ্জ শহরের নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স খুলে পাওয়া গেছে রেকর্ড পরিমাণ টাকা। সাধারণত তিন মাস অন্তর দানবাক্স খোলা হলেও এবার চার মাস ১৭ দিন পর শনিবার (৩০ আগস্ট) সকাল ৭টায় ১৩টি লোহার দানবাক্স খোলা হয়। সেখান থেকে মোট ৩২ বস্তা টাকা, বৈদেশিক মুদ্রা এবং সোনার গয়না উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে চলছে গণনার কাজ।
কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফৌজিয়া খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এবার রেকর্ডসংখ্যক ৩২ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে। ব্যাংক কর্মকর্তা, মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ প্রায় ৫০০ জন এ গণনার কাজে অংশ নিচ্ছেন।
এর আগে, গত ১২ এপ্রিল খোলা হয়েছিল ১১টি দানবাক্স। তখন পাওয়া গিয়েছিল ৯ কোটি ১৭ লাখ ৮০ হাজার ৬৮৭ টাকা, সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালংকার। তারও আগে গত বছরের ৩০ নভেম্বর ২৯ বস্তা টাকা গুনে পাওয়া গিয়েছিল ৮ কোটি ২১ লাখ ৩৪ হাজার ৩০৪ টাকা। আর গত বছরের ১৭ আগস্ট ৯টি দানবাক্স থেকে উঠেছিল ৭ কোটি ২২ লাখ ১৩ হাজার ৪৬ টাকা।
শনিবার সকালে জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরীসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলো খোলা হয়। পরে টাকাগুলো ৩২ বস্তায় ভরে মসজিদের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে গণনা শুরু হয়। গণনায় অংশ নিয়েছেন রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী, ঐতিহাসিক জামিয়া ইমদাদিয়া মাদ্রাসার ২২০ জন ও পাগলা মসজিদের নুরুল কোরআন হাফিজিয়া মাদ্রাসার ১২০ জন ছাত্র, ব্যাংক কর্মকর্তা ১০০ জন, মসজিদ কমিটির সদস্য এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
স্থানীয়দের বিশ্বাস, এই মসজিদে মানত করলে মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হয়। তাই ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই এখানে দান করে থাকেন। দানকারীরা শুধু টাকা-পয়সা নয়, স্বর্ণ-রুপার অলংকার, বৈদেশিক মুদ্রা, এমনকি গরু, ছাগল ও হাঁস-মুরগিও দেন। বিশেষ করে শুক্রবারগুলোতে দেশের নানা প্রান্ত থেকে ভক্তরা মানত নিয়ে মসজিদে আসেন।
প্রায় আড়াইশ বছরের পুরনো এ মসজিদটি কিশোরগঞ্জ শহরের ঐতিহাসিক নিদর্শনের মধ্যে অন্যতম। প্রথমে ১০ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত হলেও বর্তমানে মসজিদ কমপ্লেক্সের আয়তন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ একর ৮৮ শতাংশে। এরই মধ্যে মসজিদটি দেশের অন্যতম আয়ের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। মসজিদের দান থেকে প্রাপ্ত অর্থ জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসা, এতিমখানা ও সমাজকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা হয়। করোনাকালে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্বেচ্ছাসেবকদেরও এ তহবিল থেকে সহযোগিতা করা হয়েছিল।
পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটি জানিয়েছে, এখানে একটি আন্তর্জাতিক মানের ইসলামিক কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আনুমানিক ১১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ কমপ্লেক্সে একসঙ্গে ৩০ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন।