রংপুরের তারাগঞ্জে মব সৃষ্টি করে গণপিটুনিতে নিহত রূপলাল দাসের ছেলে, নবম শ্রেণির ছাত্র জয় দাস (১৪), বাবার পেশা মুচির কাজ বেছে নিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, “বাবা বেঁচে থাকলে হয়তো এত তাড়াতাড়ি এই কাজে আসতে হতো না। বাবাকে মিথ্যা অপবাদে হত্যা করার কারণে আমরা এতিম হয়ে গেছি। এখন আমার দায়িত্ব দাদি, মা ও দুই বোনকে দেখাশোনা ও ভরণপোষণ করা।”
শুক্রবার জয় তারাগঞ্জের জুতাপট্টির সামনে বসে বাবার জুতা সেলাইয়ের কাজ করছিলেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা তাকে সমবেদনা জানিয়ে সাহস দিয়েছেন। জয় বলেন, “ইচ্ছা ছিল পড়াশোনা করে মানুষের মতো মানুষ হবার, কিন্তু বাবাহীন অভাবের সংসারে তা আর হলো না। যারা আমাদের এতিম করেছে, তাদের বিচার চাই।”
পার্শ্ববর্তী দোকানদাররা জানান, রূপলাল দাস একজন নিরীহ মানুষ ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে বাজারে মুচির কাজ করতেন, কিন্তু কারও সঙ্গে বিবাদে জড়াতেন না। দুর্বৃত্তদের মারধরে তাঁর মৃত্যু পরিবারকে পথে বসিয়েছে।
রূপলাল দাসের সংসারে বৃদ্ধা মা, স্ত্রী ভারতী রানী ও পাঁচ সন্তান ছিলেন। তিনি মুচির কাজ থেকে সংগ্রহ করা টাকা দিয়ে বড় মেয়ে নুপুর দাসের বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল। ৯ আগস্ট প্রদীপ লালকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়দের সন্দেহে গণপিটুনিতে রূপলাল ও প্রদীপ নিহত হন।
এই ঘটনায় রূপলালের স্ত্রী ভারতী রানী ৭০০ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তারাগঞ্জ থানার পুলিশ এ পর্যন্ত ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং অন্যদের গ্রেপ্তারেও অভিযান চলছে।