চীনের আয়োজনে অনুষ্ঠিতব্য সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শনিবার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যায় তিয়ানজিনে পৌঁছেছেন। রবিবার ও সোমবার উত্তরাঞ্চলীয় বন্দরনগরী তিয়ানজিনে এই সম্মেলনে ২০টিরও বেশি দেশের শীর্ষ নেতা উপস্থিত থাকবেন।
সম্মেলনের কয়েক দিন পর বেইজিংয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজন করা হবে বিশাল সামরিক কুচকাওয়াজ।
২০১৮ সালের পর এটাই মোদির প্রথম চীন সফর। এর আগে তিনি জাপান সফর করেছেন, যেখানে ভারতকে ৬৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দেশটি।
চীন ও ভারত পৃথিবীর দুই বৃহত্তম জনবহুল রাষ্ট্র এবং দক্ষিণ এশিয়ায় প্রভাব বিস্তারে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আসছে। ২০২০ সালে সীমান্ত সংঘর্ষের পর দুই দেশের সম্পর্ক প্রায় ভেঙে পড়ে। তবে গত অক্টোবরে রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত এক শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে মোদি ও প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকের মাধ্যমে সম্পর্ক কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
বর্তমানে এসসিওতে চীন, ভারত, রাশিয়া, পাকিস্তান ও ইরানসহ ১০টি দেশ সদস্য হিসেবে রয়েছে, পাশাপাশি ১৬টি দেশ সংলাপ অংশীদার ও পর্যবেক্ষক হিসেবে যুক্ত আছে। সম্মেলনের পাশাপাশি একাধিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
শনিবার থেকেই চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং অতিথি রাষ্ট্রনেতাদের অভ্যর্থনা জানাতে শুরু করেছেন। এই সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ানও উপস্থিত থাকবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এবারের এসসিও শুধু আঞ্চলিক সহযোগিতার দিক থেকে নয়, বরং ভবিষ্যতে চীন-ভারত সম্পর্ক কোন পথে যাবে সেটি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।