চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে দারোয়ান মারধর করার ঘটনার জেরে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এতে অন্তত ৫০ জনের বেশি শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ২০ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) পাঠানো হয়।
শনিবার (৩০ আগস্ট) রাত দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেটসংলগ্ন এলাকায় এই সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাত সাড়ে ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সেনা মোতায়েন করা হয়।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন আরবি বিভাগের ফুয়াদ হাসান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শাওন, ইতিহাস বিভাগের তাহসান হাবিব, লোকপ্রশাসন বিভাগের আশরাফুল ইসলাম রাতুল, গণিত বিভাগের লাবিব, ইংরেজি বিভাগের হাসান জুবায়ের হিমেল, অর্থনীতি বিভাগের নাহিন মুস্তফা, ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের আল-মাসনুন, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের আশিকুল ইসলাম, দর্শন বিভাগের মাইনুল ইসলাম মাহিন, সমাজতত্ত্ব বিভাগের হুমায়ুন কবির, দর্শন বিভাগের তামিম, ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের রিদুয়ান, অ্যাকাউন্টিং বিভাগের রিফাত ও রিপন, বাংলা বিভাগের সাইদুল ইসলাম এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ইয়েনসহ আরও অনেকে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারের সিনিয়র মেডিক্যাল অফিসার ডা. মোহাম্মদ টিপু সুলতান ঘটনাটি নিশ্চিত করে জানান, রাত দেড়টার পর থেকে একে একে আহত শিক্ষার্থীরা চিকিৎসা নিতে আসতে শুরু করেন। একাই প্রায় ৬০ জন আহত শিক্ষার্থীকে সামাল দিতে হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। পর্যাপ্ত লোকবল ও সরঞ্জাম না থাকায় অনেক শিক্ষার্থীকে যথাযথ সেবা দেওয়া সম্ভব হয়নি, এমনকি অক্সিজেনও শেষ হয়ে গিয়েছিল। গুরুতর আহত ৫–৭ জনকে চমেকে পাঠানো হয়েছে।
সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে রাত ১১টা ২০ মিনিটের দিকে। ওই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের প্রথম বর্ষের এক নারী শিক্ষার্থী বাসায় ফিরলে দারোয়ান তাকে ঢুকতে বাধা দেন। পরে অন্যান্য ছাত্রীদের চাপের মুখে গেট খোলেন দারোয়ান। এ সময় হাতাহাতির এক পর্যায়ে তিনি ওই শিক্ষার্থীকে মারধর করেন এবং গায়ে হাত তোলেন।
ভুক্তভোগী ছাত্রী জানান, “আমি নিয়মিত রাত ১২টার মধ্যে ঢুকতে পারি। কিন্তু দারোয়ান আমাকে দীর্ঘক্ষণ বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখে। পরে রুমমেটরা চাপ দিলে তিনি গেট খোলেন এবং আমার গায়ে হাত তোলেন।”
এই ঘটনার পর ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন হল থেকে বেরিয়ে আসে। স্থানীয়রা মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোক জড়ো করলে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, স্থানীয়দের আক্রমণে শিক্ষার্থীরা বেধড়ক মারধর ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্যাম্পাসে আগেও স্থানীয়দের হাতে শিক্ষার্থীরা আহত হলেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এবারও যদি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া না হয় তবে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ আরও বাড়বে বলে তারা হুঁশিয়ারি দেন।