দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে জাতীয় পার্টি। তিন মাস আগে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের পর এবার জাতীয় পার্টির নিষিদ্ধের সম্ভাবনা নিয়ে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে।
২৯ আগস্ট রাজধানী ঢাকায় গণঅধিকার পরিষদ ও জাতীয় পার্টির কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। পরবর্তীতে গণঅধিকার পরিষদের সমাবেশে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর হামলায় দলটির সভাপতি নুরুল হক নুরসহ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন। একই রাতে ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার (৩০ আগস্ট) এক প্রতিবাদ সমাবেশে গণঅধিকার পরিষদ জাতীয় পার্টিকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছে। তারা নুরের ওপর হামলার ঘটনার তদন্তে কমিটি গঠন ও হামলার দায়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগেরও দাবি জানিয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে এখনো জাতীয় পার্টিকে নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট মন্তব্য করা হয়নি। তবে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, জাতীয় পার্টির “নিষিদ্ধের আইনগত দিক খতিয়ে দেখার” বিষয়টি তারা যাচাই করবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নুরুল হক নুরের ওপর হামলার পর জাতীয় পার্টির ওপর চাপ বৃদ্ধি পাবে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, হামলায় পুলিশ ও সেনাবাহিনী অংশ নিয়েছে। অনেকে মনে করছেন, এই সুযোগকে জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।
জাতীয় পার্টি নিজের মধ্যেকার বিভাজনের কারণে চাপে রয়েছে। জুলাই মাসে দলের মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু ও দুই জ্যেষ্ঠ নেতা আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এবং রহুল আমীন হাওলাকে চেয়ারম্যান জিএম কাদের অব্যাহতি দিয়েছেন। মহাসচিব পদে বসেছেন ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী। আগস্টে বহিস্কৃত নেতারা নতুন কমিটি তৈরি করে নির্বাচন কমিশনে জমা দিয়েছেন।
ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, “আমাদের নিষিদ্ধ করার কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। আমরা জুলাই বিপ্লবে সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি। নির্বাচনে অংশগ্রহণ কোনো অপরাধ নয়। তবে আমরা চাপের মুখে আছি।” তিনি আরও জানান, জাতীয় পার্টি মবের শিকার এবং তারা সকলের অংশগ্রহণে নির্বাচনের পক্ষেই রয়েছে।
জাতীয় পার্টি থেকে বহিস্কৃত অংশ নিজেকে মূল জাতীয় পার্টি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। মুজিবুল হক চুন্নু জানান, নুরের ওপর হামলার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই এবং তারা তা তীব্রভাবে নিন্দা জানায়।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, ২৯ আগস্ট রাত ৮টায় কাকরাইল এলাকায় দুই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন হয়। সংঘর্ষের সময় কয়েকজন আহত হন।
অন্তর্বর্তী সরকার নুরুল হক নুর এবং আহত অন্যান্য নেতাকর্মীদের চিকিৎসার জন্য বিশেষ মেডিকেল বোর্ড গঠন করেছে। প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব জানান, ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।