ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে আজ রোববার বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির সঙ্গে বৈঠকে বসবেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বিকেল ৩টায় বিএনপি, সাড়ে ৪টায় জামায়াত এবং সন্ধ্যা ৬টায় এনসিপির সঙ্গে আলোচনা হবে। শনিবার বিকেলে যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তাঁর প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
গত ২২ জুলাই বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে সর্বশেষ বৈঠক করেছিলেন ইউনূস। এর আগের দিন বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনার পর দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে আহ্বান জানান তিনি। এরপর দুই দিনে আরও ২৫টি দল ও জোটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে একই বার্তা দেন।
শেখ হাসিনার পতনের পর গত বছরের ৮ আগস্ট দায়িত্ব নেয় ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। দায়িত্ব নেওয়ার তিন দিন পরই তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রথম বৈঠক করেন। তারপর থেকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলেই তিনি দলগুলোকে ডেকে আলোচনা করেছেন। গত এক বছরে বিএনপি ও জামায়াত প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে পাঁচবার করে বৈঠক করেছে।
গত শুক্রবার জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে সংঘর্ষের ঘটনায় গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর গুরুতর আহত হন। মাথায় আঘাত ও নাকের হাড় ভাঙার পরিপ্রেক্ষিতে আবারও রাজনৈতিক দলগুলোকে আলোচনায় ডাকেন ইউনূস। এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বৈঠকে যোগ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের বলেন, নির্বাচনের সময় নিয়ে তাদের আপত্তি নেই, তবে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও পিআর পদ্ধতিতে ভোট আয়োজন জরুরি।
সরকার জানিয়েছে, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা কেউ কেউ বললেও প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব স্পষ্ট করে বলেন, নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন হবে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদও জানিয়েছেন, ফেব্রুয়ারির ভোট ঠেকাতে আল্লাহ ছাড়া কারও পক্ষে সম্ভব নয়।
শনিবার যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান ও স্বরাষ্ট্রবিষয়ক বিশেষ সহকারী খোদা বখস চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। সেখানে নুরের ওপর হামলার ঘটনা নিয়েও আলোচনা হয়।
প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর এক বিবৃতিতে বলেছে, নির্বাচনের পথে যেকোনো বাধা, ষড়যন্ত্র বা বিঘ্ন দৃঢ়ভাবে প্রতিহত করা হবে। জনগণের ইচ্ছা জয়ী হবে, কোনো শক্তিকে গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা রুখতে দেওয়া হবে না।