হঠাৎ করেই কড়াকড়ি অবস্থান নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিশেষ করে সড়ক অবরোধ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মতো কর্মসূচি দমনে পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনীর কঠোর তৎপরতা চোখে পড়ছে। গত কয়েক মাস তুলনামূলক শিথিল অবস্থান নিলেও সম্প্রতি তাদের কঠোর মনোভাব স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান।
বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এবার আর কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। বিশেষত দলবদ্ধ সহিংসতা বা মব ভায়োলেন্সের মতো ঘটনায় শূন্য সহনশীলতার বার্তা দেওয়া হয়েছে মাঠপর্যায়ের বাহিনীর কাছে। সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে যে কোনো মূল্যে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার নির্দেশনা রয়েছে। পাশাপাশি আইনানুগ কাঠামোর মধ্যেই ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
গত শনিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠকেও এ বিষয়ে জোর দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায়ও পুলিশের এই কঠোর অবস্থান প্রতিফলিত হয়েছে। যেমন, গত বুধবার শাহবাগে বুয়েট ও অন্যান্য প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অবরোধ করলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। সেখানে টিয়ার গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ও লাঠিচার্জের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এতে প্রায় ৬০ শিক্ষার্থী ও পুলিশের আট সদস্য আহত হন। এ ঘটনার একটি বিতর্কিত ছবি ঘিরে সমালোচনা ছড়ালেও পরে ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠানগুলো নিশ্চিত করেছে সেটি সত্য।
এছাড়া গত শুক্রবার কাকরাইলে গণঅধিকার পরিষদের কর্মসূচিতেও লাঠিচার্জ করে পুলিশ। এতে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হন। গুরুতর আহত হন সংগঠনটির সভাপতি ও সাবেক ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর, যিনি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “হার্ডলাইন বা সফটলাইন নয়—পুলিশ কেবল আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।” তিনি আরও জানান, বুয়েটের ঘটনায় তদন্ত চলছে এবং গণঅধিকার পরিষদের ঘটনার বিষয়েও তদন্ত কমিটি গঠন হচ্ছে।
পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, জনসমাগমে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে প্রথমে অনুরোধ, পরে ধাওয়া, তারপর জলকামান ব্যবহার করা হয়। তবুও নিয়ন্ত্রণ না হলে লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস প্রয়োগ করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে বারবার এই সর্বশেষ পদক্ষেপ নিতে হয়েছে।
এ ছাড়া রাজধানীসহ সারা দেশে টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ফলে শুধু রাজনৈতিক সহিংসতাই নয়, চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির মতো অপরাধও কমে এসেছে বলে পুলিশের দাবি।