কৌশলগতভাবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দাবি করে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার হাজি বাবাই জানিয়েছেন, এখন থেকে এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী নৌযানগুলোকে ইরানের জাতীয় মুদ্রা ‘রিয়ালে’ টোল পরিশোধ করতে হবে।
সম্প্রতি মেহের নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই চাঞ্চল্যকর ঘোষণা দেন।
ডেপুটি স্পিকার হাজি বাবাই স্পষ্ট করে বলেন, ইরানের পার্লামেন্টের ২৫০ জন সদস্য সর্বসম্মতভাবে এই টোল আদায়ের পরিকল্পনা সমর্থন করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, দেশটির সর্বোচ্চ নেতৃত্বের নির্দেশনা অনুযায়ী এই নৌপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কারো সাথেই কোনো আপস করা হবে না। ইরানি জাতি তাদের অধিকারের প্রশ্নে ‘এক ইঞ্চিও পিছু হটবে না’ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা চ্যালেঞ্জ করে ডেপুটি স্পিকার দাবি করেন, ইরানের তেল এখন কার্যত নিষেধাজ্ঞামুক্ত। বর্তমানে দেশটির তেল রপ্তানি প্রতিদিন ১৬ লাখ ব্যারেল ছাড়িয়ে গেছে। তার মতে, বৈশ্বিক চাপের মুখেও ইরানের অর্থনীতি ও জ্বালানি খাত নিজেদের অবস্থান সুসংগত করতে সক্ষম হয়েছে।
বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রতিবাদে ইরান এই পথটি কার্যত বন্ধ করে দিলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়। গত সপ্তাহে স্বাক্ষরিত দুই সপ্তাহের শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে প্রণালিটি পুনরায় উন্মুক্ত করা ছিল ওয়াশিংটনের প্রধান দাবি।
বিশ্লেষকদের মতে, তেলের এই উচ্চমূল্য আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের জন্য বড় রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা প্রণালি থেকে মাইন অপসারণের প্রস্তুতি শুরু করেছেন এবং দুটি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার সেখানে মোতায়েন করা হয়েছে। তবে ইরান ওই এলাকায় মার্কিন রণতরীর উপস্থিতির দাবি নাকচ করে দিয়েছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।

রোববার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ এপ্রিল ২০২৬
কৌশলগতভাবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দাবি করে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার হাজি বাবাই জানিয়েছেন, এখন থেকে এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী নৌযানগুলোকে ইরানের জাতীয় মুদ্রা ‘রিয়ালে’ টোল পরিশোধ করতে হবে।
সম্প্রতি মেহের নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই চাঞ্চল্যকর ঘোষণা দেন।
ডেপুটি স্পিকার হাজি বাবাই স্পষ্ট করে বলেন, ইরানের পার্লামেন্টের ২৫০ জন সদস্য সর্বসম্মতভাবে এই টোল আদায়ের পরিকল্পনা সমর্থন করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, দেশটির সর্বোচ্চ নেতৃত্বের নির্দেশনা অনুযায়ী এই নৌপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কারো সাথেই কোনো আপস করা হবে না। ইরানি জাতি তাদের অধিকারের প্রশ্নে ‘এক ইঞ্চিও পিছু হটবে না’ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা চ্যালেঞ্জ করে ডেপুটি স্পিকার দাবি করেন, ইরানের তেল এখন কার্যত নিষেধাজ্ঞামুক্ত। বর্তমানে দেশটির তেল রপ্তানি প্রতিদিন ১৬ লাখ ব্যারেল ছাড়িয়ে গেছে। তার মতে, বৈশ্বিক চাপের মুখেও ইরানের অর্থনীতি ও জ্বালানি খাত নিজেদের অবস্থান সুসংগত করতে সক্ষম হয়েছে।
বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রতিবাদে ইরান এই পথটি কার্যত বন্ধ করে দিলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়। গত সপ্তাহে স্বাক্ষরিত দুই সপ্তাহের শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে প্রণালিটি পুনরায় উন্মুক্ত করা ছিল ওয়াশিংটনের প্রধান দাবি।
বিশ্লেষকদের মতে, তেলের এই উচ্চমূল্য আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের জন্য বড় রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা প্রণালি থেকে মাইন অপসারণের প্রস্তুতি শুরু করেছেন এবং দুটি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার সেখানে মোতায়েন করা হয়েছে। তবে ইরান ওই এলাকায় মার্কিন রণতরীর উপস্থিতির দাবি নাকচ করে দিয়েছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।

আপনার মতামত লিখুন