রাজধানী ঢাকার অসহনীয় যানজট নিরসনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে ১১ দফা প্রস্তাবনা পেশ করেছে ‘ঢাকা যানজট নিরসন কমিটি’। রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি মো. ইছহাক দুলাল এসব প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে কমিটির সভাপতি আবু ইছহাক দুলাল এক লিখিত বক্তব্যে জানান, কমলাপুর থেকে টঙ্গী পর্যন্ত ২৪টি লেভেল ক্রসিংয়ের কারণে প্রতিদিন গড়ে ১২ ঘণ্টা ১৪ মিনিট যানচলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। তিনি পরিসংখ্যান দিয়ে বলেন, প্রতিদিন আসা-যাওয়া মিলিয়ে ১০৪টি ট্রেনের জন্য গড়ে ৭ মিনিট করে হিসাব করলে দেখা যায়, শুধুমাত্র ট্রেন চলাচলের কারণেই দিনের অর্ধেক সময় রাস্তা বন্ধ থাকে। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কমলাপুর থেকে টঙ্গী পর্যন্ত বাইপাস রেলপথ অথবা উড়াল সেতু নির্মাণের দাবি জানায় সংগঠনটি।
কমিটির পক্ষ থেকে উত্থাপিত উল্লেখযোগ্য প্রস্তাবনাগুলো হলো:
জলপথ সংস্কার: ঢাকার খালগুলো সংস্কার করে স্পিডবোট, ওয়াটার বাস ও ছোট লঞ্চ চালু করা।
মিনি রেলপথ ও রিং রোড: ঢাকার চারদিকে নদী ঘেঁষে ট্রাম রোড (মিনি রেলপথ) এবং এর পাশাপাশি একটি রিং রোড নির্মাণ।
টার্মিনাল স্থানান্তর: সায়দাবাদ বাস টার্মিনালকে কাঁচপুরে, মহাখালীকে টঙ্গীতে এবং বাবুবাজার বাস স্ট্যান্ডকে কেরানীগঞ্জে স্থানান্তর করা।
নগর পরিবহন: সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে ভর্তুকি মূল্যে এসি ও নন-এসি ‘নগর পরিবহন’ সেবা চালু করা।
জ্বালানি ব্যবস্থাপনা: সিএনজি অটোরিকশা ছাড়া অন্য কোনো প্রাইভেট গাড়িতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে সেই গ্যাস রপ্তানিমুখী শিল্পে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া।
অন্যান্য: ঢাকার চারপাশে ১০০ কিলোমিটার ট্রেন চালু করা, ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং জেল ও আদালত ভবন একই স্থানে স্থাপন করা।
সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ট্রাফিক পুলিশের এসআই থেকে সহকারী কমিশনার পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন ইছহাক দুলাল। প্রয়োজনে বুয়েটের কারিগরি সহযোগিতা এবং চালকদের জন্য মাসে অন্তত একবার ট্রাফিক সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণের প্রস্তাব দেন তিনি।
সংগঠনটি প্রস্তাব করেছে যে, নগর পরিবহনের এসি বাস থেকে অর্জিত মুনাফা দিয়ে নন-এসি বাসের ভাড়া ৫ থেকে ২০ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব। এতে গণপরিবহনের মধ্যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধ হবে এবং সাধারণ মানুষ নাগরিক সুবিধা ভোগ করবে।
সংবাদ সম্মেলনে কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল আজিজ, সহ-সভাপতি হাজি আব্দুস ছামাদসহ সংগঠনের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ইমরান হোসেন হিমেল।

রোববার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ এপ্রিল ২০২৬
রাজধানী ঢাকার অসহনীয় যানজট নিরসনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে ১১ দফা প্রস্তাবনা পেশ করেছে ‘ঢাকা যানজট নিরসন কমিটি’। রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি মো. ইছহাক দুলাল এসব প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে কমিটির সভাপতি আবু ইছহাক দুলাল এক লিখিত বক্তব্যে জানান, কমলাপুর থেকে টঙ্গী পর্যন্ত ২৪টি লেভেল ক্রসিংয়ের কারণে প্রতিদিন গড়ে ১২ ঘণ্টা ১৪ মিনিট যানচলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। তিনি পরিসংখ্যান দিয়ে বলেন, প্রতিদিন আসা-যাওয়া মিলিয়ে ১০৪টি ট্রেনের জন্য গড়ে ৭ মিনিট করে হিসাব করলে দেখা যায়, শুধুমাত্র ট্রেন চলাচলের কারণেই দিনের অর্ধেক সময় রাস্তা বন্ধ থাকে। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কমলাপুর থেকে টঙ্গী পর্যন্ত বাইপাস রেলপথ অথবা উড়াল সেতু নির্মাণের দাবি জানায় সংগঠনটি।
কমিটির পক্ষ থেকে উত্থাপিত উল্লেখযোগ্য প্রস্তাবনাগুলো হলো:
জলপথ সংস্কার: ঢাকার খালগুলো সংস্কার করে স্পিডবোট, ওয়াটার বাস ও ছোট লঞ্চ চালু করা।
মিনি রেলপথ ও রিং রোড: ঢাকার চারদিকে নদী ঘেঁষে ট্রাম রোড (মিনি রেলপথ) এবং এর পাশাপাশি একটি রিং রোড নির্মাণ।
টার্মিনাল স্থানান্তর: সায়দাবাদ বাস টার্মিনালকে কাঁচপুরে, মহাখালীকে টঙ্গীতে এবং বাবুবাজার বাস স্ট্যান্ডকে কেরানীগঞ্জে স্থানান্তর করা।
নগর পরিবহন: সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে ভর্তুকি মূল্যে এসি ও নন-এসি ‘নগর পরিবহন’ সেবা চালু করা।
জ্বালানি ব্যবস্থাপনা: সিএনজি অটোরিকশা ছাড়া অন্য কোনো প্রাইভেট গাড়িতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে সেই গ্যাস রপ্তানিমুখী শিল্পে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া।
অন্যান্য: ঢাকার চারপাশে ১০০ কিলোমিটার ট্রেন চালু করা, ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং জেল ও আদালত ভবন একই স্থানে স্থাপন করা।
সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ট্রাফিক পুলিশের এসআই থেকে সহকারী কমিশনার পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন ইছহাক দুলাল। প্রয়োজনে বুয়েটের কারিগরি সহযোগিতা এবং চালকদের জন্য মাসে অন্তত একবার ট্রাফিক সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণের প্রস্তাব দেন তিনি।
সংগঠনটি প্রস্তাব করেছে যে, নগর পরিবহনের এসি বাস থেকে অর্জিত মুনাফা দিয়ে নন-এসি বাসের ভাড়া ৫ থেকে ২০ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব। এতে গণপরিবহনের মধ্যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধ হবে এবং সাধারণ মানুষ নাগরিক সুবিধা ভোগ করবে।
সংবাদ সম্মেলনে কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল আজিজ, সহ-সভাপতি হাজি আব্দুস ছামাদসহ সংগঠনের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ইমরান হোসেন হিমেল।

আপনার মতামত লিখুন