দিকপাল

হরমুজে টোলের বিরুদ্ধে শি’র কড়া বার্তা, চাপ বাড়ছে বিশ্ব বাণিজ্যে


আকাশ মোল্লা
আকাশ মোল্লা স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬ | ১০:৩৩ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

হরমুজে টোলের বিরুদ্ধে শি’র কড়া বার্তা, চাপ বাড়ছে বিশ্ব বাণিজ্যে

বিশ্বের দুই ক্ষমতাধর রাষ্ট্র আমেরিকা ও চীনের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে সম্প্রতি এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে আন্তর্জাতিক রাজনীতির নানা জটিল সমীকরণ এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক স্বার্থ প্রাধান্য পেয়েছে। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার জানানো হয়েছে যে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে টোল বা মাশুল আরোপের যে কোনো পরিকল্পনার বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যের এই জলপথটি বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান ধমনী হিসেবে পরিচিত। চীন মনে করে, এই পথে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হলে তা আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।

একই সঙ্গে একটি চমকপ্রদ তথ্য সামনে এসেছে যে, উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে যদি কোনো কারণে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হয় বা কমে যায়, তবে তার বিকল্প হিসেবে চীন আমেরিকা থেকে আরও বেশি পরিমাণে তেল আমদানির বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে। এই বিষয়টি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং শি জিনপিংয়ের মধ্যকার আলোচনার একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বেইজিংয়ের এই ইতিবাচক মনোভাব ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক টানাপোড়েন কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।

এই কূটনৈতিক সফরের অন্যতম আর্কষণ ছিল চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে আয়োজিত একটি বর্ণাঢ্য রাষ্ট্রীয় নৈশভোজ। শি জিনপিং অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ এই আয়োজনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, আমেরিকার উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা এবং প্রভাবশালী ব্যবসায়ী নেতাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। যদিও তাইওয়ান ইস্যু এবং ইরানের সাথে সম্পর্ক নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দৃশ্যমান মতপার্থক্য রয়েছে, তবে সেই তিক্ততাকে আপাতত পাশে সরিয়ে রেখে দুই নেতাই পারস্পরিক বাণিজ্যিক চুক্তি এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির দিকে বেশি মনোযোগ দিয়েছেন। তারা একমত হয়েছেন যে, বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য এই দুই বৃহত্তম শক্তির মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় থাকা জরুরি।

পরবর্তীতে একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্টের সাথে তার আলাপচারিতার বিস্তারিত তুলে ধরেন। ট্রাম্প জানান, শি জিনপিং মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নিরসনে বিশেষ করে আমেরিকা, ইসরায়েল এবং ইরানের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত মেটাতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালনের প্রস্তাব দিয়েছেন। এছাড়া তেহরানের সাথে বেইজিংয়ের সামরিক সম্পর্ক নিয়ে আমেরিকার মনে যে সংশয় ছিল, তাও নিরসনের চেষ্টা করেছেন চীনা প্রেসিডেন্ট। শি জিনপিং অত্যন্ত জোরালোভাবে ট্রাম্পকে আশ্বস্ত করেছেন যে, চীন ইরানকে কোনো ধরনের সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করবে না।

সবশেষে, হরমুজ প্রণালি যাতে অবাধ ও উন্মুক্ত থাকে, সেই লক্ষ্যে চীনের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে বলে জানিয়েছেন শি জিনপিং। ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, চীনা প্রেসিডেন্ট এই জটিল ভূ-রাজনৈতিক সংকট নিরসনে যে কোনো ধরনের প্রয়োজনীয় সহায়তা করতে নিজের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের এমন নমনীয় অবস্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে, যেখানে যুদ্ধের দামামার পরিবর্তে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের সুর জোরালো হচ্ছে।

তথ্যের উৎস: হোয়াইট হাউস এবং ফক্স নিউজ।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬


হরমুজে টোলের বিরুদ্ধে শি’র কড়া বার্তা, চাপ বাড়ছে বিশ্ব বাণিজ্যে

প্রকাশের তারিখ : ১৫ মে ২০২৬

featured Image

বিশ্বের দুই ক্ষমতাধর রাষ্ট্র আমেরিকা ও চীনের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে সম্প্রতি এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে আন্তর্জাতিক রাজনীতির নানা জটিল সমীকরণ এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক স্বার্থ প্রাধান্য পেয়েছে। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার জানানো হয়েছে যে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে টোল বা মাশুল আরোপের যে কোনো পরিকল্পনার বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যের এই জলপথটি বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান ধমনী হিসেবে পরিচিত। চীন মনে করে, এই পথে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হলে তা আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।

একই সঙ্গে একটি চমকপ্রদ তথ্য সামনে এসেছে যে, উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে যদি কোনো কারণে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হয় বা কমে যায়, তবে তার বিকল্প হিসেবে চীন আমেরিকা থেকে আরও বেশি পরিমাণে তেল আমদানির বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে। এই বিষয়টি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং শি জিনপিংয়ের মধ্যকার আলোচনার একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বেইজিংয়ের এই ইতিবাচক মনোভাব ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক টানাপোড়েন কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।

এই কূটনৈতিক সফরের অন্যতম আর্কষণ ছিল চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে আয়োজিত একটি বর্ণাঢ্য রাষ্ট্রীয় নৈশভোজ। শি জিনপিং অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ এই আয়োজনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, আমেরিকার উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা এবং প্রভাবশালী ব্যবসায়ী নেতাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। যদিও তাইওয়ান ইস্যু এবং ইরানের সাথে সম্পর্ক নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দৃশ্যমান মতপার্থক্য রয়েছে, তবে সেই তিক্ততাকে আপাতত পাশে সরিয়ে রেখে দুই নেতাই পারস্পরিক বাণিজ্যিক চুক্তি এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির দিকে বেশি মনোযোগ দিয়েছেন। তারা একমত হয়েছেন যে, বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য এই দুই বৃহত্তম শক্তির মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় থাকা জরুরি।

পরবর্তীতে একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্টের সাথে তার আলাপচারিতার বিস্তারিত তুলে ধরেন। ট্রাম্প জানান, শি জিনপিং মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নিরসনে বিশেষ করে আমেরিকা, ইসরায়েল এবং ইরানের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত মেটাতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালনের প্রস্তাব দিয়েছেন। এছাড়া তেহরানের সাথে বেইজিংয়ের সামরিক সম্পর্ক নিয়ে আমেরিকার মনে যে সংশয় ছিল, তাও নিরসনের চেষ্টা করেছেন চীনা প্রেসিডেন্ট। শি জিনপিং অত্যন্ত জোরালোভাবে ট্রাম্পকে আশ্বস্ত করেছেন যে, চীন ইরানকে কোনো ধরনের সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করবে না।

সবশেষে, হরমুজ প্রণালি যাতে অবাধ ও উন্মুক্ত থাকে, সেই লক্ষ্যে চীনের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে বলে জানিয়েছেন শি জিনপিং। ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, চীনা প্রেসিডেন্ট এই জটিল ভূ-রাজনৈতিক সংকট নিরসনে যে কোনো ধরনের প্রয়োজনীয় সহায়তা করতে নিজের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের এমন নমনীয় অবস্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে, যেখানে যুদ্ধের দামামার পরিবর্তে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের সুর জোরালো হচ্ছে।

তথ্যের উৎস: হোয়াইট হাউস এবং ফক্স নিউজ।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল