দিকপাল

চীন-আমেরিকা তেল সমীকরণে চড়া হলো জ্বালানি মূল্য


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬ | ১০:৫৪ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

চীন-আমেরিকা তেল সমীকরণে চড়া হলো জ্বালানি মূল্য

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের উত্থান লক্ষ্য করা গেছে, যার নেপথ্যে কাজ করছে আমেরিকা ও চীনের মধ্যকার নতুন এক ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে জানা গেছে যে, চীন এখন থেকে আমেরিকা থেকে বড় পরিসরে জ্বালানি তেল আমদানির বিষয়ে প্রবল আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এই খবরের পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের চাহিদা বৃদ্ধির আশঙ্কায় দাম এক শতাংশের বেশি বেড়ে গেছে। বৈশ্বিক অর্থনীতির দুই প্রধান শক্তির মধ্যে জ্বালানি আদান-প্রদানের এই ইঙ্গিত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে।

শুক্রবার সকালের বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ ডলার ১৭ সেন্ট বা ১ দশমিক ১১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড তেলের বর্তমান বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে ১০৬ ডলার ৮৯ সেন্টে। অন্যদিকে, আমেরিকার নিজস্ব বাজার ব্যবস্থার ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই তেলের দামও পাল্লা দিয়ে বেড়েছে। সেখানে প্রতি ব্যারেলের দাম ১ ডলার ১০ সেন্ট বা ১ দশমিক ০৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ১০২ ডলার ২৭ সেন্টে কেনাবেচা হচ্ছে। আকস্মিক এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর নতুন করে অর্থনৈতিক চাপের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম বাড়ার পেছনে শুধু বাণিজ্যিক সম্ভাবনা নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাও সমানভাবে দায়ী। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে। এই পথে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা কিংবা অবৈধভাবে জাহাজ জব্দের যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা বিশ্ব সরবরাহ ব্যবস্থাকে ভাবিয়ে তুলেছে। যদিও ইরান দাবি করেছে যে, বৃহস্পতিবারও প্রায় ৩০টি জাহাজ এই জলপথ দিয়ে নিরাপদে পারাপার হয়েছে, তবুও আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ তাতে খুব একটা কমেনি। দীর্ঘদিনের এই অস্থিরতা তেলের বাজারে এক ধরনের অনিশ্চয়তা জিইয়ে রেখেছে।

সামগ্রিকভাবে, ট্রাম্পের দেওয়া চীন সম্পর্কিত তথ্যের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সংকট তেল আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে এক ধরনের বাড়তি সতর্কতা তৈরি করেছে। যদি আমেরিকা থেকে চীন সত্যিই তেল কেনা শুরু করে, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে বিশ্ব জ্বালানি মানচিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। তবে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের এই অস্থিতিশীল ভাব কাটবে না বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

তথ্যের উৎস: আল জাজিরা।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬


চীন-আমেরিকা তেল সমীকরণে চড়া হলো জ্বালানি মূল্য

প্রকাশের তারিখ : ১৫ মে ২০২৬

featured Image

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের উত্থান লক্ষ্য করা গেছে, যার নেপথ্যে কাজ করছে আমেরিকা ও চীনের মধ্যকার নতুন এক ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে জানা গেছে যে, চীন এখন থেকে আমেরিকা থেকে বড় পরিসরে জ্বালানি তেল আমদানির বিষয়ে প্রবল আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এই খবরের পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের চাহিদা বৃদ্ধির আশঙ্কায় দাম এক শতাংশের বেশি বেড়ে গেছে। বৈশ্বিক অর্থনীতির দুই প্রধান শক্তির মধ্যে জ্বালানি আদান-প্রদানের এই ইঙ্গিত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে।

শুক্রবার সকালের বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ ডলার ১৭ সেন্ট বা ১ দশমিক ১১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড তেলের বর্তমান বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে ১০৬ ডলার ৮৯ সেন্টে। অন্যদিকে, আমেরিকার নিজস্ব বাজার ব্যবস্থার ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই তেলের দামও পাল্লা দিয়ে বেড়েছে। সেখানে প্রতি ব্যারেলের দাম ১ ডলার ১০ সেন্ট বা ১ দশমিক ০৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ১০২ ডলার ২৭ সেন্টে কেনাবেচা হচ্ছে। আকস্মিক এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর নতুন করে অর্থনৈতিক চাপের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম বাড়ার পেছনে শুধু বাণিজ্যিক সম্ভাবনা নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাও সমানভাবে দায়ী। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে। এই পথে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা কিংবা অবৈধভাবে জাহাজ জব্দের যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা বিশ্ব সরবরাহ ব্যবস্থাকে ভাবিয়ে তুলেছে। যদিও ইরান দাবি করেছে যে, বৃহস্পতিবারও প্রায় ৩০টি জাহাজ এই জলপথ দিয়ে নিরাপদে পারাপার হয়েছে, তবুও আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ তাতে খুব একটা কমেনি। দীর্ঘদিনের এই অস্থিরতা তেলের বাজারে এক ধরনের অনিশ্চয়তা জিইয়ে রেখেছে।

সামগ্রিকভাবে, ট্রাম্পের দেওয়া চীন সম্পর্কিত তথ্যের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সংকট তেল আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে এক ধরনের বাড়তি সতর্কতা তৈরি করেছে। যদি আমেরিকা থেকে চীন সত্যিই তেল কেনা শুরু করে, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে বিশ্ব জ্বালানি মানচিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। তবে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের এই অস্থিতিশীল ভাব কাটবে না বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

তথ্যের উৎস: আল জাজিরা।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল