দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়ন নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারক মহলে ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআর এই বাজেটে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যবহারের বিভিন্ন খাতের ওপর বাড়তি কর আরোপের একটি প্রাথমিক খসড়া প্রস্তাব তৈরি করেছে। এই প্রস্তাবনায় চাল, ডাল, গম, পেঁয়াজ ও আলুর মতো অতি প্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য থেকে শুরু করে মোবাইল ফোন ব্যবহার এবং ব্যাটারিচালিত রিকশার ওপরও নতুন করে করের বোঝা চাপানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিশেষ করে স্থানীয় ঋণপত্রের কমিশনের ওপর বিদ্যমান উৎস কর শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে এক শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা কার্যকর হলে চিনি, ভোজ্যতেল, লবণ এবং ডালসহ প্রায় সব ধরনের খাদ্যপণ্যের দাম বাজারে আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
রাজস্ব বোর্ডের এই প্রস্তাবে কম্পিউটার সামগ্রী এবং বিভিন্ন ধরনের ফলের ওপরও বাড়তি করের কথা বলা হয়েছে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বারবার মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে, তবুও এনবিআরের এমন রাজস্বমুখী কৌশল সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি আমদানিনির্ভর ও স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদিত নিত্যপণ্যের ওপর করের হার দ্বিগুণ করা হয়, তবে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যাবে। বর্তমানে বাজারে এমনিতেই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে নাভিশ্বাস উঠেছে সাধারণ মানুষের, তার ওপর এমন প্রস্তাবনা বাস্তবায়ন হলে তা সরাসরি সাধারণ জনগণের পকেটে টান দেবে।
তবে অর্থনীতির এই কঠিন সময়ে সাধারণ মানুষের ওপর করের বাড়তি চাপ না বাড়ানোর বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাজেট নিয়ে অনুষ্ঠিত এক দীর্ঘ বৈঠকে তিনি এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেন। বৈঠক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, প্রধানমন্ত্রী কর্মকর্তাদের স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে জনগণের কষ্টের কারণ হতে পারে এমন কোনো সিদ্ধান্ত বাজেটে রাখা যাবে না। বরং তিনি মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যকে সহজতর করতে সহায়ক এমন একটি বাজেট তৈরির ওপর জোর দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, কর আদায়ের পরিধি বাড়ানো প্রয়োজন ঠিকই, তবে তা সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলোকে ব্যাহত করে নয়।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাজেট প্রণয়নে যুক্ত ব্যক্তিদের পরামর্শ দিয়ে বলেন যে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই এই বাজেটের মূল ভিত্তি হওয়া উচিত। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষা করতে তিনি নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ভর্তুকি ও বিশেষ ব্যবস্থার কথা গুরুত্বসহকারে উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রীর এমন অনড় অবস্থানের পর এনবিআরের প্রস্তাবিত করের হারগুলো পুনর্বিবেচনা করার কাজ শুরু হয়েছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের এই সরাসরি হস্তক্ষেপের ফলে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা এখন একটি জনবান্ধব বাজেটের দিকে, যেখানে বাড়তি করের বোঝা নয় বরং আর্থিক স্বস্তি মিলবে।
তথ্যের উৎস: জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং অর্থ মন্ত্রণালয়।

শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ মে ২০২৬
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়ন নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারক মহলে ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআর এই বাজেটে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যবহারের বিভিন্ন খাতের ওপর বাড়তি কর আরোপের একটি প্রাথমিক খসড়া প্রস্তাব তৈরি করেছে। এই প্রস্তাবনায় চাল, ডাল, গম, পেঁয়াজ ও আলুর মতো অতি প্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য থেকে শুরু করে মোবাইল ফোন ব্যবহার এবং ব্যাটারিচালিত রিকশার ওপরও নতুন করে করের বোঝা চাপানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিশেষ করে স্থানীয় ঋণপত্রের কমিশনের ওপর বিদ্যমান উৎস কর শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে এক শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা কার্যকর হলে চিনি, ভোজ্যতেল, লবণ এবং ডালসহ প্রায় সব ধরনের খাদ্যপণ্যের দাম বাজারে আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
রাজস্ব বোর্ডের এই প্রস্তাবে কম্পিউটার সামগ্রী এবং বিভিন্ন ধরনের ফলের ওপরও বাড়তি করের কথা বলা হয়েছে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বারবার মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে, তবুও এনবিআরের এমন রাজস্বমুখী কৌশল সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি আমদানিনির্ভর ও স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদিত নিত্যপণ্যের ওপর করের হার দ্বিগুণ করা হয়, তবে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যাবে। বর্তমানে বাজারে এমনিতেই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে নাভিশ্বাস উঠেছে সাধারণ মানুষের, তার ওপর এমন প্রস্তাবনা বাস্তবায়ন হলে তা সরাসরি সাধারণ জনগণের পকেটে টান দেবে।
তবে অর্থনীতির এই কঠিন সময়ে সাধারণ মানুষের ওপর করের বাড়তি চাপ না বাড়ানোর বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাজেট নিয়ে অনুষ্ঠিত এক দীর্ঘ বৈঠকে তিনি এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেন। বৈঠক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, প্রধানমন্ত্রী কর্মকর্তাদের স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে জনগণের কষ্টের কারণ হতে পারে এমন কোনো সিদ্ধান্ত বাজেটে রাখা যাবে না। বরং তিনি মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যকে সহজতর করতে সহায়ক এমন একটি বাজেট তৈরির ওপর জোর দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, কর আদায়ের পরিধি বাড়ানো প্রয়োজন ঠিকই, তবে তা সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলোকে ব্যাহত করে নয়।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাজেট প্রণয়নে যুক্ত ব্যক্তিদের পরামর্শ দিয়ে বলেন যে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই এই বাজেটের মূল ভিত্তি হওয়া উচিত। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষা করতে তিনি নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ভর্তুকি ও বিশেষ ব্যবস্থার কথা গুরুত্বসহকারে উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রীর এমন অনড় অবস্থানের পর এনবিআরের প্রস্তাবিত করের হারগুলো পুনর্বিবেচনা করার কাজ শুরু হয়েছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের এই সরাসরি হস্তক্ষেপের ফলে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা এখন একটি জনবান্ধব বাজেটের দিকে, যেখানে বাড়তি করের বোঝা নয় বরং আর্থিক স্বস্তি মিলবে।
তথ্যের উৎস: জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং অর্থ মন্ত্রণালয়।

আপনার মতামত লিখুন