দিকপাল

নদীতে একের পর এক মরদেহ, সপ্তাহজুড়ে উদ্ধার ১৭ লাশ


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬ | ০৭:৩৫ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

নদীতে একের পর এক মরদেহ, সপ্তাহজুড়ে উদ্ধার ১৭ লাশ

দেশের অভ্যন্তরীণ নৌপথ ও নদীগুলোতে অপরাধ দমনে এক বিশাল ও সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছে নৌ পুলিশ। গত এক সপ্তাহ ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নদ-নদীতে চালানো এই ব্যাপক অভিযানে ১৭ জনের মরদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি তিন-তিনটি হত্যা মামলাসহ প্রায় শতখানেক মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সাথে গ্রেফতার করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক অপরাধীকে।

নৌ পুলিশের সদর দফতর থেকে পাঠানো এক বিশেষ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই অভিযানের বিস্তারিত খতিয়ান প্রকাশ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, গত সাত দিন ধরে দেশের বিভিন্ন কৌশলগত নদী ও নৌপথে দিনরাত সমানে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। এই সময় নদী থেকে একে একে ১৭টি অজ্ঞাত ও নিখোঁজ ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে নৌ পুলিশ এই সময়ে ৩টি সুনির্দিষ্ট হত্যা মামলা, ১টি ডাকাতি, ১টি অপহরণ, ১টি চাঁদাবাজি, ১টি মাদক ও ১টি বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলাসহ মোট ৯৬টি মামলা দায়ের করেছে। এছাড়া নদীতে অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় ১১টি অপমৃত্যুর মামলাও নথিবদ্ধ করা হয়েছে।

এবারের অভিযানে মৎস্য সম্পদ রক্ষা ও নদী সুরক্ষায় বড় ধরনের সাফল্য পাওয়ার দাবি করেছে সংস্থাটি। সাত দিনে নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ২ কোটি ৩১ লাখ ৭৩ হাজার ৬৭৫ মিটার নিষিদ্ধ ও কারেন্ট জাল, যা পোনামাছ ও নদীর জীববৈচিত্র্যের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ ছিল। এর পাশাপাশি ২ হাজার ৮৯৬ কেজি বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, ১ লাখ ৯৯ হাজার ৫০০টি বাগদা চিংড়ির রেণু এবং বাজারজাতকরণের উদ্দেশ্যে রাখা ৪৯০ কেজি ক্ষতিকর জেলিযুক্ত বিষাক্ত চিংড়ি জব্দ করা হয়েছে। অবৈধভাবে মাছ শিকারের জন্য নদী দখল করে তৈরি করা ১৭৯টি কৃত্রিম ঝোপঝাড় ও মাছের কোমর সম্পূর্ণ উপড়ে ফেলে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।

নৌপথে চলাচলকারী যানের শৃঙ্খলা বজায় রাখতেও কঠোর অবস্থান দেখা গেছে এই অভিযানে। চলাচলের বৈধ কোনো কাগজপত্র ও প্রয়োজনীয় অনুমতি না থাকায় ১০৪টি বাল্কহেডের বিরুদ্ধে সরাসরি নৌ-আদালতে মামলা করা হয়েছে। একই সঙ্গে নদীর বুক থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অপরাধে ২টি বড় ড্রেজার মেশিন জব্দ করা হয়েছে এবং এর বিরুদ্ধে বালুমহাল আইনে মামলা ঠুকে দেওয়া হয়েছে।

নৌ পুলিশ জানিয়েছে, আইন অমান্য করে বেপরোয়া গতিতে নৌযান চালানোর দায়ে আরও ১৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুরো সপ্তাহের এই চিরুনি অভিযানে বিভিন্ন অপরাধের সাথে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে মোট ৩০২ জন আসামিকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নদীপথকে নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত রাখতে নৌ পুলিশের এমন কঠোর ও বহুমুখী অভিযান আগামী দিনগুলোতেও নিয়মিত বজায় থাকবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

শনিবার, ২৩ মে ২০২৬


নদীতে একের পর এক মরদেহ, সপ্তাহজুড়ে উদ্ধার ১৭ লাশ

প্রকাশের তারিখ : ২২ মে ২০২৬

featured Image

দেশের অভ্যন্তরীণ নৌপথ ও নদীগুলোতে অপরাধ দমনে এক বিশাল ও সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছে নৌ পুলিশ। গত এক সপ্তাহ ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নদ-নদীতে চালানো এই ব্যাপক অভিযানে ১৭ জনের মরদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি তিন-তিনটি হত্যা মামলাসহ প্রায় শতখানেক মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সাথে গ্রেফতার করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক অপরাধীকে।

নৌ পুলিশের সদর দফতর থেকে পাঠানো এক বিশেষ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই অভিযানের বিস্তারিত খতিয়ান প্রকাশ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, গত সাত দিন ধরে দেশের বিভিন্ন কৌশলগত নদী ও নৌপথে দিনরাত সমানে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। এই সময় নদী থেকে একে একে ১৭টি অজ্ঞাত ও নিখোঁজ ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে নৌ পুলিশ এই সময়ে ৩টি সুনির্দিষ্ট হত্যা মামলা, ১টি ডাকাতি, ১টি অপহরণ, ১টি চাঁদাবাজি, ১টি মাদক ও ১টি বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলাসহ মোট ৯৬টি মামলা দায়ের করেছে। এছাড়া নদীতে অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় ১১টি অপমৃত্যুর মামলাও নথিবদ্ধ করা হয়েছে।

এবারের অভিযানে মৎস্য সম্পদ রক্ষা ও নদী সুরক্ষায় বড় ধরনের সাফল্য পাওয়ার দাবি করেছে সংস্থাটি। সাত দিনে নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ২ কোটি ৩১ লাখ ৭৩ হাজার ৬৭৫ মিটার নিষিদ্ধ ও কারেন্ট জাল, যা পোনামাছ ও নদীর জীববৈচিত্র্যের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ ছিল। এর পাশাপাশি ২ হাজার ৮৯৬ কেজি বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, ১ লাখ ৯৯ হাজার ৫০০টি বাগদা চিংড়ির রেণু এবং বাজারজাতকরণের উদ্দেশ্যে রাখা ৪৯০ কেজি ক্ষতিকর জেলিযুক্ত বিষাক্ত চিংড়ি জব্দ করা হয়েছে। অবৈধভাবে মাছ শিকারের জন্য নদী দখল করে তৈরি করা ১৭৯টি কৃত্রিম ঝোপঝাড় ও মাছের কোমর সম্পূর্ণ উপড়ে ফেলে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।

নৌপথে চলাচলকারী যানের শৃঙ্খলা বজায় রাখতেও কঠোর অবস্থান দেখা গেছে এই অভিযানে। চলাচলের বৈধ কোনো কাগজপত্র ও প্রয়োজনীয় অনুমতি না থাকায় ১০৪টি বাল্কহেডের বিরুদ্ধে সরাসরি নৌ-আদালতে মামলা করা হয়েছে। একই সঙ্গে নদীর বুক থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অপরাধে ২টি বড় ড্রেজার মেশিন জব্দ করা হয়েছে এবং এর বিরুদ্ধে বালুমহাল আইনে মামলা ঠুকে দেওয়া হয়েছে।

নৌ পুলিশ জানিয়েছে, আইন অমান্য করে বেপরোয়া গতিতে নৌযান চালানোর দায়ে আরও ১৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুরো সপ্তাহের এই চিরুনি অভিযানে বিভিন্ন অপরাধের সাথে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে মোট ৩০২ জন আসামিকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নদীপথকে নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত রাখতে নৌ পুলিশের এমন কঠোর ও বহুমুখী অভিযান আগামী দিনগুলোতেও নিয়মিত বজায় থাকবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।



দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল