দিকপাল

এস আলমসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে ৫ মাসের সাজা পরোয়ানা জারি


আকাশ মোল্লা
আকাশ মোল্লা স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬ | ০৮:০০ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

এস আলমসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে ৫ মাসের সাজা পরোয়ানা জারি

দেশের আর্থিক খাতে এক চাঞ্চল্যকর আইনি পদক্ষেপ হিসেবে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী খাতুনগঞ্জ কর্পোরেট শাখার বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ আদায়ের একটি মামলায় এস আলম গ্রুপের শীর্ষ কর্তা এবং তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। বেসরকারি খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংক পিএলসির দায়ের করা একটি মামলার চূড়ান্ত শুনানি শেষে চট্টগ্রামের অর্থ ঋণ আদালত-১ এর বিচারক তথা যুগ্ম জেলা জজ মো. হেলাল উদ্দিন এই ঐতিহাসিক আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. এরশাদ।

আদালতের নথি ও মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ব্যাংকের খাতুনগঞ্জ শাখা থেকে ওজি ট্রাভেলস লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানের নামে বড় অঙ্কের ঋণ নেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে সেই ঋণের কোনো কিস্তি পরিশোধ না করায় বর্তমানে সুদে-আসলে খেলাপি পাওনার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে মোট ৮৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায়ের জন্য ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আইনি লড়াই শুরু করে। তবে সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এত বড় অঙ্কের এই ঋণের বিপরীতে ব্যাংকের কাছে কোনো ধরনের স্থাবর সম্পত্তি বন্ধক বা জামানত হিসেবে রাখা ছিল না। এমনকি আদালতের মাধ্যমে ডিক্রি জারির পর অনুসন্ধান চালিয়েও অভিযুক্তদের মালিকানাধীন দৃশ্যমান কোনো স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তির হদিস পায়নি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

ঋণের টাকা উদ্ধারে আর কোনো কার্যকর বিকল্প বা আইনি পথ খোলা না থাকায়, শেষ পর্যন্ত ব্যাংক কর্তৃপক্ষ দেশের প্রচলিত অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ৩৪ ধারা মোতাবেক দায়ীদের বিরুদ্ধে দেওয়ানি কারাদণ্ডের জন্য আদালতে একটি বিশেষ আবেদন জমা দেয়। আদালত উভয় পক্ষের দীর্ঘ শুনানি ও মামলার যাবতীয় নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে অভিযুক্ত ১১ জনের বিরুদ্ধে পাঁচ মাসের দেওয়ানি সাজা পরোয়ানা জারির নির্দেশ প্রদান করেন।

এই মামলায় সাজা পরোয়ানাপ্রাপ্তদের তালিকায় রয়েছেন দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম (যিনি এস আলম নামে বহুল পরিচিত)। এছাড়া ওজি ট্রাভেলস লিমিটেডের চেয়ারম্যান গুফরানুল আলম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাকিম আলী এবং একই পরিবারের অন্য সদস্য ও অংশীদার যথাক্রমে ওসমান গনি, মো. রাশেদুল আলম, ফারজানা বেগম, আবদুস সামাদ, মোহাম্মদ আবদুল্লাহ হাসান, শহিদুল আলম, ফারজানা পারভীন এবং আহসানুল আলম। আদালতে দাখিল করা নথিতে সাজাপ্রাপ্ত এই ১১ জনেরই বর্তমান ঠিকানা হিসেবে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানার সুগন্ধা আবাসিক এলাকার বিখ্যাত ‘এস আলম হাউস’-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির খাতুনগঞ্জ কর্পোরেট শাখার পক্ষে এই পুরো আইনি প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে ব্যাংকের সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার মোহাম্মদ দিদারুল আলম মজুমদার আদালতে মূল আবেদন ও হলফনামা দাখিল করেছিলেন। আদালতের কাঠগড়ায় ব্যাংকের পক্ষে অত্যন্ত জোরালোভাবে মামলাটি পরিচালনা করেন সুপরিচিত আইনজীবী রকিবুল আনোয়ার। আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ও খেলাপি ঋণ আদায়ে আদালতের এমন কঠোর অবস্থান সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ব্যবসায়ী মহলেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

শনিবার, ২৩ মে ২০২৬


এস আলমসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে ৫ মাসের সাজা পরোয়ানা জারি

প্রকাশের তারিখ : ২২ মে ২০২৬

featured Image

দেশের আর্থিক খাতে এক চাঞ্চল্যকর আইনি পদক্ষেপ হিসেবে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী খাতুনগঞ্জ কর্পোরেট শাখার বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ আদায়ের একটি মামলায় এস আলম গ্রুপের শীর্ষ কর্তা এবং তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। বেসরকারি খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংক পিএলসির দায়ের করা একটি মামলার চূড়ান্ত শুনানি শেষে চট্টগ্রামের অর্থ ঋণ আদালত-১ এর বিচারক তথা যুগ্ম জেলা জজ মো. হেলাল উদ্দিন এই ঐতিহাসিক আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. এরশাদ।

আদালতের নথি ও মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ব্যাংকের খাতুনগঞ্জ শাখা থেকে ওজি ট্রাভেলস লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানের নামে বড় অঙ্কের ঋণ নেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে সেই ঋণের কোনো কিস্তি পরিশোধ না করায় বর্তমানে সুদে-আসলে খেলাপি পাওনার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে মোট ৮৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায়ের জন্য ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আইনি লড়াই শুরু করে। তবে সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এত বড় অঙ্কের এই ঋণের বিপরীতে ব্যাংকের কাছে কোনো ধরনের স্থাবর সম্পত্তি বন্ধক বা জামানত হিসেবে রাখা ছিল না। এমনকি আদালতের মাধ্যমে ডিক্রি জারির পর অনুসন্ধান চালিয়েও অভিযুক্তদের মালিকানাধীন দৃশ্যমান কোনো স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তির হদিস পায়নি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

ঋণের টাকা উদ্ধারে আর কোনো কার্যকর বিকল্প বা আইনি পথ খোলা না থাকায়, শেষ পর্যন্ত ব্যাংক কর্তৃপক্ষ দেশের প্রচলিত অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ৩৪ ধারা মোতাবেক দায়ীদের বিরুদ্ধে দেওয়ানি কারাদণ্ডের জন্য আদালতে একটি বিশেষ আবেদন জমা দেয়। আদালত উভয় পক্ষের দীর্ঘ শুনানি ও মামলার যাবতীয় নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে অভিযুক্ত ১১ জনের বিরুদ্ধে পাঁচ মাসের দেওয়ানি সাজা পরোয়ানা জারির নির্দেশ প্রদান করেন।

এই মামলায় সাজা পরোয়ানাপ্রাপ্তদের তালিকায় রয়েছেন দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম (যিনি এস আলম নামে বহুল পরিচিত)। এছাড়া ওজি ট্রাভেলস লিমিটেডের চেয়ারম্যান গুফরানুল আলম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাকিম আলী এবং একই পরিবারের অন্য সদস্য ও অংশীদার যথাক্রমে ওসমান গনি, মো. রাশেদুল আলম, ফারজানা বেগম, আবদুস সামাদ, মোহাম্মদ আবদুল্লাহ হাসান, শহিদুল আলম, ফারজানা পারভীন এবং আহসানুল আলম। আদালতে দাখিল করা নথিতে সাজাপ্রাপ্ত এই ১১ জনেরই বর্তমান ঠিকানা হিসেবে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানার সুগন্ধা আবাসিক এলাকার বিখ্যাত ‘এস আলম হাউস’-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির খাতুনগঞ্জ কর্পোরেট শাখার পক্ষে এই পুরো আইনি প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে ব্যাংকের সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার মোহাম্মদ দিদারুল আলম মজুমদার আদালতে মূল আবেদন ও হলফনামা দাখিল করেছিলেন। আদালতের কাঠগড়ায় ব্যাংকের পক্ষে অত্যন্ত জোরালোভাবে মামলাটি পরিচালনা করেন সুপরিচিত আইনজীবী রকিবুল আনোয়ার। আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ও খেলাপি ঋণ আদায়ে আদালতের এমন কঠোর অবস্থান সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ব্যবসায়ী মহলেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।



দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল