ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যকার চলমান কূটনৈতিক ও সামরিক স্নায়ুযুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিশাল মজুত। ওয়াশিংটন শুরু থেকেই অনড় অবস্থান নিয়ে দাবি করে আসছে যে, এই ইউরেনিয়াম সম্পূর্ণভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে হস্তান্তর করতে হবে। এর আগে একপর্যায়ে গুঞ্জন উঠেছিল যে, ইরান এই মজুত সাময়িকভাবে রাশিয়ার কাছে গচ্ছিত রাখার একটি মধ্যস্থতামূলক প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে এবার স্বয়ং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি এক চূড়ান্ত ও কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কোনো অবস্থাতেই এই ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানো হবে না, বরং তা ইরানের নিজস্ব ভূখণ্ডেই রাখা হবে। সর্বোচ্চ নেতার এই অনমনীয় অবস্থানের কারণে শান্তি আলোচনায় আমেরিকার প্রধান শর্তটি বড় ধরনের ধাক্কা খেল এবং তেহরানের সুর আরও কঠোর হলো।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের এক বিশেষ প্রতিবেদনে দুই দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা একটি অতি গোপনীয় ও জরুরি নির্দেশ জারি করেছেন, যেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কাছাকাছি মানের উচ্চসমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের কোনো অংশই দেশের বাইরে পাঠানো যাবে না। আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির এই সরাসরি আদেশ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে চরমভাবে হতাশ করতে পারে। একই সঙ্গে এটি ইরান বনাম মার্কিন-ইসরাইল যৌথ যুদ্ধ বন্ধের জন্য পর্দার আড়ালে চলা জটিল আলোচনাকে আরও বেশি সংকটের মুখে ঠেলে দিল।
এদিকে ইসরাইলি প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ট্রাম্প ইসরাইলকে সম্পূর্ণ আশ্বস্ত করেছিলেন যে যেকোনো ধরনের শান্তি চুক্তির প্রধান শর্তই হবে ইরানের উচ্চসমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া। ইসরাইলের মতে, এই ধারাটি চুক্তিতে বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত না করলে তেহরান যেকোনো সময় পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে। অন্যদিকে, ইরানের নীতিনির্ধারকেরা মনে করছেন, এই মূল্যবান কৌশলগত উপাদান একবার দেশের বাইরে পাঠিয়ে দিলে দেশটি ভবিষ্যতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের আকস্মিক সামরিক আক্রমণের মুখে পুরোপুরি অরক্ষিত ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়বে।
এই চরম উত্তেজনার মধ্যেই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো আভাস দিচ্ছে যে, ইসরাইল তেহরানের ওপর নতুন করে বড় ধরনের বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর জন্য ওয়াশিংটনের ওপর অনবরত চাপ সৃষ্টি করছে। তবে এই যুদ্ধের মূল মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান কোনোভাবেই চায় না যে এই অঞ্চলের শান্তি প্রক্রিয়া ভেস্তে গিয়ে আবারও পুরোদমে যুদ্ধ শুরু হোক। তীব্র উত্তেজনার মাঝেও তাই কূটনৈতিক তৎপরতা সচল রেখেছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি সরাসরি তেহরান সফর করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। সেখানে তিনি ওয়াশিংটনের দেওয়া নতুন প্রস্তাবগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বৈঠক শেষে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের নতুন শান্তি প্রস্তাবটি বর্তমানে তাদের সর্বোচ্চ স্তরে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
পুরো পরিস্থিতি নিয়ে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা মস্কোর অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রুশ মুখপাত্র সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ইরানের সার্বভৌমত্ব ও স্বার্থকে পুরোপুরি বিবেচনায় রেখেই কেবল কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে এই সংকটের একটি টেকসই সমাধান সম্ভব। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন, নিজেদের দেশের ইউরেনিয়াম মজুতের ভবিষ্যৎ কী হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার একক ও চূড়ান্ত অধিকার একমাত্র ইরানেরই রয়েছে, এখানে অন্য কারো হস্তক্ষেপ অনুচিত।
তবে আল জাজিরার বিশেষ সংবাদদাতা সাইমন স্পিকম্যান কর্ডাল এক বিশ্লেষণে জানিয়েছেন, শান্তি চুক্তিতে রাজি না হলে ইরানের ওপর আবারও ব্যাপক বিমান হামলা চালানো হবে—এমন চরম হুমকি থেকে ট্রাম্প প্রশাসন আপাতত কিছুটা সরে এলেও ইসরাইলের রাজনৈতিক ও সামরিক মহল নতুন একটি যুদ্ধের জন্য মুখিয়ে আছে। এমনকি ইসরাইলের উগ্র ডানপন্থী একটি প্রভাবশালী টেলিভিশন চ্যানেলের উপস্থাপক শিমন রিকলিন তেহরানের ওপর পুনরায় হামলা চালানোর বিষয়ে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর কিছু গোপন ও স্পর্শকাতর পরিকল্পনা ফাঁস করে দিয়েছেন। যার মধ্যে ইরানের একটি প্রধান পরমাণু ও ইউরেনিয়াম মজুত কেন্দ্রের সুনির্দিষ্ট ভৌগোলিক অবস্থানও ছিল, যেটিকে ইসরাইল তাদের পরবর্তী বিমান হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু হিসেবে নির্ধারণ করে রেখেছে।
উদ্ভূত এই পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন এক বিস্ফোরক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। যেখানে দাবি করা হয়েছে, ইরানের সাথে যুদ্ধের ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে তীব্র ও নজিরবিহীন মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি দুই নেতার মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে চলা একটি উত্তপ্ত ফোনালাপে এই মতভেদের বিষয়টি পুরোপুরি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ট্রাম্প যেখানে আলোচনার মাধ্যমে একটি কূটনৈতিক সমাধানের জন্য কিছুটা সময় চাচ্ছেন, সেখানে নেতানিয়াহু অবিলম্বে ইরানের ওপর বড় ধরনের সামরিক তাণ্ডব শুরু করার পক্ষে অনড় অবস্থান নিয়েছেন।
যুদ্ধের এই ভয়াবহতা ও ক্ষয়ক্ষতির একটি খতিয়ান তুলে ধরে আরব অঞ্চলের সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। মার্কিন কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিসের একটি সাম্প্রতিক ও চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে তারা জানিয়েছে, চলমান এই ইরান যুদ্ধে আমেরিকার বিমানবাহিনী এক বিশাল ধাক্কা খেয়েছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত মার্কিন সামরিক বাহিনীর বোমারু বিমান, অত্যাধুনিক ড্রোন, বিশেষ নজরদারি বিমান এবং যুদ্ধকালীন জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানসহ অন্তত ৪২টি সামরিক বিমান সম্পূর্ণ ধ্বংস অথবা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সামরিক তথ্যের কঠোর শ্রেণিবিন্যাস, যুদ্ধক্ষেত্রের জটিল পরিস্থিতি এবং প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির কারণ নির্ধারণের দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে মার্কিন নথিতে এই ক্ষতির পরিমাণ যা দেখানো হয়েছে, বাস্তবে মার্কিন বাহিনীর প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির অঙ্ক এর চেয়েও আরও অনেক বেশি হতে পারে।

শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ মে ২০২৬
ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যকার চলমান কূটনৈতিক ও সামরিক স্নায়ুযুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিশাল মজুত। ওয়াশিংটন শুরু থেকেই অনড় অবস্থান নিয়ে দাবি করে আসছে যে, এই ইউরেনিয়াম সম্পূর্ণভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে হস্তান্তর করতে হবে। এর আগে একপর্যায়ে গুঞ্জন উঠেছিল যে, ইরান এই মজুত সাময়িকভাবে রাশিয়ার কাছে গচ্ছিত রাখার একটি মধ্যস্থতামূলক প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে এবার স্বয়ং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি এক চূড়ান্ত ও কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কোনো অবস্থাতেই এই ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানো হবে না, বরং তা ইরানের নিজস্ব ভূখণ্ডেই রাখা হবে। সর্বোচ্চ নেতার এই অনমনীয় অবস্থানের কারণে শান্তি আলোচনায় আমেরিকার প্রধান শর্তটি বড় ধরনের ধাক্কা খেল এবং তেহরানের সুর আরও কঠোর হলো।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের এক বিশেষ প্রতিবেদনে দুই দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা একটি অতি গোপনীয় ও জরুরি নির্দেশ জারি করেছেন, যেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কাছাকাছি মানের উচ্চসমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের কোনো অংশই দেশের বাইরে পাঠানো যাবে না। আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির এই সরাসরি আদেশ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে চরমভাবে হতাশ করতে পারে। একই সঙ্গে এটি ইরান বনাম মার্কিন-ইসরাইল যৌথ যুদ্ধ বন্ধের জন্য পর্দার আড়ালে চলা জটিল আলোচনাকে আরও বেশি সংকটের মুখে ঠেলে দিল।
এদিকে ইসরাইলি প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ট্রাম্প ইসরাইলকে সম্পূর্ণ আশ্বস্ত করেছিলেন যে যেকোনো ধরনের শান্তি চুক্তির প্রধান শর্তই হবে ইরানের উচ্চসমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া। ইসরাইলের মতে, এই ধারাটি চুক্তিতে বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত না করলে তেহরান যেকোনো সময় পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে। অন্যদিকে, ইরানের নীতিনির্ধারকেরা মনে করছেন, এই মূল্যবান কৌশলগত উপাদান একবার দেশের বাইরে পাঠিয়ে দিলে দেশটি ভবিষ্যতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের আকস্মিক সামরিক আক্রমণের মুখে পুরোপুরি অরক্ষিত ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়বে।
এই চরম উত্তেজনার মধ্যেই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো আভাস দিচ্ছে যে, ইসরাইল তেহরানের ওপর নতুন করে বড় ধরনের বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর জন্য ওয়াশিংটনের ওপর অনবরত চাপ সৃষ্টি করছে। তবে এই যুদ্ধের মূল মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান কোনোভাবেই চায় না যে এই অঞ্চলের শান্তি প্রক্রিয়া ভেস্তে গিয়ে আবারও পুরোদমে যুদ্ধ শুরু হোক। তীব্র উত্তেজনার মাঝেও তাই কূটনৈতিক তৎপরতা সচল রেখেছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি সরাসরি তেহরান সফর করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। সেখানে তিনি ওয়াশিংটনের দেওয়া নতুন প্রস্তাবগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বৈঠক শেষে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের নতুন শান্তি প্রস্তাবটি বর্তমানে তাদের সর্বোচ্চ স্তরে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
পুরো পরিস্থিতি নিয়ে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা মস্কোর অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রুশ মুখপাত্র সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ইরানের সার্বভৌমত্ব ও স্বার্থকে পুরোপুরি বিবেচনায় রেখেই কেবল কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে এই সংকটের একটি টেকসই সমাধান সম্ভব। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন, নিজেদের দেশের ইউরেনিয়াম মজুতের ভবিষ্যৎ কী হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার একক ও চূড়ান্ত অধিকার একমাত্র ইরানেরই রয়েছে, এখানে অন্য কারো হস্তক্ষেপ অনুচিত।
তবে আল জাজিরার বিশেষ সংবাদদাতা সাইমন স্পিকম্যান কর্ডাল এক বিশ্লেষণে জানিয়েছেন, শান্তি চুক্তিতে রাজি না হলে ইরানের ওপর আবারও ব্যাপক বিমান হামলা চালানো হবে—এমন চরম হুমকি থেকে ট্রাম্প প্রশাসন আপাতত কিছুটা সরে এলেও ইসরাইলের রাজনৈতিক ও সামরিক মহল নতুন একটি যুদ্ধের জন্য মুখিয়ে আছে। এমনকি ইসরাইলের উগ্র ডানপন্থী একটি প্রভাবশালী টেলিভিশন চ্যানেলের উপস্থাপক শিমন রিকলিন তেহরানের ওপর পুনরায় হামলা চালানোর বিষয়ে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর কিছু গোপন ও স্পর্শকাতর পরিকল্পনা ফাঁস করে দিয়েছেন। যার মধ্যে ইরানের একটি প্রধান পরমাণু ও ইউরেনিয়াম মজুত কেন্দ্রের সুনির্দিষ্ট ভৌগোলিক অবস্থানও ছিল, যেটিকে ইসরাইল তাদের পরবর্তী বিমান হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু হিসেবে নির্ধারণ করে রেখেছে।
উদ্ভূত এই পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন এক বিস্ফোরক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। যেখানে দাবি করা হয়েছে, ইরানের সাথে যুদ্ধের ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে তীব্র ও নজিরবিহীন মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি দুই নেতার মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে চলা একটি উত্তপ্ত ফোনালাপে এই মতভেদের বিষয়টি পুরোপুরি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ট্রাম্প যেখানে আলোচনার মাধ্যমে একটি কূটনৈতিক সমাধানের জন্য কিছুটা সময় চাচ্ছেন, সেখানে নেতানিয়াহু অবিলম্বে ইরানের ওপর বড় ধরনের সামরিক তাণ্ডব শুরু করার পক্ষে অনড় অবস্থান নিয়েছেন।
যুদ্ধের এই ভয়াবহতা ও ক্ষয়ক্ষতির একটি খতিয়ান তুলে ধরে আরব অঞ্চলের সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। মার্কিন কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিসের একটি সাম্প্রতিক ও চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে তারা জানিয়েছে, চলমান এই ইরান যুদ্ধে আমেরিকার বিমানবাহিনী এক বিশাল ধাক্কা খেয়েছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত মার্কিন সামরিক বাহিনীর বোমারু বিমান, অত্যাধুনিক ড্রোন, বিশেষ নজরদারি বিমান এবং যুদ্ধকালীন জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানসহ অন্তত ৪২টি সামরিক বিমান সম্পূর্ণ ধ্বংস অথবা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সামরিক তথ্যের কঠোর শ্রেণিবিন্যাস, যুদ্ধক্ষেত্রের জটিল পরিস্থিতি এবং প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির কারণ নির্ধারণের দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে মার্কিন নথিতে এই ক্ষতির পরিমাণ যা দেখানো হয়েছে, বাস্তবে মার্কিন বাহিনীর প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির অঙ্ক এর চেয়েও আরও অনেক বেশি হতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন