রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে নৃশংসভাবে ধর্ষণের পর হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া সাত বছর বয়সী অবুঝ শিশু রামিসার শোকগ্রস্ত পরিবারকে সমবেদনা জানাতে তাদের বাসায় ছুটে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। দেশের এমন একটি হৃদয়বিদারক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে নিহত শিশুর বড় বোনের যাবতীয় লেখাপড়া ও ভবিষ্যতের সম্পূর্ণ দায়িত্বভার নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন সরকারপ্রধান।
এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর মিরপুর-১১ নম্বর এলাকায় অবস্থিত রামিসার পরিবারের এই অস্থায়ী বাসভবনে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে উপস্থিত হয়ে তিনি শোকে পাথর হয়ে যাওয়া বাবা-মায়ের পাশে বসেন এবং পরম মমতায় তাদের সান্ত্বনা দেন। এই আবেগঘন ও মানবিক সফরের সময় প্রধানমন্ত্রীর সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকসহ প্রশাসনের বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এই সাক্ষাতের বিবরণ দিয়ে সাংবাদিকদের জানান, সরকারপ্রধান রামিসার অসহায় বাবার হাতে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তার একটি বড় অনুদান তুলে দিয়েছেন। একই সাথে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং নিশ্চিত করেছে যে, নিহত শিশুর বড় বোন রাইসা আক্তারের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করতে এবং তার সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে যাবতীয় আর্থিক ও সামাজিক দায়িত্ব সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নিজে বহন করবেন।
এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের বিবরণ দিয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার সকালে মিরপুরের পল্লবীর একটি আবাসিক ফ্ল্যাটের ভেতরের একটি কক্ষ থেকে প্রথমে শিশু রামিসার মস্তকবিহীন দেহ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে নিবিড় তল্লাশি চালিয়ে বাথরুমের ভেতরে রাখা একটি প্লাস্টিকের বালতি থেকে তার বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। এই চরম নৃশংস ও বর্বরোচিত ঘটনার পর পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং নিহত শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। ঘটনার পরপরই তদন্তে নেমে পুলিশ প্রথমে মূল অভিযুক্তের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে সাধারণ মানুষের সহায়তায় আটক করতে সক্ষম হলেও প্রধান আসামী সোহেল রানা জানালার লোহার গ্রিল কেটে কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। পরবর্তীতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে এই ঘাতককে গ্রেফতার করে পুলিশ।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারের পর পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে এবং পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালতে হাজির করা হলে ঘাতক সোহেল রানা শিশু রামিসাকে নির্মমভাবে ধর্ষণ ও পরে গলা কেটে হত্যা করার কথা স্বীকার করে নিজের অপরাধের বিবরণ দিয়ে আদালতে জবানবন্দি প্রদান করে। জবানবন্দি ও প্রাথমিক তদন্তের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন সকালে অবুঝ শিশু রামিসা নিজের বাসা থেকে বের হওয়ার পরপরই ওত পেতে থাকা সোহেল রানা তাকে ফুসলিয়ে নিজের নির্জন কক্ষে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে জোরপূর্বক পাশবিক নির্যাতন করার পর অপরাধ আড়াল করতে অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে শ্বাসরোধ ও গলা কেটে হত্যা করে মরদেহটি খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের দ্রুততম সময়ে বিচার সম্পন্ন করে অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক ফাঁসি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ মে ২০২৬
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে নৃশংসভাবে ধর্ষণের পর হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া সাত বছর বয়সী অবুঝ শিশু রামিসার শোকগ্রস্ত পরিবারকে সমবেদনা জানাতে তাদের বাসায় ছুটে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। দেশের এমন একটি হৃদয়বিদারক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে নিহত শিশুর বড় বোনের যাবতীয় লেখাপড়া ও ভবিষ্যতের সম্পূর্ণ দায়িত্বভার নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন সরকারপ্রধান।
এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর মিরপুর-১১ নম্বর এলাকায় অবস্থিত রামিসার পরিবারের এই অস্থায়ী বাসভবনে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে উপস্থিত হয়ে তিনি শোকে পাথর হয়ে যাওয়া বাবা-মায়ের পাশে বসেন এবং পরম মমতায় তাদের সান্ত্বনা দেন। এই আবেগঘন ও মানবিক সফরের সময় প্রধানমন্ত্রীর সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকসহ প্রশাসনের বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এই সাক্ষাতের বিবরণ দিয়ে সাংবাদিকদের জানান, সরকারপ্রধান রামিসার অসহায় বাবার হাতে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তার একটি বড় অনুদান তুলে দিয়েছেন। একই সাথে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং নিশ্চিত করেছে যে, নিহত শিশুর বড় বোন রাইসা আক্তারের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করতে এবং তার সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে যাবতীয় আর্থিক ও সামাজিক দায়িত্ব সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নিজে বহন করবেন।
এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের বিবরণ দিয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার সকালে মিরপুরের পল্লবীর একটি আবাসিক ফ্ল্যাটের ভেতরের একটি কক্ষ থেকে প্রথমে শিশু রামিসার মস্তকবিহীন দেহ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে নিবিড় তল্লাশি চালিয়ে বাথরুমের ভেতরে রাখা একটি প্লাস্টিকের বালতি থেকে তার বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। এই চরম নৃশংস ও বর্বরোচিত ঘটনার পর পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং নিহত শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। ঘটনার পরপরই তদন্তে নেমে পুলিশ প্রথমে মূল অভিযুক্তের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে সাধারণ মানুষের সহায়তায় আটক করতে সক্ষম হলেও প্রধান আসামী সোহেল রানা জানালার লোহার গ্রিল কেটে কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। পরবর্তীতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে এই ঘাতককে গ্রেফতার করে পুলিশ।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারের পর পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে এবং পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালতে হাজির করা হলে ঘাতক সোহেল রানা শিশু রামিসাকে নির্মমভাবে ধর্ষণ ও পরে গলা কেটে হত্যা করার কথা স্বীকার করে নিজের অপরাধের বিবরণ দিয়ে আদালতে জবানবন্দি প্রদান করে। জবানবন্দি ও প্রাথমিক তদন্তের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন সকালে অবুঝ শিশু রামিসা নিজের বাসা থেকে বের হওয়ার পরপরই ওত পেতে থাকা সোহেল রানা তাকে ফুসলিয়ে নিজের নির্জন কক্ষে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে জোরপূর্বক পাশবিক নির্যাতন করার পর অপরাধ আড়াল করতে অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে শ্বাসরোধ ও গলা কেটে হত্যা করে মরদেহটি খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের দ্রুততম সময়ে বিচার সম্পন্ন করে অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক ফাঁসি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন