দিকপাল

হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে , ট্রাম্পের দাবিতে নতুন বিতর্ক


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬ | ০৫:৫৮ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে , ট্রাম্পের দাবিতে নতুন বিতর্ক


আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও সামরিক উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে এক বিস্ফোরক বার্তা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালি এখন সম্পূর্ণভাবে ওয়াশিংটনের সামরিক নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। এক সংবাদ সম্মেলনে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, ইরানকে কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক শক্তির অধিকারী হতে দেওয়া হবে না। তেহরান যতই অস্বীকৃতি জানাক না কেন, দেশটির মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিশাল মজুত শেষ পর্যন্ত মার্কিন বাহিনী নিজেদের জিম্মায় নেবেই। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রশাসনের এই অনড় ও চরম অবস্থানের কথা পরিষ্কার করে জানিয়ে দেন।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, মার্কিন নৌবাহিনীর কঠোর অবরোধের মুখে হরমুজ প্রণালির ওপর এখন ওয়াশিংটনের শতভাগ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ইরান যাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো চরম এবং অভাবনীয় পদক্ষেপ নিতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবে না। মার্কিন প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ধারণা, প্রায় এক বছর আগে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের যৌথ বিমান হামলার পর ইরান তাদের অস্ত্র তৈরির উপযোগী সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের এক বিশাল অংশ মাটির গভীরে অত্যন্ত গোপনে লুকিয়ে রেখেছে। এই গোপন মজুত উদ্ধারের ব্যাপারে নিজের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, মার্কিন বাহিনীর এই ইউরেনিয়ামের ওপর কোনো লোভ বা ব্যক্তিগত প্রয়োজন নেই, তবে বিশ্ব নিরাপত্তার স্বার্থে এটি কোনোভাবেই ইরানের হাতে ফেলে রাখা যাবে না। যদি প্রয়োজন হয়, মার্কিন সেনারা তা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দেবে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্য ও পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ইরানের কাছে বর্তমানে প্রায় ৪০০ কেজি উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে। এই পরিমাণ ইউরেনিয়ামকে আর সামান্য কিছুটা পরিশোধিত বা রিফাইন করলেই তা দিয়ে খুব সহজেই বিধ্বংসী পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা সম্ভব। ফলে তেহরানের এই বিপজ্জনক ইউরেনিয়ামের মজুত উদ্ধার করা অথবা তা সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় করে দেওয়াই এখন ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক ও কূটনৈতিক কৌশলের প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই চরম বিরোধকে কেন্দ্র করেই বিশ্বের প্রধান জ্বালানি তেল পরিবহন রুট হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালিতে বৈশ্বিক উত্তেজনা এখন আকাশচুম্বী, যেখানে মার্কিন নৌবাহিনী তাদের শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে।

নিজের সামরিক কৌশলের সাফল্য তুলে ধরে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই নৌ-অবরোধ শতভাগ সফল হয়েছে এবং এটি ওই কৌশলগত জলপথে একটি শক্তিশালী ‘ইস্পাত প্রাচীর’ হিসেবে কাজ করছে। এই প্রাচীর শত্রুপক্ষের সব ধরনের নৌযান চলাচলকে পুরোপুরি অবরুদ্ধ ও স্তব্ধ করে দিয়েছে। তবে এই চরম ও কঠোর সামরিক অবরোধের মধ্যেও ট্রাম্প বিশ্ববাসীকে আশ্বস্ত করে উল্লেখ করেন যে, ওয়াশিংটন আন্তর্জাতিক এই নৌপথকে সব সময় উন্মুক্ত এবং শুল্কমুক্ত দেখতে চায়, যাতে সাধারণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সাধারণ জাহাজ চলাচল স্বাভাবিকভাবে চলতে পারে।

এদিকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পর্দার আড়ালে তীব্র উত্তেজনাপূর্ণ কূটনৈতিক যোগাযোগ চললেও ইরান নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এখনো সম্পূর্ণ অনড় অবস্থানে রয়েছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স ইরানের অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির পক্ষ থেকে সামরিক ও কূটনৈতিক নীতি নির্ধারকদের স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে, দেশের কষ্টার্জিত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের একটি সামান্য অংশও যেন কোনোভাবেই দেশের সীমানার বাইরে না যায়। মধ্যপ্রাচ্যের এই চরম কূটনৈতিক ও সামরিক সংকটের মধ্যেই প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আচমকা তেহরান সফর করেছেন, যা এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক মহলে বেশ সাড়া ফেলেছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও পাকিস্তানের এই বিশেষ মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাকে ইতিবাচক হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, পাকিস্তানের এই উচ্চপর্যায়ের সফরের মাধ্যমে চলমান এই বিপজ্জনক কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটানোর ক্ষেত্রে হয়তো ভালো এবং ফলপ্রসূ কোনো অগ্রগতি আসতে পারে।

তথ্যসূত্র: ফার্স্টপোস্ট

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

শনিবার, ২৩ মে ২০২৬


হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে , ট্রাম্পের দাবিতে নতুন বিতর্ক

প্রকাশের তারিখ : ২২ মে ২০২৬

featured Image


আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও সামরিক উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে এক বিস্ফোরক বার্তা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালি এখন সম্পূর্ণভাবে ওয়াশিংটনের সামরিক নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। এক সংবাদ সম্মেলনে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, ইরানকে কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক শক্তির অধিকারী হতে দেওয়া হবে না। তেহরান যতই অস্বীকৃতি জানাক না কেন, দেশটির মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিশাল মজুত শেষ পর্যন্ত মার্কিন বাহিনী নিজেদের জিম্মায় নেবেই। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রশাসনের এই অনড় ও চরম অবস্থানের কথা পরিষ্কার করে জানিয়ে দেন।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, মার্কিন নৌবাহিনীর কঠোর অবরোধের মুখে হরমুজ প্রণালির ওপর এখন ওয়াশিংটনের শতভাগ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ইরান যাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো চরম এবং অভাবনীয় পদক্ষেপ নিতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবে না। মার্কিন প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ধারণা, প্রায় এক বছর আগে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের যৌথ বিমান হামলার পর ইরান তাদের অস্ত্র তৈরির উপযোগী সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের এক বিশাল অংশ মাটির গভীরে অত্যন্ত গোপনে লুকিয়ে রেখেছে। এই গোপন মজুত উদ্ধারের ব্যাপারে নিজের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, মার্কিন বাহিনীর এই ইউরেনিয়ামের ওপর কোনো লোভ বা ব্যক্তিগত প্রয়োজন নেই, তবে বিশ্ব নিরাপত্তার স্বার্থে এটি কোনোভাবেই ইরানের হাতে ফেলে রাখা যাবে না। যদি প্রয়োজন হয়, মার্কিন সেনারা তা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দেবে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্য ও পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ইরানের কাছে বর্তমানে প্রায় ৪০০ কেজি উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে। এই পরিমাণ ইউরেনিয়ামকে আর সামান্য কিছুটা পরিশোধিত বা রিফাইন করলেই তা দিয়ে খুব সহজেই বিধ্বংসী পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা সম্ভব। ফলে তেহরানের এই বিপজ্জনক ইউরেনিয়ামের মজুত উদ্ধার করা অথবা তা সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় করে দেওয়াই এখন ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক ও কূটনৈতিক কৌশলের প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই চরম বিরোধকে কেন্দ্র করেই বিশ্বের প্রধান জ্বালানি তেল পরিবহন রুট হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালিতে বৈশ্বিক উত্তেজনা এখন আকাশচুম্বী, যেখানে মার্কিন নৌবাহিনী তাদের শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে।

নিজের সামরিক কৌশলের সাফল্য তুলে ধরে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই নৌ-অবরোধ শতভাগ সফল হয়েছে এবং এটি ওই কৌশলগত জলপথে একটি শক্তিশালী ‘ইস্পাত প্রাচীর’ হিসেবে কাজ করছে। এই প্রাচীর শত্রুপক্ষের সব ধরনের নৌযান চলাচলকে পুরোপুরি অবরুদ্ধ ও স্তব্ধ করে দিয়েছে। তবে এই চরম ও কঠোর সামরিক অবরোধের মধ্যেও ট্রাম্প বিশ্ববাসীকে আশ্বস্ত করে উল্লেখ করেন যে, ওয়াশিংটন আন্তর্জাতিক এই নৌপথকে সব সময় উন্মুক্ত এবং শুল্কমুক্ত দেখতে চায়, যাতে সাধারণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সাধারণ জাহাজ চলাচল স্বাভাবিকভাবে চলতে পারে।

এদিকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পর্দার আড়ালে তীব্র উত্তেজনাপূর্ণ কূটনৈতিক যোগাযোগ চললেও ইরান নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এখনো সম্পূর্ণ অনড় অবস্থানে রয়েছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স ইরানের অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির পক্ষ থেকে সামরিক ও কূটনৈতিক নীতি নির্ধারকদের স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে, দেশের কষ্টার্জিত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের একটি সামান্য অংশও যেন কোনোভাবেই দেশের সীমানার বাইরে না যায়। মধ্যপ্রাচ্যের এই চরম কূটনৈতিক ও সামরিক সংকটের মধ্যেই প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আচমকা তেহরান সফর করেছেন, যা এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক মহলে বেশ সাড়া ফেলেছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও পাকিস্তানের এই বিশেষ মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাকে ইতিবাচক হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, পাকিস্তানের এই উচ্চপর্যায়ের সফরের মাধ্যমে চলমান এই বিপজ্জনক কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটানোর ক্ষেত্রে হয়তো ভালো এবং ফলপ্রসূ কোনো অগ্রগতি আসতে পারে।

তথ্যসূত্র: ফার্স্টপোস্ট


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল