দিকপাল

যমুনা বাঁধ নির্মাণে ৫০ কোটি টাকার প্রকল্প ঘোষণা


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬ | ০৬:০২ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

যমুনা বাঁধ নির্মাণে ৫০ কোটি টাকার প্রকল্প ঘোষণা


টাঙ্গাইলবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ আর যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙন থেকে জনপদকে চিরতরে রক্ষা করতে অবশেষে এক বড় ধরনের আশার আলো দেখা দিয়েছে। যমুনার বুকভাঙা কান্না থামাতে এবার সেখানে একটি টেকসই ও স্থায়ী তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণ করার সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এই মহতী ও জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রায় পঞ্চাশ কোটি টাকা ব্যয়ের এক বিশাল উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে টাঙ্গাইলের চরপৌলি এলাকায় যমুনা নদীর তীরবর্তী প্রাঙ্গণে আয়োজিত একটি বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী এই সুখবরটি জনসমক্ষে প্রকাশ করেন।

নদীভাঙনের শিকার অসহায় মানুষের দুঃখ-কষ্টের কথা স্মরণ করে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, প্রমত্তা যমুনা নদীর করাল গ্রাসে প্রতি বছর এই অঞ্চলের অসংখ্য মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন। এই মানবিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঠেকাতে এবং নদীভাঙন প্রতিরোধে বর্তমান সরকার একটি অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। তারই অংশ হিসেবে টাঙ্গাইলের নদীভাঙন প্রবণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোকে চিরতরে সুরক্ষিত করতে প্রায় পঞ্চাশ কোটি টাকা বাজেটের এই স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। তিনি আরও আশ্বস্ত করেন যে, আগামী অর্থ বছরের শুরুতেই অত্যন্ত দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই বাঁধ নির্মাণের মূল কাজ সশরীরে মাঠে শুরু করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষকে আর নদীভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটাতে না হয়।

উক্ত মতবিনিময় সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। একই সাথে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সভার গুরুত্ব বাড়িয়ে দেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরিফা হক। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা তাদের বক্তব্যে যমুনার ক্ষতিকর প্রভাবের কথা উল্লেখ করে বলেন, বর্ষা মৌসুম এলেই যমুনা নদীর তীব্র স্রোতে প্রতি বছর বিঘার পর বিঘা উর্বর ফসলি জমি, সাধারণ মানুষের মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়স্থল ঘরবাড়ি এবং বহু গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এই এলাকায় যদি একটি টেকসই ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা সম্ভব হয়, তবে প্রতি বছর নদীভাঙনের শিকার হওয়া হাজার হাজার অসহায় মানুষ যেমন নিশ্চিত ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পাবে, তেমনি এই অঞ্চলের সার্বিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নেও অত্যন্ত ইতিবাচক ও বৈপ্লবিক প্রভাব পড়বে।

গুরুত্বপূর্ণ এই মতবিনিময় সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, জেলা বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ, জেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী এবং যমুনা নদীর ভাঙনে সর্বস্ব হারানো ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সাধারণ বাসিন্দারা দলে দলে উপস্থিত হন। বাঁধ নির্মাণের এই ঐতিহাসিক ঘোষণার পর স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষের মাঝে এক দীর্ঘমেয়াদি স্বস্তি ও আনন্দের সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। ভাঙনকবলিত মানুষেরা মনে করছেন, এই স্থায়ী বাঁধটি নির্মিত হলে নদীপাড়ের মানুষের চিরদিনের কান্না ও আতঙ্কের অবসান ঘটবে।


আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

শনিবার, ২৩ মে ২০২৬


যমুনা বাঁধ নির্মাণে ৫০ কোটি টাকার প্রকল্প ঘোষণা

প্রকাশের তারিখ : ২২ মে ২০২৬

featured Image


টাঙ্গাইলবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ আর যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙন থেকে জনপদকে চিরতরে রক্ষা করতে অবশেষে এক বড় ধরনের আশার আলো দেখা দিয়েছে। যমুনার বুকভাঙা কান্না থামাতে এবার সেখানে একটি টেকসই ও স্থায়ী তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণ করার সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এই মহতী ও জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রায় পঞ্চাশ কোটি টাকা ব্যয়ের এক বিশাল উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে টাঙ্গাইলের চরপৌলি এলাকায় যমুনা নদীর তীরবর্তী প্রাঙ্গণে আয়োজিত একটি বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী এই সুখবরটি জনসমক্ষে প্রকাশ করেন।

নদীভাঙনের শিকার অসহায় মানুষের দুঃখ-কষ্টের কথা স্মরণ করে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, প্রমত্তা যমুনা নদীর করাল গ্রাসে প্রতি বছর এই অঞ্চলের অসংখ্য মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন। এই মানবিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঠেকাতে এবং নদীভাঙন প্রতিরোধে বর্তমান সরকার একটি অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। তারই অংশ হিসেবে টাঙ্গাইলের নদীভাঙন প্রবণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোকে চিরতরে সুরক্ষিত করতে প্রায় পঞ্চাশ কোটি টাকা বাজেটের এই স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। তিনি আরও আশ্বস্ত করেন যে, আগামী অর্থ বছরের শুরুতেই অত্যন্ত দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই বাঁধ নির্মাণের মূল কাজ সশরীরে মাঠে শুরু করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষকে আর নদীভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটাতে না হয়।

উক্ত মতবিনিময় সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। একই সাথে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সভার গুরুত্ব বাড়িয়ে দেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরিফা হক। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা তাদের বক্তব্যে যমুনার ক্ষতিকর প্রভাবের কথা উল্লেখ করে বলেন, বর্ষা মৌসুম এলেই যমুনা নদীর তীব্র স্রোতে প্রতি বছর বিঘার পর বিঘা উর্বর ফসলি জমি, সাধারণ মানুষের মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়স্থল ঘরবাড়ি এবং বহু গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এই এলাকায় যদি একটি টেকসই ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা সম্ভব হয়, তবে প্রতি বছর নদীভাঙনের শিকার হওয়া হাজার হাজার অসহায় মানুষ যেমন নিশ্চিত ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পাবে, তেমনি এই অঞ্চলের সার্বিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নেও অত্যন্ত ইতিবাচক ও বৈপ্লবিক প্রভাব পড়বে।

গুরুত্বপূর্ণ এই মতবিনিময় সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, জেলা বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ, জেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী এবং যমুনা নদীর ভাঙনে সর্বস্ব হারানো ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সাধারণ বাসিন্দারা দলে দলে উপস্থিত হন। বাঁধ নির্মাণের এই ঐতিহাসিক ঘোষণার পর স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষের মাঝে এক দীর্ঘমেয়াদি স্বস্তি ও আনন্দের সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। ভাঙনকবলিত মানুষেরা মনে করছেন, এই স্থায়ী বাঁধটি নির্মিত হলে নদীপাড়ের মানুষের চিরদিনের কান্না ও আতঙ্কের অবসান ঘটবে।



দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল