দিকপাল

ইউনূস-নূরজাহানের বিচার দাবি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ সমাবেশ


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬ | ০৮:০৩ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

ইউনূস-নূরজাহানের বিচার দাবি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ সমাবেশ

সারাদেশে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবে তিন শতাধিক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ তুলে এর সুষ্ঠু তদন্তসহ সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের বিচারের দাবি জানিয়েছে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী। বুধবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে ছাত্রসংগঠনটি এই দাবি উত্থাপন করে। সমাবেশে বক্তারা দেশের বর্তমান স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং হামকে অবিলম্বে 'মহামারি' ঘোষণা করে তা প্রতিরোধে সর্বাত্মক রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। তারা অভিযোগ করেন যে, বিগত প্রশাসনের চরম অবহেলা এবং সঠিক সময়ে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণেই আজ শত শত পরিবার তাদের সন্তান হারিয়েছে।

সমাবেশে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক জাবির আহমেদ জুবেল অত্যন্ত কঠোর ভাষায় সাবেক প্রশাসনের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিজেদের স্বার্থ ও মুনাফার চিন্তায় ব্যস্ত থাকায় সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি। শিশুদের এই মৃত্যুর মিছিলের জন্য তিনি সরাসরি তৎকালীন সরকারপ্রধান এবং স্বাস্থ্য উপদেষ্টাকে দায়ী করে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। জুবেলের তথ্যমতে, দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ইতোমধ্যে ৫৮টি জেলাতেই হামের প্রকোপ ছড়িয়ে পড়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য এক ভয়াবহ সংকেত। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, হামের এই ভয়াবহ বিস্তারের বিপরীতে বিগত বা বর্তমান কোনো সরকারই এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান ও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। বরং সরকারগুলো লাশের সংখ্যা বাড়ার জন্য অপেক্ষা করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপনে বাধা দেওয়ার ঘটনায় তিনি ডাকসু নেতাদের তীব্র সমালোচনা করেন।

বিক্ষোভ সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম রিয়াদ শিশুদের করুণ মৃত্যুর চিত্র তুলে ধরে বলেন, সরকারি হিসেবেই এখন পর্যন্ত তিন শতাধিক শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। হাসপাতালের দ্বারে দ্বারে আজ মা-বাবার হাহাকার শোনা যাচ্ছে, অথচ সেই সংকটের সময়েও সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস জাপানে গিয়ে উৎসবে মেতে ছিলেন এবং শিশুদের সঙ্গে পুষ্প বিনিময় করেছেন, যা দেশের শোকাতুর মানুষের সঙ্গে এক ধরনের তামাশা। সংগঠনের সভাপতি দিলীপ রায় তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের মানুষ একটি ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পতন ঘটিয়েছে সুন্দর আগামীর প্রত্যাশায়, আর সেই আগামীর কারিগর হলো আমাদের শিশুরা। কিন্তু বর্তমানে হামের যে সংকট তৈরি হয়েছে তা কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, বরং এটি একটি মানবসৃষ্ট অবহেলা। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর সমালোচনা করে বলেন, অনেকে প্রকাশ্যে দিল্লির বিরোধিতা করলেও পরোক্ষভাবে তারা ওয়াশিংটনের স্বার্থ রক্ষায় ব্যস্ত, যার ফলে সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা আজ চরম হুমকির মুখে। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে।


আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬


ইউনূস-নূরজাহানের বিচার দাবি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ সমাবেশ

প্রকাশের তারিখ : ০৭ মে ২০২৬

featured Image

সারাদেশে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবে তিন শতাধিক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ তুলে এর সুষ্ঠু তদন্তসহ সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের বিচারের দাবি জানিয়েছে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী। বুধবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে ছাত্রসংগঠনটি এই দাবি উত্থাপন করে। সমাবেশে বক্তারা দেশের বর্তমান স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং হামকে অবিলম্বে 'মহামারি' ঘোষণা করে তা প্রতিরোধে সর্বাত্মক রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। তারা অভিযোগ করেন যে, বিগত প্রশাসনের চরম অবহেলা এবং সঠিক সময়ে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণেই আজ শত শত পরিবার তাদের সন্তান হারিয়েছে।

সমাবেশে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক জাবির আহমেদ জুবেল অত্যন্ত কঠোর ভাষায় সাবেক প্রশাসনের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিজেদের স্বার্থ ও মুনাফার চিন্তায় ব্যস্ত থাকায় সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি। শিশুদের এই মৃত্যুর মিছিলের জন্য তিনি সরাসরি তৎকালীন সরকারপ্রধান এবং স্বাস্থ্য উপদেষ্টাকে দায়ী করে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। জুবেলের তথ্যমতে, দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ইতোমধ্যে ৫৮টি জেলাতেই হামের প্রকোপ ছড়িয়ে পড়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য এক ভয়াবহ সংকেত। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, হামের এই ভয়াবহ বিস্তারের বিপরীতে বিগত বা বর্তমান কোনো সরকারই এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান ও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। বরং সরকারগুলো লাশের সংখ্যা বাড়ার জন্য অপেক্ষা করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপনে বাধা দেওয়ার ঘটনায় তিনি ডাকসু নেতাদের তীব্র সমালোচনা করেন।

বিক্ষোভ সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম রিয়াদ শিশুদের করুণ মৃত্যুর চিত্র তুলে ধরে বলেন, সরকারি হিসেবেই এখন পর্যন্ত তিন শতাধিক শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। হাসপাতালের দ্বারে দ্বারে আজ মা-বাবার হাহাকার শোনা যাচ্ছে, অথচ সেই সংকটের সময়েও সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস জাপানে গিয়ে উৎসবে মেতে ছিলেন এবং শিশুদের সঙ্গে পুষ্প বিনিময় করেছেন, যা দেশের শোকাতুর মানুষের সঙ্গে এক ধরনের তামাশা। সংগঠনের সভাপতি দিলীপ রায় তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের মানুষ একটি ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পতন ঘটিয়েছে সুন্দর আগামীর প্রত্যাশায়, আর সেই আগামীর কারিগর হলো আমাদের শিশুরা। কিন্তু বর্তমানে হামের যে সংকট তৈরি হয়েছে তা কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, বরং এটি একটি মানবসৃষ্ট অবহেলা। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর সমালোচনা করে বলেন, অনেকে প্রকাশ্যে দিল্লির বিরোধিতা করলেও পরোক্ষভাবে তারা ওয়াশিংটনের স্বার্থ রক্ষায় ব্যস্ত, যার ফলে সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা আজ চরম হুমকির মুখে। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে।



দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল