যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান স্নায়ুযুদ্ধের মাঝেই সরাসরি সামরিক সংঘাতের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজায়ি জানিয়েছেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারগুলো বর্তমানে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো লক্ষ্য করে প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে সেগুলো সাগরে ডুবিয়ে দেওয়া হবে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রেস টিভি-তে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নৌ অবরোধ প্রসঙ্গে মোহসেন রেজায়ি বলেন, "শত্রুদের ওপর আমাদের আরও চাপ সৃষ্টি করতে হবে। যেভাবে হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ঐতিহাসিক পরাজয়ের মুখে পড়েছিল, ঠিক একইভাবে এই নৌ অবরোধের পরিকল্পনাও ব্যর্থ হতে বাধ্য।" তিনি দাবি করেন, ইরানের কাছে এমন কিছু অপ্রয়োগকৃত সামরিক সক্ষমতা রয়েছে যা যেকোনো অবরোধ নস্যাৎ করে দিতে পারে।
সাক্ষাৎকারে রেজায়ি একটি চাঞ্চল্যকর দাবি করেন। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ইসফাহানে প্যারাট্রুপার নামিয়ে ইউরেনিয়াম ভাণ্ডার দখল করার মাধ্যমে একটি ‘সাফল্যের গল্প’ তৈরি করতে চেয়েছিল। কিন্তু তাদের সেই পরিকল্পনা সফল হয়নি। তিনি আরও যোগ করেন, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে যে যুদ্ধ শুরু করেছিল, তা শেষ করার কোনো সৎ ইচ্ছা ওয়াশিংটনের নেই।
গত সপ্তাহে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে ২১ ঘণ্টার দীর্ঘ বৈঠক কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়। এ প্রসঙ্গে রেজায়ি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত দাবির কারণেই আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে। তিনি স্পষ্ট জানান, "যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করা ইরানের স্বার্থে নয়। তখনই যুদ্ধবিরতি অর্থবহ হবে, যখন সব চুক্তি বাস্তবায়িত হবে এবং ইরানের অধিকার নিশ্চিত করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে।"
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পুনরায় আলোচনার সম্ভাবনা একেবারে নাকচ না করলেও রেজায়ি সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, "ভবিষ্যতে আলোচনা হলে আমাদের প্রতিটি শব্দের ব্যাপারে অত্যন্ত সংবেদনশীল থাকতে হবে। হয় যুক্তরাষ্ট্রকে থেমে গিয়ে ইরানের দেওয়া ১০টি শর্ত মেনে নিতে হবে, অথবা তারা যুদ্ধে জয়ের জন্য মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে যেতে পারে।"
উল্লেখ্য, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে সৃষ্ট উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মোহসেন রেজায়ির এই বক্তব্যকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা।
সূত্র: প্রেস টিভি

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান স্নায়ুযুদ্ধের মাঝেই সরাসরি সামরিক সংঘাতের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজায়ি জানিয়েছেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারগুলো বর্তমানে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো লক্ষ্য করে প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে সেগুলো সাগরে ডুবিয়ে দেওয়া হবে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রেস টিভি-তে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নৌ অবরোধ প্রসঙ্গে মোহসেন রেজায়ি বলেন, "শত্রুদের ওপর আমাদের আরও চাপ সৃষ্টি করতে হবে। যেভাবে হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ঐতিহাসিক পরাজয়ের মুখে পড়েছিল, ঠিক একইভাবে এই নৌ অবরোধের পরিকল্পনাও ব্যর্থ হতে বাধ্য।" তিনি দাবি করেন, ইরানের কাছে এমন কিছু অপ্রয়োগকৃত সামরিক সক্ষমতা রয়েছে যা যেকোনো অবরোধ নস্যাৎ করে দিতে পারে।
সাক্ষাৎকারে রেজায়ি একটি চাঞ্চল্যকর দাবি করেন। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ইসফাহানে প্যারাট্রুপার নামিয়ে ইউরেনিয়াম ভাণ্ডার দখল করার মাধ্যমে একটি ‘সাফল্যের গল্প’ তৈরি করতে চেয়েছিল। কিন্তু তাদের সেই পরিকল্পনা সফল হয়নি। তিনি আরও যোগ করেন, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে যে যুদ্ধ শুরু করেছিল, তা শেষ করার কোনো সৎ ইচ্ছা ওয়াশিংটনের নেই।
গত সপ্তাহে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে ২১ ঘণ্টার দীর্ঘ বৈঠক কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়। এ প্রসঙ্গে রেজায়ি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত দাবির কারণেই আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে। তিনি স্পষ্ট জানান, "যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করা ইরানের স্বার্থে নয়। তখনই যুদ্ধবিরতি অর্থবহ হবে, যখন সব চুক্তি বাস্তবায়িত হবে এবং ইরানের অধিকার নিশ্চিত করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে।"
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পুনরায় আলোচনার সম্ভাবনা একেবারে নাকচ না করলেও রেজায়ি সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, "ভবিষ্যতে আলোচনা হলে আমাদের প্রতিটি শব্দের ব্যাপারে অত্যন্ত সংবেদনশীল থাকতে হবে। হয় যুক্তরাষ্ট্রকে থেমে গিয়ে ইরানের দেওয়া ১০টি শর্ত মেনে নিতে হবে, অথবা তারা যুদ্ধে জয়ের জন্য মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে যেতে পারে।"
উল্লেখ্য, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে সৃষ্ট উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মোহসেন রেজায়ির এই বক্তব্যকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা।
সূত্র: প্রেস টিভি

আপনার মতামত লিখুন