দিকপাল

দীর্ঘস্থায়ী ইরান যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে: ভ্লাদিমির পুতিন



দীর্ঘস্থায়ী ইরান যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে: ভ্লাদিমির পুতিন

ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট উত্তেজনাকর পরিস্থিতির দ্রুত অবসানের ওপর জোর দিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বিশ্ববাসীকে এক ভয়াবহ পরিণতির ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। সম্প্রতি মস্কোতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রুশ প্রেসিডেন্ট অত্যন্ত জোরালোভাবে বলেন যে, ইরানকে ঘিরে চলমান এই সংঘাত ‘যত দ্রুত সম্ভব’ বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। তার মতে, এই যুদ্ধ যদি দীর্ঘায়িত হয়, তবে এর চরম মূল্য কোনো নির্দিষ্ট দেশ নয়, বরং পুরো বিশ্বকেই চুকাতে হবে। পুতিন স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, সংঘাতের এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে বিশ্বের কোনো পক্ষই এর নেতিবাচক প্রভাব থেকে রেহাই পাবে না এবং সবাই সমানভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

পুতিন তার বক্তব্যে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির নাজুক অবস্থার কথা উল্লেখ করে জানান, মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। বর্তমান সংকটপূর্ণ সময়ে জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং সরবরাহের ঘাটতি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের অর্থনীতিতে যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, তা দীর্ঘমেয়াদে এক ভয়াবহ অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের রূপ নিতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে রুশ প্রেসিডেন্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তুলে ধরেন। তিনি জানান, ইরান যাতে তাদের পরমাণু কার্যক্রম নিয়ে বৈশ্বিক আস্থার জায়গায় ফিরতে পারে, সে লক্ষ্যে রাশিয়া ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিজেদের ভূখণ্ডে স্থানান্তর এবং সেখানে অত্যন্ত সুরক্ষিতভাবে সংরক্ষণ করতে প্রস্তুত রয়েছে। পুতিন এই প্রস্তাবের যৌক্তিকতা তুলে ধরে মনে করিয়ে দেন যে, ২০১৫ সালেও রাশিয়া সফলভাবে ইরান থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নিয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পারমাণবিক চুক্তি পুনরুজ্জীবিত করতে এবং উত্তেজনা কমাতে রাশিয়া সেই একই অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি করতে পুরোপুরি প্রস্তুত।

তবে এই কূটনৈতিক সমাধানের পথে প্রধান অন্তরায় হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার অনড় অবস্থানকে দায়ী করেন। পুতিনের ভাষ্যমতে, পরমাণু চুক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষই এক সময় ইউরেনিয়াম ইরানের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে ওয়াশিংটন তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে দাবি তোলে যে, ইউরেনিয়ামের সেই মজুত কেবল মার্কিন ভূখণ্ডেই স্থানান্তর করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের এই কঠোর অবস্থানের প্রতিক্রিয়ায় ইরানও তাদের অবস্থানে অনড় হয়ে পড়ে এবং বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়।

পরিশেষে রুশ প্রেসিডেন্ট জানান, বর্তমান পরিস্থিতি যে পর্যায়েই থাকুক না কেন, মস্কো সবসময় ওয়াশিংটন ও তেহরানের সাথে কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, উভয় পক্ষ বাস্তববাদী হয়ে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসবে এবং যুদ্ধের দামামা থামিয়ে একটি টেকসই সমাধানে পৌঁছাবে। কারণ তার মতে, এই সংকটের দ্রুত সমাধানই বর্তমান বিশ্বের জন্য সবচেয়ে বেশি জরুরি।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই (Middle East Eye)

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

রোববার, ১০ মে ২০২৬


দীর্ঘস্থায়ী ইরান যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে: ভ্লাদিমির পুতিন

প্রকাশের তারিখ : ১০ মে ২০২৬

featured Image

ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট উত্তেজনাকর পরিস্থিতির দ্রুত অবসানের ওপর জোর দিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বিশ্ববাসীকে এক ভয়াবহ পরিণতির ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। সম্প্রতি মস্কোতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রুশ প্রেসিডেন্ট অত্যন্ত জোরালোভাবে বলেন যে, ইরানকে ঘিরে চলমান এই সংঘাত ‘যত দ্রুত সম্ভব’ বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। তার মতে, এই যুদ্ধ যদি দীর্ঘায়িত হয়, তবে এর চরম মূল্য কোনো নির্দিষ্ট দেশ নয়, বরং পুরো বিশ্বকেই চুকাতে হবে। পুতিন স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, সংঘাতের এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে বিশ্বের কোনো পক্ষই এর নেতিবাচক প্রভাব থেকে রেহাই পাবে না এবং সবাই সমানভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

পুতিন তার বক্তব্যে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির নাজুক অবস্থার কথা উল্লেখ করে জানান, মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। বর্তমান সংকটপূর্ণ সময়ে জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং সরবরাহের ঘাটতি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের অর্থনীতিতে যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, তা দীর্ঘমেয়াদে এক ভয়াবহ অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের রূপ নিতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে রুশ প্রেসিডেন্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তুলে ধরেন। তিনি জানান, ইরান যাতে তাদের পরমাণু কার্যক্রম নিয়ে বৈশ্বিক আস্থার জায়গায় ফিরতে পারে, সে লক্ষ্যে রাশিয়া ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিজেদের ভূখণ্ডে স্থানান্তর এবং সেখানে অত্যন্ত সুরক্ষিতভাবে সংরক্ষণ করতে প্রস্তুত রয়েছে। পুতিন এই প্রস্তাবের যৌক্তিকতা তুলে ধরে মনে করিয়ে দেন যে, ২০১৫ সালেও রাশিয়া সফলভাবে ইরান থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নিয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পারমাণবিক চুক্তি পুনরুজ্জীবিত করতে এবং উত্তেজনা কমাতে রাশিয়া সেই একই অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি করতে পুরোপুরি প্রস্তুত।

তবে এই কূটনৈতিক সমাধানের পথে প্রধান অন্তরায় হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার অনড় অবস্থানকে দায়ী করেন। পুতিনের ভাষ্যমতে, পরমাণু চুক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষই এক সময় ইউরেনিয়াম ইরানের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে ওয়াশিংটন তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে দাবি তোলে যে, ইউরেনিয়ামের সেই মজুত কেবল মার্কিন ভূখণ্ডেই স্থানান্তর করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের এই কঠোর অবস্থানের প্রতিক্রিয়ায় ইরানও তাদের অবস্থানে অনড় হয়ে পড়ে এবং বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়।

পরিশেষে রুশ প্রেসিডেন্ট জানান, বর্তমান পরিস্থিতি যে পর্যায়েই থাকুক না কেন, মস্কো সবসময় ওয়াশিংটন ও তেহরানের সাথে কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, উভয় পক্ষ বাস্তববাদী হয়ে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসবে এবং যুদ্ধের দামামা থামিয়ে একটি টেকসই সমাধানে পৌঁছাবে। কারণ তার মতে, এই সংকটের দ্রুত সমাধানই বর্তমান বিশ্বের জন্য সবচেয়ে বেশি জরুরি।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই (Middle East Eye)



দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল