পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ভয়াবহ গাড়িবোমা হামলা ও বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় অন্তত তিন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। আফগানিস্তান সীমান্তঘেঁষা খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বান্নু জেলায় শনিবার (৯ মে) গভীর রাতে এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং নিরাপত্তা বাহিনী ব্যাপক অভিযান শুরু করে।
পুলিশ ও নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, প্রথমে এক আত্মঘাতী হামলাকারী বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি নিয়ে একটি পুলিশ চেকপোস্টের কাছে পৌঁছে বিস্ফোরণ ঘটায়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে এবং নিরাপত্তা পোস্টের বড় অংশ ধসে পড়ে। এর কিছুক্ষণ পরই শুরু হয় তীব্র গোলাগুলি। হামলাকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কয়েক ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষ চলে।
পুলিশ কর্মকর্তা জাহিদ খান জানান, আত্মঘাতী হামলার পর আরও কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এতে ধারণা করা হচ্ছে, হামলাকারীরা পরিকল্পিতভাবে একাধিক বিস্ফোরক ব্যবহার করেছিল। বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থলে সহায়তায় ছুটে যাওয়া পুলিশ সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা।
পাকিস্তানের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ডন জানিয়েছে, হামলার প্রভাব আশপাশের বেসামরিক এলাকাতেও পড়ে। বিস্ফোরণে কয়েকটি বাড়ি ও দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অন্তত দুজন সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন। আহতদের দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
আরেক পুলিশ কর্মকর্তা সাজ্জাদ খান বলেন, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। কারণ, ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকে আছে কিনা তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুরো এলাকা ঘিরে এখনো অভিযান চলছে এবং পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
নিরাপত্তা সূত্র আরও জানিয়েছে, হামলাকারীরা এই অভিযানে ড্রোন প্রযুক্তিও ব্যবহার করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। হামলার পরপরই উদ্ধারকারী দল, সেনাবাহিনী ও জরুরি চিকিৎসাসেবা কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। বান্নুর সরকারি হাসপাতালগুলোতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে এবং চিকিৎসকদের প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
এখন পর্যন্ত কোনো সংগঠন আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা আবারও বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই হামলা পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।
গত কয়েক বছরে খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তান অঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। পাকিস্তান সরকার এসব হামলার জন্য সীমান্তবর্তী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করে আসছে। অন্যদিকে বিশ্লেষকরা বলছেন, আফগানিস্তানের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সীমান্ত অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

রোববার, ১০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ মে ২০২৬
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ভয়াবহ গাড়িবোমা হামলা ও বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় অন্তত তিন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। আফগানিস্তান সীমান্তঘেঁষা খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বান্নু জেলায় শনিবার (৯ মে) গভীর রাতে এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং নিরাপত্তা বাহিনী ব্যাপক অভিযান শুরু করে।
পুলিশ ও নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, প্রথমে এক আত্মঘাতী হামলাকারী বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি নিয়ে একটি পুলিশ চেকপোস্টের কাছে পৌঁছে বিস্ফোরণ ঘটায়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে এবং নিরাপত্তা পোস্টের বড় অংশ ধসে পড়ে। এর কিছুক্ষণ পরই শুরু হয় তীব্র গোলাগুলি। হামলাকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কয়েক ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষ চলে।
পুলিশ কর্মকর্তা জাহিদ খান জানান, আত্মঘাতী হামলার পর আরও কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এতে ধারণা করা হচ্ছে, হামলাকারীরা পরিকল্পিতভাবে একাধিক বিস্ফোরক ব্যবহার করেছিল। বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থলে সহায়তায় ছুটে যাওয়া পুলিশ সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা।
পাকিস্তানের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ডন জানিয়েছে, হামলার প্রভাব আশপাশের বেসামরিক এলাকাতেও পড়ে। বিস্ফোরণে কয়েকটি বাড়ি ও দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অন্তত দুজন সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন। আহতদের দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
আরেক পুলিশ কর্মকর্তা সাজ্জাদ খান বলেন, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। কারণ, ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকে আছে কিনা তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুরো এলাকা ঘিরে এখনো অভিযান চলছে এবং পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
নিরাপত্তা সূত্র আরও জানিয়েছে, হামলাকারীরা এই অভিযানে ড্রোন প্রযুক্তিও ব্যবহার করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। হামলার পরপরই উদ্ধারকারী দল, সেনাবাহিনী ও জরুরি চিকিৎসাসেবা কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। বান্নুর সরকারি হাসপাতালগুলোতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে এবং চিকিৎসকদের প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
এখন পর্যন্ত কোনো সংগঠন আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা আবারও বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই হামলা পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।
গত কয়েক বছরে খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তান অঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। পাকিস্তান সরকার এসব হামলার জন্য সীমান্তবর্তী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করে আসছে। অন্যদিকে বিশ্লেষকরা বলছেন, আফগানিস্তানের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সীমান্ত অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

আপনার মতামত লিখুন