দিকপাল

হামে মৃত ৩৫২ শিশুর পরিবারকে ২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : রবিবার, ১০ মে ২০২৬ | ০২:১৫ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

হামে মৃত ৩৫২ শিশুর পরিবারকে ২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট

দেশে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব এবং একের পর এক শিশুমৃত্যুর ঘটনায় এবার হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট দায়ের করা হয়েছে। রিটে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ৩৫২ শিশুর প্রতিটি পরিবারকে দুই কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এসব মৃত্যুর পেছনে দায়িত্বে অবহেলা বা গাফিলতির বিষয় তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানানো হয়েছে।

রোববার (১০ মে) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার হুমায়ন কবীর পল্লব হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিট আবেদন করেন। এতে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তাকে বিবাদী করা হয়েছে।

রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত ৫৫ দিনে দেশে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ৩৫২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী প্রতিদিন গড়ে ছয়জন শিশুর মৃত্যু হলেও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সেই সংখ্যা আরও বেড়েছে। গত এক সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে ঢাকা বিভাগ। অন্যদিকে রংপুর বিভাগে সংক্রমণ ও মৃত্যুহার তুলনামূলক কম। শুধু গতকালই হামে আক্রান্ত বা উপসর্গ নিয়ে আরও নয়জন শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি তথ্যই যদি সঠিক ধরা হয়, তবুও পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। প্রতিদিন নতুন করে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বাড়ছে এবং হাসপাতালগুলোতে ভর্তি রোগীর চাপও বাড়ছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের হার বেশি হওয়ায় স্বাস্থ্যখাতের জন্য এটি বড় ধরনের সতর্কবার্তা হয়ে উঠেছে।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী জানিয়েছেন, দেশে হামের বিস্তার এবং শিশুমৃত্যুর ঘটনা তদন্তে সরকার ইতোমধ্যে পদক্ষেপ নিয়েছে। তিনি বলেন, টিকার সংকট, স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি বা অন্য কোনো অবহেলার কারণে এতগুলো শিশুর মৃত্যু হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক শিশু নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির বাইরে থেকে যাওয়ায় সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়েছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত গরম ও আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। তারা অভিভাবকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, শিশুদের শরীরে জ্বর, র‌্যাশ বা হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করছেন, রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় স্বাস্থ্য নজরদারি আরও জোরদার করা জরুরি। একই সঙ্গে টিকাদান কর্মসূচি বাড়ানো, হাসপাতালে শিশু চিকিৎসা সুবিধা সম্প্রসারণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আইনজীবী ব্যারিস্টার হুমায়ন কবীর পল্লব বলেন, রাষ্ট্রের দায়িত্ব নাগরিকদের স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত করা। যদি অব্যবস্থাপনা বা গাফিলতির কারণে এতগুলো শিশুর মৃত্যু ঘটে থাকে, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকার রাখে।

রিটের শুনানির তারিখ এখনো নির্ধারণ হয়নি। তবে বিষয়টি জনস্বাস্থ্য ও রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতার সঙ্গে জড়িত হওয়ায় এটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

রোববার, ১০ মে ২০২৬


হামে মৃত ৩৫২ শিশুর পরিবারকে ২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট

প্রকাশের তারিখ : ১০ মে ২০২৬

featured Image

দেশে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব এবং একের পর এক শিশুমৃত্যুর ঘটনায় এবার হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট দায়ের করা হয়েছে। রিটে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ৩৫২ শিশুর প্রতিটি পরিবারকে দুই কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এসব মৃত্যুর পেছনে দায়িত্বে অবহেলা বা গাফিলতির বিষয় তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানানো হয়েছে।

রোববার (১০ মে) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার হুমায়ন কবীর পল্লব হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিট আবেদন করেন। এতে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তাকে বিবাদী করা হয়েছে।

রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত ৫৫ দিনে দেশে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ৩৫২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী প্রতিদিন গড়ে ছয়জন শিশুর মৃত্যু হলেও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সেই সংখ্যা আরও বেড়েছে। গত এক সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে ঢাকা বিভাগ। অন্যদিকে রংপুর বিভাগে সংক্রমণ ও মৃত্যুহার তুলনামূলক কম। শুধু গতকালই হামে আক্রান্ত বা উপসর্গ নিয়ে আরও নয়জন শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি তথ্যই যদি সঠিক ধরা হয়, তবুও পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। প্রতিদিন নতুন করে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বাড়ছে এবং হাসপাতালগুলোতে ভর্তি রোগীর চাপও বাড়ছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের হার বেশি হওয়ায় স্বাস্থ্যখাতের জন্য এটি বড় ধরনের সতর্কবার্তা হয়ে উঠেছে।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী জানিয়েছেন, দেশে হামের বিস্তার এবং শিশুমৃত্যুর ঘটনা তদন্তে সরকার ইতোমধ্যে পদক্ষেপ নিয়েছে। তিনি বলেন, টিকার সংকট, স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি বা অন্য কোনো অবহেলার কারণে এতগুলো শিশুর মৃত্যু হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক শিশু নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির বাইরে থেকে যাওয়ায় সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়েছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত গরম ও আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। তারা অভিভাবকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, শিশুদের শরীরে জ্বর, র‌্যাশ বা হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করছেন, রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় স্বাস্থ্য নজরদারি আরও জোরদার করা জরুরি। একই সঙ্গে টিকাদান কর্মসূচি বাড়ানো, হাসপাতালে শিশু চিকিৎসা সুবিধা সম্প্রসারণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আইনজীবী ব্যারিস্টার হুমায়ন কবীর পল্লব বলেন, রাষ্ট্রের দায়িত্ব নাগরিকদের স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত করা। যদি অব্যবস্থাপনা বা গাফিলতির কারণে এতগুলো শিশুর মৃত্যু ঘটে থাকে, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকার রাখে।

রিটের শুনানির তারিখ এখনো নির্ধারণ হয়নি। তবে বিষয়টি জনস্বাস্থ্য ও রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতার সঙ্গে জড়িত হওয়ায় এটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।




দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল