দিকপাল

‘ওয়ান বিসিএস, ওয়ান ইয়ার’ পরিকল্পনায় নতুন আশা চাকরিপ্রার্থীদের


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : রবিবার, ১০ মে ২০২৬ | ০৫:১০ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

‘ওয়ান বিসিএস, ওয়ান ইয়ার’ পরিকল্পনায় নতুন আশা চাকরিপ্রার্থীদের

বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) সাম্প্রতিক সময়ে বিসিএস পরীক্ষার ফল প্রকাশে যে গতি দেখিয়েছে, তা চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে নতুন আশার জন্ম দিয়েছে। মাত্র ৯ দিনে ৪৭তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল প্রকাশ এবং ৫০তম বিসিএসের ফল ১১ দিনের মধ্যে ঘোষণা করার ঘটনা দেশের প্রশাসনিক ইতিহাসে এক নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। অতীতে যেখানে বিসিএস পরীক্ষার ফল প্রকাশে কয়েক মাস থেকে এক বছরেরও বেশি সময় লেগে যেত, সেখানে বর্তমান কমিশনের দ্রুত সিদ্ধান্ত ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা আলোচনায় এসেছে ব্যাপকভাবে।

রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গত দেড় বছরে পিএসসির সংস্কার কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। সেখানে কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, “ওয়ান বিসিএস, ওয়ান ইয়ার” রোডম্যাপ বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়েই এখন এগোচ্ছে পিএসসি। এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য হলো—একটি বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ থেকে শুরু করে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া এক বছরের মধ্যে শেষ করা।

পরিসংখ্যান বলছে, অতীতে বিসিএস পরীক্ষার ফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রতা ছিল নিয়মিত ঘটনা। ৪০তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল প্রকাশে সময় লেগেছিল ৮৪ দিন, ৪৩তম বিসিএসে লেগেছিল ১০২ দিন। কিন্তু বর্তমানে সেই চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। ৪৭তম বিসিএসের ফল প্রকাশ করা হয়েছে মাত্র ৯ দিনে এবং ৫০তম বিসিএসের প্রিলিমিনারির ফল প্রকাশিত হয়েছে ১১ দিনের মাথায়। প্রায় ২ লাখ ৯০ হাজার পরীক্ষার্থীর ফল এত দ্রুত প্রকাশ করাকে বড় প্রশাসনিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পিএসসি সদস্য অধ্যাপক ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস বলেন, শুধু দ্রুত ফল প্রকাশই নয়, লিখিত পরীক্ষার মূল্যায়ন পদ্ধতিতেও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে লিখিত পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে এক বছরেরও বেশি সময় লেগে যেত, এখন “সার্কুলার ইভাল্যুশন সিস্টেম” চালুর ফলে সেটি তিন মাসের মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে। তিনি জানান, প্রতিটি প্রশ্নের জন্য বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে একটি মানসম্মত উত্তর কাঠামো নির্ধারণ করা হচ্ছে, যার ভিত্তিতে পরীক্ষার্থীদের খাতা মূল্যায়ন করা হয়। ফলে মার্কিং বৈষম্য কমেছে এবং প্রকৃত মেধাবীরা মূল্যায়িত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

গত এক বছরে ৪৪তম থেকে ৪৯তম বিসিএস পর্যন্ত মোট ৮ হাজার ৭২৮ জনকে বিভিন্ন ক্যাডারে সুপারিশ করেছে বর্তমান কমিশন। এই সংখ্যা প্রশাসনিক কার্যক্রমে পিএসসির গতি বৃদ্ধিরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চাকরিপ্রার্থীদের জন্য আরেকটি বড় স্বস্তির খবর এসেছে আবেদন ফি কমানোর মাধ্যমে। আগে যেখানে বিসিএসের আবেদন করতে ৭০০ টাকা খরচ হতো, এখন তা কমিয়ে ২০০ টাকা করা হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের চাকরিপ্রার্থীদের জন্য এই সিদ্ধান্ত ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। একই সঙ্গে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ২০০ থেকে কমিয়ে ১০০-তে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্তও ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এতে ভাইভা বোর্ডে বৈষম্যের সুযোগ কমবে এবং লিখিত পরীক্ষার ফলাফলের ওপর গুরুত্ব বাড়বে।

পিএসসি এখন নিয়োগপ্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে ডিজিটালাইজেশনের দিকেও জোর দিচ্ছে। বুয়েটের সহায়তায় তৈরি করা হচ্ছে সমন্বিত সফটওয়্যার ব্যবস্থা, যেখানে পরীক্ষার্থীদের জন্য চালু হবে “ইউনিক আইডি”। এর ফলে একজন প্রার্থীকে প্রতিবার নতুন করে তথ্য দিতে হবে না। পাশাপাশি প্রশ্নপত্রে গোপন বারকোড এবং ভাইভা বোর্ড নির্ধারণে লটারিপদ্ধতি চালু করায় স্বচ্ছতা আরও বেড়েছে বলে দাবি কমিশনের।

বিসিএসের সিলেবাসও আধুনিক চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে কাজ চলছে। পিএসসি ও ইউএনডিপির যৌথ উদ্যোগে সিলেবাস হালনাগাদের প্রায় অর্ধেক কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। প্রশাসনিক বাস্তবতা, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এবং কর্মক্ষেত্রের নতুন চাহিদা বিবেচনায় নিয়েই এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

তবে এত ইতিবাচক পরিবর্তনের মাঝেও কিছু বড় চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে। বিশেষ করে নন-ক্যাডার নিয়োগে দীর্ঘসূত্রতা চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে হতাশা তৈরি করেছে। ৪৩ ও ৪৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ অনেক প্রার্থী এখনো কাঙ্ক্ষিত নিয়োগ পাননি। চাকরিপ্রার্থীদের অভিযোগ, দেশে লাখ লাখ সরকারি পদ শূন্য থাকলেও নন-ক্যাডার নিয়োগে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী জানিয়েছেন, শূন্য পদ পূরণে সব মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং নন-ক্যাডার থেকে সর্বোচ্চ নিয়োগের বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

পিএসসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম বলেন, সংবিধান অনুযায়ী কমিশন স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হলেও বাস্তবে তাদের প্রশাসনিক ও আর্থিক স্বাধীনতা সীমিত। তার ভাষায়, নির্বাচন কমিশনের মতো বিধি প্রণয়নের স্বাধীনতা পিএসসির নেই। তিনি মনে করেন, পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা গেলে “ওয়ান বিসিএস, ওয়ান ইয়ার” পরিকল্পনা দীর্ঘমেয়াদে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

এদিকে পুলিশ ভেরিফিকেশন নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। রাজনৈতিক বিবেচনায় অনেক যোগ্য প্রার্থী বাদ পড়ার অভিযোগ বহুদিনের। ৪৪তম বিসিএসে পররাষ্ট্র ক্যাডারে প্রথম হয়েও এক প্রার্থীর নিয়োগ না পাওয়ার ঘটনা আবারও সেই প্রশ্ন সামনে এনেছে। সরকার অবশ্য পুলিশ ভেরিফিকেশন দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার আশ্বাস দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু দ্রুত ফল প্রকাশ করলেই হবে না; নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং আধুনিক মূল্যায়ন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ অধ্যাপক রিদওয়ানুল হক মনে করেন, পিএসসিকে প্রকৃত অর্থে সাংবিধানিক স্বাধীনতা দিতে হবে এবং ভবিষ্যতে “সাইকোমেট্রিক টেস্ট” ও “ডিওবি টেস্টিং”-এর মতো বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন পদ্ধতি যুক্ত করা প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে গত ১৮ মাসে পিএসসি যে পরিবর্তনের বার্তা দিয়েছে, তা চাকরিপ্রত্যাশীদের মধ্যে নতুন আস্থা তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয়—“ওয়ান বিসিএস, ওয়ান ইয়ার” রোডম্যাপ বাস্তবে কতটা সফল হয় এবং সেই সঙ্গে মেধা, সততা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করে পিএসসি সত্যিই জনআস্থা পুরোপুরি ফিরিয়ে আনতে পারে কি না।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

রোববার, ১০ মে ২০২৬


‘ওয়ান বিসিএস, ওয়ান ইয়ার’ পরিকল্পনায় নতুন আশা চাকরিপ্রার্থীদের

প্রকাশের তারিখ : ১০ মে ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) সাম্প্রতিক সময়ে বিসিএস পরীক্ষার ফল প্রকাশে যে গতি দেখিয়েছে, তা চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে নতুন আশার জন্ম দিয়েছে। মাত্র ৯ দিনে ৪৭তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল প্রকাশ এবং ৫০তম বিসিএসের ফল ১১ দিনের মধ্যে ঘোষণা করার ঘটনা দেশের প্রশাসনিক ইতিহাসে এক নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। অতীতে যেখানে বিসিএস পরীক্ষার ফল প্রকাশে কয়েক মাস থেকে এক বছরেরও বেশি সময় লেগে যেত, সেখানে বর্তমান কমিশনের দ্রুত সিদ্ধান্ত ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা আলোচনায় এসেছে ব্যাপকভাবে।

রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গত দেড় বছরে পিএসসির সংস্কার কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। সেখানে কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, “ওয়ান বিসিএস, ওয়ান ইয়ার” রোডম্যাপ বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়েই এখন এগোচ্ছে পিএসসি। এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য হলো—একটি বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ থেকে শুরু করে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া এক বছরের মধ্যে শেষ করা।

পরিসংখ্যান বলছে, অতীতে বিসিএস পরীক্ষার ফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রতা ছিল নিয়মিত ঘটনা। ৪০তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল প্রকাশে সময় লেগেছিল ৮৪ দিন, ৪৩তম বিসিএসে লেগেছিল ১০২ দিন। কিন্তু বর্তমানে সেই চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। ৪৭তম বিসিএসের ফল প্রকাশ করা হয়েছে মাত্র ৯ দিনে এবং ৫০তম বিসিএসের প্রিলিমিনারির ফল প্রকাশিত হয়েছে ১১ দিনের মাথায়। প্রায় ২ লাখ ৯০ হাজার পরীক্ষার্থীর ফল এত দ্রুত প্রকাশ করাকে বড় প্রশাসনিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পিএসসি সদস্য অধ্যাপক ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস বলেন, শুধু দ্রুত ফল প্রকাশই নয়, লিখিত পরীক্ষার মূল্যায়ন পদ্ধতিতেও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে লিখিত পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে এক বছরেরও বেশি সময় লেগে যেত, এখন “সার্কুলার ইভাল্যুশন সিস্টেম” চালুর ফলে সেটি তিন মাসের মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে। তিনি জানান, প্রতিটি প্রশ্নের জন্য বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে একটি মানসম্মত উত্তর কাঠামো নির্ধারণ করা হচ্ছে, যার ভিত্তিতে পরীক্ষার্থীদের খাতা মূল্যায়ন করা হয়। ফলে মার্কিং বৈষম্য কমেছে এবং প্রকৃত মেধাবীরা মূল্যায়িত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

গত এক বছরে ৪৪তম থেকে ৪৯তম বিসিএস পর্যন্ত মোট ৮ হাজার ৭২৮ জনকে বিভিন্ন ক্যাডারে সুপারিশ করেছে বর্তমান কমিশন। এই সংখ্যা প্রশাসনিক কার্যক্রমে পিএসসির গতি বৃদ্ধিরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চাকরিপ্রার্থীদের জন্য আরেকটি বড় স্বস্তির খবর এসেছে আবেদন ফি কমানোর মাধ্যমে। আগে যেখানে বিসিএসের আবেদন করতে ৭০০ টাকা খরচ হতো, এখন তা কমিয়ে ২০০ টাকা করা হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের চাকরিপ্রার্থীদের জন্য এই সিদ্ধান্ত ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। একই সঙ্গে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ২০০ থেকে কমিয়ে ১০০-তে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্তও ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এতে ভাইভা বোর্ডে বৈষম্যের সুযোগ কমবে এবং লিখিত পরীক্ষার ফলাফলের ওপর গুরুত্ব বাড়বে।

পিএসসি এখন নিয়োগপ্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে ডিজিটালাইজেশনের দিকেও জোর দিচ্ছে। বুয়েটের সহায়তায় তৈরি করা হচ্ছে সমন্বিত সফটওয়্যার ব্যবস্থা, যেখানে পরীক্ষার্থীদের জন্য চালু হবে “ইউনিক আইডি”। এর ফলে একজন প্রার্থীকে প্রতিবার নতুন করে তথ্য দিতে হবে না। পাশাপাশি প্রশ্নপত্রে গোপন বারকোড এবং ভাইভা বোর্ড নির্ধারণে লটারিপদ্ধতি চালু করায় স্বচ্ছতা আরও বেড়েছে বলে দাবি কমিশনের।

বিসিএসের সিলেবাসও আধুনিক চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে কাজ চলছে। পিএসসি ও ইউএনডিপির যৌথ উদ্যোগে সিলেবাস হালনাগাদের প্রায় অর্ধেক কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। প্রশাসনিক বাস্তবতা, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এবং কর্মক্ষেত্রের নতুন চাহিদা বিবেচনায় নিয়েই এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

তবে এত ইতিবাচক পরিবর্তনের মাঝেও কিছু বড় চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে। বিশেষ করে নন-ক্যাডার নিয়োগে দীর্ঘসূত্রতা চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে হতাশা তৈরি করেছে। ৪৩ ও ৪৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ অনেক প্রার্থী এখনো কাঙ্ক্ষিত নিয়োগ পাননি। চাকরিপ্রার্থীদের অভিযোগ, দেশে লাখ লাখ সরকারি পদ শূন্য থাকলেও নন-ক্যাডার নিয়োগে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী জানিয়েছেন, শূন্য পদ পূরণে সব মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং নন-ক্যাডার থেকে সর্বোচ্চ নিয়োগের বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

পিএসসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম বলেন, সংবিধান অনুযায়ী কমিশন স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হলেও বাস্তবে তাদের প্রশাসনিক ও আর্থিক স্বাধীনতা সীমিত। তার ভাষায়, নির্বাচন কমিশনের মতো বিধি প্রণয়নের স্বাধীনতা পিএসসির নেই। তিনি মনে করেন, পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা গেলে “ওয়ান বিসিএস, ওয়ান ইয়ার” পরিকল্পনা দীর্ঘমেয়াদে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

এদিকে পুলিশ ভেরিফিকেশন নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। রাজনৈতিক বিবেচনায় অনেক যোগ্য প্রার্থী বাদ পড়ার অভিযোগ বহুদিনের। ৪৪তম বিসিএসে পররাষ্ট্র ক্যাডারে প্রথম হয়েও এক প্রার্থীর নিয়োগ না পাওয়ার ঘটনা আবারও সেই প্রশ্ন সামনে এনেছে। সরকার অবশ্য পুলিশ ভেরিফিকেশন দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার আশ্বাস দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু দ্রুত ফল প্রকাশ করলেই হবে না; নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং আধুনিক মূল্যায়ন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ অধ্যাপক রিদওয়ানুল হক মনে করেন, পিএসসিকে প্রকৃত অর্থে সাংবিধানিক স্বাধীনতা দিতে হবে এবং ভবিষ্যতে “সাইকোমেট্রিক টেস্ট” ও “ডিওবি টেস্টিং”-এর মতো বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন পদ্ধতি যুক্ত করা প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে গত ১৮ মাসে পিএসসি যে পরিবর্তনের বার্তা দিয়েছে, তা চাকরিপ্রত্যাশীদের মধ্যে নতুন আস্থা তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয়—“ওয়ান বিসিএস, ওয়ান ইয়ার” রোডম্যাপ বাস্তবে কতটা সফল হয় এবং সেই সঙ্গে মেধা, সততা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করে পিএসসি সত্যিই জনআস্থা পুরোপুরি ফিরিয়ে আনতে পারে কি না।




দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল