ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা এবং অস্ত্রভাণ্ডারের নিরাপত্তা নিয়ে এক অভাবনীয় শঙ্কার কথা প্রকাশ করেছেন দেশটির প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর মার্ক কেলি। গত রবিবার সিবিএস-এর জনপ্রিয় টকশো 'ফেস দ্য নেশন'-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় সতর্ক করে বলেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধে মার্কিন অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত এমন এক বিপজ্জনক স্তরে নেমে এসেছে, যা ভবিষ্যতে অন্য কোনো বড় আকারের আন্তর্জাতিক সংঘাত মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলে দিতে পারে। মার্ক কেলি পেন্টাগনের সাম্প্রতিক ব্রিফিংয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, এটিএসিএমএস, এসএম-থ্রি ইন্টারসেপ্টর এবং প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মতো অত্যাধুনিক ও কৌশলগত সরঞ্জামের মজুত যেভাবে তলানিতে ঠেকেছে, তা সত্যিই পিলে চমকে দেওয়ার মতো।
সিনেটর কেলির মতে, কোনো সুনির্দিষ্ট কৌশলগত লক্ষ্য বা দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ছাড়াই দেশটিকে এই যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলা হয়েছে। এর ফলে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান আধিপত্য কিংবা বিশ্বের অন্য কোনো প্রান্তে সম্ভাব্য সামরিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমেরিকানরা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি অনিরাপদ হয়ে পড়েছে। সিবিএস-এর এক বিশেষ তথ্যমতে, এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। তবে আর্থিক ক্ষতির চেয়েও বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে অস্ত্রের শূন্যতা। কেলি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বর্তমানে যেসব উন্নত সমরাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, সেগুলো পুনরায় তৈরি করে মজুত পূর্ণ করতে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। যদি ভবিষ্যতে কোনো সংঘাত কয়েক দিনের বদলে কয়েক মাস স্থায়ী হয়, তবে মার্কিন সামরিক প্রস্তুতি ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।
তাইওয়ান ইস্যুতে চীনের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি মন্তব্য করেন যে, ইরানের সঙ্গে এই সংঘাত না হলে যুক্তরাষ্ট্র আজ যতটা শক্তিশালী অবস্থানে থাকতো, বর্তমানে তার চেয়ে অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে। মার্ক কেলি এই পরিস্থিতির জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের গৃহীত পূর্ববর্তী নীতিগুলোকে দায়ী করেন। তিনি মনে করেন, ট্রাম্পের জেসিপিওএ (JCPOA) পারমাণবিক চুক্তি থেকে সরে আসার সিদ্ধান্তই মূলত বর্তমান সংঘাতের পথ প্রশস্ত করেছে। এছাড়া প্রশাসনের ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বিশাল প্রতিরক্ষা বাজেটের সমালোচনা করে তিনি বলেন, 'গোল্ডেন ডোম' ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা প্রকল্পের মতো অবাস্তব প্রযুক্তিতে অর্থ ঢেলে আদতে কোনো লাভ হবে না, কারণ এর পেছনের পদার্থবিজ্ঞান অত্যন্ত জটিল এবং এর কার্যকারিতা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।
উল্লেখ্য যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুরু হওয়া এই সরাসরি সামরিক অভিযানে ইরানজুড়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। হামলার জবাবে ইরানও ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪’-এর মাধ্যমে পাল্টা আঘাত হানে। বর্তমানে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চললেও ইরানের প্রধান বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ এখনও বহাল রয়েছে। এই দীর্ঘমেয়াদী সামরিক অস্থিরতা বিশ্বরাজনীতির মেরুকরণকে যেমন বদলে দিচ্ছে, তেমনি খোদ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও তৈরি করছে গভীর সামরিক ও রাজনৈতিক উদ্বেগ।

সোমবার, ১১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ মে ২০২৬
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা এবং অস্ত্রভাণ্ডারের নিরাপত্তা নিয়ে এক অভাবনীয় শঙ্কার কথা প্রকাশ করেছেন দেশটির প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর মার্ক কেলি। গত রবিবার সিবিএস-এর জনপ্রিয় টকশো 'ফেস দ্য নেশন'-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় সতর্ক করে বলেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধে মার্কিন অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত এমন এক বিপজ্জনক স্তরে নেমে এসেছে, যা ভবিষ্যতে অন্য কোনো বড় আকারের আন্তর্জাতিক সংঘাত মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলে দিতে পারে। মার্ক কেলি পেন্টাগনের সাম্প্রতিক ব্রিফিংয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, এটিএসিএমএস, এসএম-থ্রি ইন্টারসেপ্টর এবং প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মতো অত্যাধুনিক ও কৌশলগত সরঞ্জামের মজুত যেভাবে তলানিতে ঠেকেছে, তা সত্যিই পিলে চমকে দেওয়ার মতো।
সিনেটর কেলির মতে, কোনো সুনির্দিষ্ট কৌশলগত লক্ষ্য বা দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ছাড়াই দেশটিকে এই যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলা হয়েছে। এর ফলে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান আধিপত্য কিংবা বিশ্বের অন্য কোনো প্রান্তে সম্ভাব্য সামরিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমেরিকানরা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি অনিরাপদ হয়ে পড়েছে। সিবিএস-এর এক বিশেষ তথ্যমতে, এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। তবে আর্থিক ক্ষতির চেয়েও বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে অস্ত্রের শূন্যতা। কেলি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বর্তমানে যেসব উন্নত সমরাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, সেগুলো পুনরায় তৈরি করে মজুত পূর্ণ করতে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। যদি ভবিষ্যতে কোনো সংঘাত কয়েক দিনের বদলে কয়েক মাস স্থায়ী হয়, তবে মার্কিন সামরিক প্রস্তুতি ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।
তাইওয়ান ইস্যুতে চীনের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি মন্তব্য করেন যে, ইরানের সঙ্গে এই সংঘাত না হলে যুক্তরাষ্ট্র আজ যতটা শক্তিশালী অবস্থানে থাকতো, বর্তমানে তার চেয়ে অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে। মার্ক কেলি এই পরিস্থিতির জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের গৃহীত পূর্ববর্তী নীতিগুলোকে দায়ী করেন। তিনি মনে করেন, ট্রাম্পের জেসিপিওএ (JCPOA) পারমাণবিক চুক্তি থেকে সরে আসার সিদ্ধান্তই মূলত বর্তমান সংঘাতের পথ প্রশস্ত করেছে। এছাড়া প্রশাসনের ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বিশাল প্রতিরক্ষা বাজেটের সমালোচনা করে তিনি বলেন, 'গোল্ডেন ডোম' ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা প্রকল্পের মতো অবাস্তব প্রযুক্তিতে অর্থ ঢেলে আদতে কোনো লাভ হবে না, কারণ এর পেছনের পদার্থবিজ্ঞান অত্যন্ত জটিল এবং এর কার্যকারিতা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।
উল্লেখ্য যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুরু হওয়া এই সরাসরি সামরিক অভিযানে ইরানজুড়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। হামলার জবাবে ইরানও ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪’-এর মাধ্যমে পাল্টা আঘাত হানে। বর্তমানে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চললেও ইরানের প্রধান বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ এখনও বহাল রয়েছে। এই দীর্ঘমেয়াদী সামরিক অস্থিরতা বিশ্বরাজনীতির মেরুকরণকে যেমন বদলে দিচ্ছে, তেমনি খোদ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও তৈরি করছে গভীর সামরিক ও রাজনৈতিক উদ্বেগ।

আপনার মতামত লিখুন