জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক প্রভাবশালী কর্মকর্তা মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে দায়ের করা সাড়ে ৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলাটি নতুন মোড় নিয়েছে। তথাকথিত ‘ছাগলকাণ্ডে’ দেশব্যাপী আলোচিত এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন বা চার্জগঠনের জন্য আগামী ৫ জুলাই দিন ধার্য করেছেন আদালত। আজ সোমবার (১১ মে, ২০২৬) বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক শারমিন আফরোজ এই আদেশ প্রদান করেন। মূলত আসামিপক্ষের আইনজীবীদের সময়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত শুনানির এই নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। মতিউর রহমানের আইনজীবী মো. ওয়াহিদুজ্জামান লিটন ঢালি গণমাধ্যমকে বিষটি নিশ্চিত করেছেন।
দুদকের তদন্ত প্রতিবেদন ও মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে সম্পদের তথ্য গোপন এবং দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল বিত্ত-বৈভবের মালিক হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। দুদকের দাবি, মতিউর রহমান তার দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে ১ কোটি ২৪ লাখ ২৫ হাজার ২১১ টাকার সম্পদের তথ্য পুরোপুরি গোপন করেছেন, যা আইনি ভাষায় মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য হিসেবে গণ্য। একজন সরকারি চাকরিজীবী হয়েও নিজের ওপর অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ গ্রহণ এবং দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত কালো টাকা দিয়ে তিনি নিজের নামে ৫ কোটি ৪০ লাখ ৯৭ হাজার ৬৭২ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন।
২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর মতিউর রহমান ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী শাম্মী আখতার শিবলীর বিরুদ্ধে দুটি পৃথক মামলা করে দুদক। এই দুই মামলায় তাদের বিরুদ্ধে মোট ১১ কোটি ১৮ লাখ ৮৬ হাজার ১২০ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়। প্রথম মামলাটিতে এককভাবে মতিউরের বিরুদ্ধে ৫ কোটি ২৮ লাখ ৭৫ হাজার ৯৩৯ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ এবং ১ কোটি ২৭ লাখ ৬৬ হাজার ২১৬ টাকার তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়, যার চার্জশিট বা অভিযোগপত্র ইতোমধ্যে দুদক অনুমোদন দিয়েছে। অন্যদিকে, দ্বিতীয় মামলায় মতিউরের পাশাপাশি তার দ্বিতীয় স্ত্রীকেও আসামি করা হয়েছে, যেখানে শিবলীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এই মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া এখনো চলমান।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ঈদুল আজহার আগে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের সাদিক অ্যাগ্রো থেকে ইফাত নামের এক তরুণের ১৫ লাখ টাকা দিয়ে একটি ছাগল কেনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। সেই ঘটনার সূত্র ধরে ইফাতের বাবা হিসেবে মতিউর রহমানের নাম সামনে আসায় সারা দেশে তোলপাড় শুরু হয়। একজন সরকারি কর্মকর্তার পরিবারের এই উচ্চাভিলাষী জীবনযাপন নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হলে শুরু হয় আইনি তদন্ত। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি মতিউর রহমান ও তার প্রথম স্ত্রী লায়লা কানিজ লাকিকে ডিবি পুলিশ গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে এই মামলার আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং আগামী ৫ জুলাইয়ের শুনানি এই দুর্নীতির বিচার প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সোমবার, ১১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ মে ২০২৬
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক প্রভাবশালী কর্মকর্তা মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে দায়ের করা সাড়ে ৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলাটি নতুন মোড় নিয়েছে। তথাকথিত ‘ছাগলকাণ্ডে’ দেশব্যাপী আলোচিত এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন বা চার্জগঠনের জন্য আগামী ৫ জুলাই দিন ধার্য করেছেন আদালত। আজ সোমবার (১১ মে, ২০২৬) বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক শারমিন আফরোজ এই আদেশ প্রদান করেন। মূলত আসামিপক্ষের আইনজীবীদের সময়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত শুনানির এই নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। মতিউর রহমানের আইনজীবী মো. ওয়াহিদুজ্জামান লিটন ঢালি গণমাধ্যমকে বিষটি নিশ্চিত করেছেন।
দুদকের তদন্ত প্রতিবেদন ও মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে সম্পদের তথ্য গোপন এবং দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল বিত্ত-বৈভবের মালিক হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। দুদকের দাবি, মতিউর রহমান তার দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে ১ কোটি ২৪ লাখ ২৫ হাজার ২১১ টাকার সম্পদের তথ্য পুরোপুরি গোপন করেছেন, যা আইনি ভাষায় মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য হিসেবে গণ্য। একজন সরকারি চাকরিজীবী হয়েও নিজের ওপর অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ গ্রহণ এবং দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত কালো টাকা দিয়ে তিনি নিজের নামে ৫ কোটি ৪০ লাখ ৯৭ হাজার ৬৭২ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন।
২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর মতিউর রহমান ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী শাম্মী আখতার শিবলীর বিরুদ্ধে দুটি পৃথক মামলা করে দুদক। এই দুই মামলায় তাদের বিরুদ্ধে মোট ১১ কোটি ১৮ লাখ ৮৬ হাজার ১২০ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়। প্রথম মামলাটিতে এককভাবে মতিউরের বিরুদ্ধে ৫ কোটি ২৮ লাখ ৭৫ হাজার ৯৩৯ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ এবং ১ কোটি ২৭ লাখ ৬৬ হাজার ২১৬ টাকার তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়, যার চার্জশিট বা অভিযোগপত্র ইতোমধ্যে দুদক অনুমোদন দিয়েছে। অন্যদিকে, দ্বিতীয় মামলায় মতিউরের পাশাপাশি তার দ্বিতীয় স্ত্রীকেও আসামি করা হয়েছে, যেখানে শিবলীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এই মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া এখনো চলমান।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ঈদুল আজহার আগে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের সাদিক অ্যাগ্রো থেকে ইফাত নামের এক তরুণের ১৫ লাখ টাকা দিয়ে একটি ছাগল কেনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। সেই ঘটনার সূত্র ধরে ইফাতের বাবা হিসেবে মতিউর রহমানের নাম সামনে আসায় সারা দেশে তোলপাড় শুরু হয়। একজন সরকারি কর্মকর্তার পরিবারের এই উচ্চাভিলাষী জীবনযাপন নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হলে শুরু হয় আইনি তদন্ত। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি মতিউর রহমান ও তার প্রথম স্ত্রী লায়লা কানিজ লাকিকে ডিবি পুলিশ গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে এই মামলার আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং আগামী ৫ জুলাইয়ের শুনানি এই দুর্নীতির বিচার প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন