রাজধানীর মিরপুরে পপুলার মডেল হাই স্কুলের মেধাবী শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারের মর্মান্তিক ও নির্মম মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের দ্রুত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে মিরপুর এলাকা। নিস্পাপ এই শিক্ষার্থীর অকাল প্রয়াণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এলাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ অভিভাবকরা দলমত নির্বিশেষে স্বতঃস্ফূর্তভাবে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নেন। শোকে স্তব্ধ এবং ক্ষোভে ফেটে পড়া শত শত মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকায় এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
বৃহস্পতিবার সকালে রামিসার নিজ বাসভবনের সম্মুখভাগ থেকে ‘মিরপুর এ এইচ মডেল স্কুল’-এর ব্যানারে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি মিরপুর এগারো নম্বরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও প্রধান প্রধান সংযোগ পথ প্রদক্ষিণ করে। তীব্র রোদ উপেক্ষা করে মিছিলে অংশ নেওয়া কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের হাতে ছিল নিজেদের সহপাঠী হারানোর তীব্র বেদনা ও প্রতিবাদের ভাষা। তাদের ছোট ছোট হাতে ধরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ডে ‘আমরা ন্যায়বিচার চাই’ এবং ‘রামিসার হত্যার বিচার করো’—এমন সব মর্মস্পর্শী দাবি ও স্লোগান লেখা ছিল। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও বর্বরোচিত ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার জন্য শিশু শিক্ষার্থীরা রাজপথে দাঁড়িয়ে সমস্বরে আকুল আবেদন জানায়।
বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নেওয়া বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অত্যন্ত ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, একটি স্বাধীন দেশে এমন নৃশংস ও অমানবিক হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং তার চারপাশের পরিবেশ যদি শিশুদের জন্য নিরাপদ না হয়, তবে জাতি হিসেবে আমাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারের দিকে ধাবিত হবে। শিক্ষকরা জোর দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে আর কোনো মায়ের কোল যেন এভাবে খালি না হয় এবং আর কোনো অবুজ শিশুকে যেন এমন নির্মম পরিস্থিতির শিকার হতে না হয়, সেজন্য এই ঘটনার মূল অপরাধীর সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত সাধারণ অভিভাবকরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন যে, মিরপুরের ওই সুনির্দিষ্ট এলাকায় পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা সচল না থাকায় এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো নিরাপত্তা জোরদার না করার কারণে দিন দিন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। প্রতিদিন সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে তারা চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে সময় পার করেন। নিজেদের সন্তানদের জীবনের নিরাপত্তার স্বার্থে তারা অনতিবিলম্বে পুরো মিরপুর এলাকা জুড়ে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি, সচল সিসি ক্যামেরার সংখ্যা বৃদ্ধি এবং দৃশ্যমান পুলিশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের উচ্চ মহলের প্রতি জোর দাবি জানান।
অবশ্য রামিসার এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ইতোমধ্যে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বর্তমানে মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া পুরোদমে চলমান রয়েছে। তবে আন্দোলনকারী শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, কেবল গ্রেপ্তারের মধ্যেই এই প্রতিবাদের শেষ নয়। তারা মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দোষীর দৃষ্টান্তমূলক ফাঁসি বা সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকর করার দাবি জানিয়ে তাদের এদিনের কর্মসূচি সমাপ্ত করেন। একই সাথে তারা হুঁশিয়ারি দেন যে, যদি বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয় তবে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬
রাজধানীর মিরপুরে পপুলার মডেল হাই স্কুলের মেধাবী শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারের মর্মান্তিক ও নির্মম মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের দ্রুত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে মিরপুর এলাকা। নিস্পাপ এই শিক্ষার্থীর অকাল প্রয়াণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এলাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ অভিভাবকরা দলমত নির্বিশেষে স্বতঃস্ফূর্তভাবে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নেন। শোকে স্তব্ধ এবং ক্ষোভে ফেটে পড়া শত শত মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকায় এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
বৃহস্পতিবার সকালে রামিসার নিজ বাসভবনের সম্মুখভাগ থেকে ‘মিরপুর এ এইচ মডেল স্কুল’-এর ব্যানারে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি মিরপুর এগারো নম্বরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও প্রধান প্রধান সংযোগ পথ প্রদক্ষিণ করে। তীব্র রোদ উপেক্ষা করে মিছিলে অংশ নেওয়া কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের হাতে ছিল নিজেদের সহপাঠী হারানোর তীব্র বেদনা ও প্রতিবাদের ভাষা। তাদের ছোট ছোট হাতে ধরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ডে ‘আমরা ন্যায়বিচার চাই’ এবং ‘রামিসার হত্যার বিচার করো’—এমন সব মর্মস্পর্শী দাবি ও স্লোগান লেখা ছিল। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও বর্বরোচিত ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার জন্য শিশু শিক্ষার্থীরা রাজপথে দাঁড়িয়ে সমস্বরে আকুল আবেদন জানায়।
বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নেওয়া বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অত্যন্ত ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, একটি স্বাধীন দেশে এমন নৃশংস ও অমানবিক হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং তার চারপাশের পরিবেশ যদি শিশুদের জন্য নিরাপদ না হয়, তবে জাতি হিসেবে আমাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারের দিকে ধাবিত হবে। শিক্ষকরা জোর দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে আর কোনো মায়ের কোল যেন এভাবে খালি না হয় এবং আর কোনো অবুজ শিশুকে যেন এমন নির্মম পরিস্থিতির শিকার হতে না হয়, সেজন্য এই ঘটনার মূল অপরাধীর সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত সাধারণ অভিভাবকরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন যে, মিরপুরের ওই সুনির্দিষ্ট এলাকায় পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা সচল না থাকায় এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো নিরাপত্তা জোরদার না করার কারণে দিন দিন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। প্রতিদিন সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে তারা চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে সময় পার করেন। নিজেদের সন্তানদের জীবনের নিরাপত্তার স্বার্থে তারা অনতিবিলম্বে পুরো মিরপুর এলাকা জুড়ে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি, সচল সিসি ক্যামেরার সংখ্যা বৃদ্ধি এবং দৃশ্যমান পুলিশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের উচ্চ মহলের প্রতি জোর দাবি জানান।
অবশ্য রামিসার এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ইতোমধ্যে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বর্তমানে মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া পুরোদমে চলমান রয়েছে। তবে আন্দোলনকারী শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, কেবল গ্রেপ্তারের মধ্যেই এই প্রতিবাদের শেষ নয়। তারা মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দোষীর দৃষ্টান্তমূলক ফাঁসি বা সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকর করার দাবি জানিয়ে তাদের এদিনের কর্মসূচি সমাপ্ত করেন। একই সাথে তারা হুঁশিয়ারি দেন যে, যদি বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয় তবে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন