দিকপাল

সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ৭৭ হাজারের বেশি বাংলাদেশি হজযাত্রী


আকাশ মোল্লা
আকাশ মোল্লা স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : শনিবার, ২৩ মে ২০২৬ | ০৮:২২ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ৭৭ হাজারের বেশি বাংলাদেশি হজযাত্রী

পবিত্র হজ পালনের মহিমান্বিত ও পুণ্যময় উদ্দেশ্য নিয়ে ইতিমধ্যে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। এ বছর তিনটি ভিন্ন বিমান সংস্থার মোট ১৯৯টি বিশেষ হজ ফ্লাইটের মাধ্যমে সফলভাবে ৭৭ হাজার ৪৩২ জন বাংলাদেশি পুণ্যার্থী মক্কা ও মদিনার পবিত্র ভূমিতে গিয়ে উপস্থিত হয়েছেন। বাংলাদেশ হজ অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচালক মো. লোকমান হোসেনের দেওয়া সর্বশেষ দাপ্তরিক তথ্য অনুযায়ী, এই বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে সরকারি বিশেষ ব্যবস্থাপনায় গিয়েছেন ৪ হাজার ৪৬৪ জন এবং বেসরকারি বিভিন্ন এজেন্সির ব্যবস্থাপনায় সৌদি আরব পৌঁছেছেন আরও ৭২ হাজার ৯৬৮ জন হজযাত্রী। অফিশিয়াল হজ বুলেটিনের বিবরণ অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে এবারের প্রাক-হজ ফ্লাইট পরিচালনার যাবতীয় কার্যক্রম অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পাশাপাশি আরও দুটি আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থার ডেডিকেটেড ফ্লাইটের মাধ্যমে এই ৭৭ হাজার ৪৩২ জন যাত্রী সৌদি আরবের নির্ধারিত বিমানবন্দরগুলোতে অবতরণ করেছেন।

বিমানের সূচি এবং এয়ারলাইনভিত্তিক পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বরাবরের মতোই সিংহভাগ যাত্রী পরিবহন করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। তারা নিজেদের মোট ৯৮টি বিশেষ ফ্লাইটের মাধ্যমে ৩৮ হাজার ৭০২ জন হজযাত্রীকে জেদ্দা ও মদিনায় পৌঁছে দিয়েছে। অন্যদিকে সৌদি আরবের জাতীয় বিমান সংস্থা সৌদিয়া এয়ারলাইন্স তাদের ৭৩টি ফ্লাইটের সাহায্যে ২৭Map হাজার ৩৪০ জন এবং অপর সৌদি বিমান সংস্থা ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স তাদের ২৮টি ফ্লাইটের মাধ্যমে ১১ হাজার ৩৯০ জন বাংলাদেশি পুণ্যার্থীকে পবিত্র ভূমিতে নিয়ে গেছে। উল্লেখ্য, এ বছর বাংলাদেশ থেকে সর্বমোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন ধর্মপ্রাণ মানুষকে পবিত্র হজ পালনের আনুষ্ঠানিক অনুমতি বা কোটা দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনার জন্য নির্ধারিত কোটা ছিল ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনার জন্য বরাদ্দ ছিল ৭৩ হাজার ৯৩৫ জনের কোটা।

এদিকে হজ পালনের এই পবিত্র আবহের মধ্যেই কিছু বেদনাদায়ক খবরও সামনে এসেছে। সৌদি আরবের বাংলাদেশ হজ বুলেটিনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সেখানে পৌঁছানোর পর এখন পর্যন্ত মোট ২১ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। মহান আল্লাহর ঘরে ইবাদত করা অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী এই পুণ্যার্থীদের মধ্যে ১৫ জন পুরুষ এবং ৬ জন নারী রয়েছেন। ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী, এদের মধ্যে ১৪ জন পবিত্র মক্কা নগরীতে এবং বাকি ৭ জন মদিনা মুনাওয়ারায় মারা গেছেন। মৃতদের আত্মার মাগফিরাত কামনার পাশাপাশি সেখানে অবস্থানরত বাকি হজযাত্রীদের সার্বিক নিরাপত্তা ও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ও সৌদি প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মক্কা ও মদিনার বাংলাদেশ মেডিকেল টিম গতকাল পর্যন্ত প্রায় ৪৩ হাজার ৪৪০ জন অসুস্থ বা চিকিৎসাপ্রার্থী হজযাত্রীকে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা ও ওষুধ সরবরাহ করেছে। এর পাশাপাশি হাজীদের পথনির্দেশ ও বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে নিয়োজিত তথ্যপ্রযুক্তি সহায়তা কেন্দ্র বা আইটি হেল্পডেস্ক থেকে এখন পর্যন্ত ২০ হাজার ২৮৮ জন পুণ্যার্থীকে জরুরি সেবা দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের হজযাত্রীদের এই পবিত্র যাত্রার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছিল গত ১৭ এপ্রিল। ওই দিন দিবাগত রাত ১১টা ৫৭ মিনিটে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৪১৮ জন প্রথম দফার যাত্রী নিয়ে বিমানের উদ্বোধনী ফ্লাইটটি জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে ডানা মেলেছিল। মুসলিম উম্মাহর এই মহাসমাবেশ তথা হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা আগামী ২৬ মে অনুষ্ঠিত হবে। হজের যাবতীয় ধর্মীয় নিয়মকানুন ও রীতিনীতি সম্পন্ন করার পর আগামী ৩০ মে থেকে জেদ্দা বিমানবন্দর থেকে পুণ্যার্থীদের নিয়ে দেশের উদ্দেশে ফিরতি হজ ফ্লাইট চলাচল শুরু হবে। বাংলাদেশ হজ অফিসের পরিকল্পনা অনুযায়ী, হাজীদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার এই ফিরতি ফ্লাইট কার্যক্রম আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে অব্যাহত থাকবে। সব মিলিয়ে, তীব্র গরম আর ভিড়ের মাঝেও আল্লাহর মেহমানদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে ও হজের সার্বিক ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠু রাখতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ মাঠে তৎপর রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

শনিবার, ২৩ মে ২০২৬


সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ৭৭ হাজারের বেশি বাংলাদেশি হজযাত্রী

প্রকাশের তারিখ : ২৩ মে ২০২৬

featured Image

পবিত্র হজ পালনের মহিমান্বিত ও পুণ্যময় উদ্দেশ্য নিয়ে ইতিমধ্যে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। এ বছর তিনটি ভিন্ন বিমান সংস্থার মোট ১৯৯টি বিশেষ হজ ফ্লাইটের মাধ্যমে সফলভাবে ৭৭ হাজার ৪৩২ জন বাংলাদেশি পুণ্যার্থী মক্কা ও মদিনার পবিত্র ভূমিতে গিয়ে উপস্থিত হয়েছেন। বাংলাদেশ হজ অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচালক মো. লোকমান হোসেনের দেওয়া সর্বশেষ দাপ্তরিক তথ্য অনুযায়ী, এই বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে সরকারি বিশেষ ব্যবস্থাপনায় গিয়েছেন ৪ হাজার ৪৬৪ জন এবং বেসরকারি বিভিন্ন এজেন্সির ব্যবস্থাপনায় সৌদি আরব পৌঁছেছেন আরও ৭২ হাজার ৯৬৮ জন হজযাত্রী। অফিশিয়াল হজ বুলেটিনের বিবরণ অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে এবারের প্রাক-হজ ফ্লাইট পরিচালনার যাবতীয় কার্যক্রম অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পাশাপাশি আরও দুটি আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থার ডেডিকেটেড ফ্লাইটের মাধ্যমে এই ৭৭ হাজার ৪৩২ জন যাত্রী সৌদি আরবের নির্ধারিত বিমানবন্দরগুলোতে অবতরণ করেছেন।

বিমানের সূচি এবং এয়ারলাইনভিত্তিক পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বরাবরের মতোই সিংহভাগ যাত্রী পরিবহন করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। তারা নিজেদের মোট ৯৮টি বিশেষ ফ্লাইটের মাধ্যমে ৩৮ হাজার ৭০২ জন হজযাত্রীকে জেদ্দা ও মদিনায় পৌঁছে দিয়েছে। অন্যদিকে সৌদি আরবের জাতীয় বিমান সংস্থা সৌদিয়া এয়ারলাইন্স তাদের ৭৩টি ফ্লাইটের সাহায্যে ২৭Map হাজার ৩৪০ জন এবং অপর সৌদি বিমান সংস্থা ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স তাদের ২৮টি ফ্লাইটের মাধ্যমে ১১ হাজার ৩৯০ জন বাংলাদেশি পুণ্যার্থীকে পবিত্র ভূমিতে নিয়ে গেছে। উল্লেখ্য, এ বছর বাংলাদেশ থেকে সর্বমোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন ধর্মপ্রাণ মানুষকে পবিত্র হজ পালনের আনুষ্ঠানিক অনুমতি বা কোটা দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনার জন্য নির্ধারিত কোটা ছিল ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনার জন্য বরাদ্দ ছিল ৭৩ হাজার ৯৩৫ জনের কোটা।

এদিকে হজ পালনের এই পবিত্র আবহের মধ্যেই কিছু বেদনাদায়ক খবরও সামনে এসেছে। সৌদি আরবের বাংলাদেশ হজ বুলেটিনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সেখানে পৌঁছানোর পর এখন পর্যন্ত মোট ২১ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। মহান আল্লাহর ঘরে ইবাদত করা অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী এই পুণ্যার্থীদের মধ্যে ১৫ জন পুরুষ এবং ৬ জন নারী রয়েছেন। ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী, এদের মধ্যে ১৪ জন পবিত্র মক্কা নগরীতে এবং বাকি ৭ জন মদিনা মুনাওয়ারায় মারা গেছেন। মৃতদের আত্মার মাগফিরাত কামনার পাশাপাশি সেখানে অবস্থানরত বাকি হজযাত্রীদের সার্বিক নিরাপত্তা ও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ও সৌদি প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মক্কা ও মদিনার বাংলাদেশ মেডিকেল টিম গতকাল পর্যন্ত প্রায় ৪৩ হাজার ৪৪০ জন অসুস্থ বা চিকিৎসাপ্রার্থী হজযাত্রীকে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা ও ওষুধ সরবরাহ করেছে। এর পাশাপাশি হাজীদের পথনির্দেশ ও বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে নিয়োজিত তথ্যপ্রযুক্তি সহায়তা কেন্দ্র বা আইটি হেল্পডেস্ক থেকে এখন পর্যন্ত ২০ হাজার ২৮৮ জন পুণ্যার্থীকে জরুরি সেবা দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের হজযাত্রীদের এই পবিত্র যাত্রার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছিল গত ১৭ এপ্রিল। ওই দিন দিবাগত রাত ১১টা ৫৭ মিনিটে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৪১৮ জন প্রথম দফার যাত্রী নিয়ে বিমানের উদ্বোধনী ফ্লাইটটি জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে ডানা মেলেছিল। মুসলিম উম্মাহর এই মহাসমাবেশ তথা হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা আগামী ২৬ মে অনুষ্ঠিত হবে। হজের যাবতীয় ধর্মীয় নিয়মকানুন ও রীতিনীতি সম্পন্ন করার পর আগামী ৩০ মে থেকে জেদ্দা বিমানবন্দর থেকে পুণ্যার্থীদের নিয়ে দেশের উদ্দেশে ফিরতি হজ ফ্লাইট চলাচল শুরু হবে। বাংলাদেশ হজ অফিসের পরিকল্পনা অনুযায়ী, হাজীদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার এই ফিরতি ফ্লাইট কার্যক্রম আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে অব্যাহত থাকবে। সব মিলিয়ে, তীব্র গরম আর ভিড়ের মাঝেও আল্লাহর মেহমানদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে ও হজের সার্বিক ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠু রাখতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ মাঠে তৎপর রয়েছে।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল