দিকপাল

কলম্বিয়ায় যাত্রীবাহী বাসে ভয়াবহ বোমা হামলা, প্রাণ হারালেন অন্তত ১৪


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬ | ০৩:০৩ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

কলম্বিয়ায় যাত্রীবাহী বাসে ভয়াবহ বোমা হামলা, প্রাণ হারালেন অন্তত ১৪

কলম্বিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় কাউকা অঞ্চলে এক ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শনিবার প্যান-আমেরিকান মহাসড়কের ওপর এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে, যাতে আরও অন্তত ৩৮ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এই মর্মান্তিক তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

কাউকা অঞ্চলের গভর্নর অক্টাভিও গুজমান জানান, কাজিবিও মিউনিসিপ্যালিটির এল টুনেল এলাকায় মহাসড়কের ওপর এই শক্তিশালী বিস্ফোরণটি ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি নিশ্চিত করেন যে, হতাহতদের মধ্যে পাঁচজন অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুও রয়েছে। গভর্নর এই নজিরবিহীন সহিংসতাকে ‘বেসামরিক মানুষের ওপর নির্বিচার বর্বরতা’ হিসেবে অভিহিত করে তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেন। শোকাতুর কণ্ঠে তিনি বলেন, এই ভয়াবহতা বর্ণনা করার মতো ভাষা তার জানা নেই। একই সঙ্গে সন্ত্রাসবাদ দমনে কেন্দ্রীয় সরকারকে আরও কঠোর ও ধারাবাহিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া বিভিন্ন ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে, বিস্ফোরণের তীব্রতায় মহাসড়কের ওপর যানবাহনগুলো দুমড়েমুচড়ে ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়ে আছে এবং চারদিকে ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে রয়েছে। গভর্নর গুজমান আরও জানান, কেবল কাউকা নয়, বরং এল তাম্বো, কালোতো ও পোপায়ানসহ পার্শ্ববর্তী আরও বেশ কয়েকটি এলাকায় একই সময়ে সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে।

কলম্বিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার জেনারেল হুগো লোপেজ এই ঘটনাকে একটি সুপরিকল্পিত ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে তিনি এই হামলার জন্য ‘ইভান মোরদিস্কো’র নেটওয়ার্ক এবং স্থানীয় বিদ্রোহী গোষ্ঠী ‘জাইমে মার্টিনেজ’-কে সরাসরি দায়ী করেছেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো এই হামলার ঘটনায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে হামলাকারীদের ‘সন্ত্রাসী, ফ্যাসিস্ট এবং মাদক পাচারকারী’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এদিকে ভায়ে দেল কাউকা অঞ্চলের গভর্নর ফ্রান্সিসকা তোরো উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জরুরি সহায়তা চেয়েছেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর সংখ্যা বৃদ্ধি, গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার এবং অপরাধীদের দমনে আপসহীন পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। মূলত বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর আধিপত্য বিস্তার এবং মাদক পাচারের রুট নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করেই এই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি চরম অবনতির দিকে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: আল জাজিরা ও রয়টার্স।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

রোববার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬


কলম্বিয়ায় যাত্রীবাহী বাসে ভয়াবহ বোমা হামলা, প্রাণ হারালেন অন্তত ১৪

প্রকাশের তারিখ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

কলম্বিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় কাউকা অঞ্চলে এক ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শনিবার প্যান-আমেরিকান মহাসড়কের ওপর এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে, যাতে আরও অন্তত ৩৮ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এই মর্মান্তিক তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

কাউকা অঞ্চলের গভর্নর অক্টাভিও গুজমান জানান, কাজিবিও মিউনিসিপ্যালিটির এল টুনেল এলাকায় মহাসড়কের ওপর এই শক্তিশালী বিস্ফোরণটি ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি নিশ্চিত করেন যে, হতাহতদের মধ্যে পাঁচজন অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুও রয়েছে। গভর্নর এই নজিরবিহীন সহিংসতাকে ‘বেসামরিক মানুষের ওপর নির্বিচার বর্বরতা’ হিসেবে অভিহিত করে তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেন। শোকাতুর কণ্ঠে তিনি বলেন, এই ভয়াবহতা বর্ণনা করার মতো ভাষা তার জানা নেই। একই সঙ্গে সন্ত্রাসবাদ দমনে কেন্দ্রীয় সরকারকে আরও কঠোর ও ধারাবাহিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া বিভিন্ন ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে, বিস্ফোরণের তীব্রতায় মহাসড়কের ওপর যানবাহনগুলো দুমড়েমুচড়ে ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়ে আছে এবং চারদিকে ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে রয়েছে। গভর্নর গুজমান আরও জানান, কেবল কাউকা নয়, বরং এল তাম্বো, কালোতো ও পোপায়ানসহ পার্শ্ববর্তী আরও বেশ কয়েকটি এলাকায় একই সময়ে সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে।

কলম্বিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার জেনারেল হুগো লোপেজ এই ঘটনাকে একটি সুপরিকল্পিত ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে তিনি এই হামলার জন্য ‘ইভান মোরদিস্কো’র নেটওয়ার্ক এবং স্থানীয় বিদ্রোহী গোষ্ঠী ‘জাইমে মার্টিনেজ’-কে সরাসরি দায়ী করেছেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো এই হামলার ঘটনায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে হামলাকারীদের ‘সন্ত্রাসী, ফ্যাসিস্ট এবং মাদক পাচারকারী’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এদিকে ভায়ে দেল কাউকা অঞ্চলের গভর্নর ফ্রান্সিসকা তোরো উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জরুরি সহায়তা চেয়েছেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর সংখ্যা বৃদ্ধি, গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার এবং অপরাধীদের দমনে আপসহীন পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। মূলত বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর আধিপত্য বিস্তার এবং মাদক পাচারের রুট নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করেই এই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি চরম অবনতির দিকে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: আল জাজিরা ও রয়টার্স।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল